fbpx
+8801676386302 info@backenddigital.com
ইউটিউব মার্কেটিং বা ভিডিও মার্কেটিং কিভাবে করবো?

ইউটিউব মার্কেটিং বা ভিডিও মার্কেটিং কিভাবে করবো?

ইউটিউব কে ব্যবহার করে কোন পন্য, সেবা বা বিজনেসের ব্র্যান্ডইং করাই হলো ইউটিউব মার্কেটিং। তবে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে, তার এড থেকে প্রাপ্ত আয়কেও অনেকে ইউটিউব মার্কেটিং হিসেবে বিবেচনা করে। অবশ্য আমরা আজকে দুটো বিষয়ই আলোচনা করবো। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কথা বললে ফেসবুকের পরই ইউটিউব মার্কেটিং স্থান পায়।

ইউটিউব সম্পর্কে জেনে নিন কিছু তথ্য-

  • বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট হলো ইউটিউব।
  • ১৯০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারীর পদচারণা থাকে ইউটিউবে।
  • জানলে অবাক হবেন, প্রতিদিন এক বিলিয়ন (১০০ কোটি ) ঘন্টা ভিডিও দেখা হয় ইউটিউবে।
  • ইউটিউব (গুগলের মালিকানাধীন) গুগলের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন ।

ইউটিউব থেকে আয়ের উৎস কি?

  • নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রয় করাঃ আপনার কোম্পানির প্রডাক্ট বা সার্ভিসের প্রমোশন করতে পারেন তারপর ওয়েবসাইটে অর্ডার নিতে পারেন।
  • ইউটিউব ভিডিওতে এড দিয়ে আয় করাঃ গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে আপনার চ্যানেলটি রেজিস্টার করতে হবে। ইউটিওব বিজ্ঞাপনের আয়ের সর্বোচ্চ ৬৮% অর্থ আপনি পেতে পারেন। (শর্ত প্রযোজ্য) ?  
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করাঃ অন্য কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রয় করে তা হতে কমিশন অর্জন করাকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর আয় বলা হয়।

ইউটিউব থেকে আয়ের জন্য কি করতে হবে?

প্রথমেই Google AdSense এ আবেদন করতে হবে অ্যাডসেন্সের জন্য। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিতে হবে। ২০১৮ সালের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটি ইউটিউব চ্যানেলকে কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। যেমন –

  • ১ বছরের মধ্যে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ ভিউ অবশ্যই হতে হবে।
  • আপনি যে জি-মেইল দিয়ে অ্যাডসেন্স এ এপ্লাই করবেন সেই জি-মেইলে আপনার বয়স নুন্যতম ১৮ হতে হবে।
  • প্রত্যেকটি চ্যানেলের একটি চ্যানেল আইকন থাকতে হবে।  
  • যদি আপনার করা ভিডিওগুলি বানিজ্যিক ভাবে সফল হয় তাহলে অবশ্যই YouTube নিজে থেকেই পার্টনার করে নেয়।

ইউটিউবের ইউজার কারা?

  1. ভিজিটর (শুধুমাত্র ভিডিও দেখে থাকে)
  2. ইউটিউবার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর (যারা ভিডিও তৈরি করে আপলোড করে)
  3. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি (যারা ইউটিউবে পন্য বা সেবার জন্য পেইড প্রমোশন করে থাকে) 

ইউটিউব মার্কেটিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • আর্টিকেল পড়ার চেয়ে ভিডিও দেখতে এখন গ্রাহকরা আগ্রহী। অনেক বিষয় আছে যেগুলো আর্টিকেলে বুঝানো সম্ভব হয় না, সেগুলো সহজেই ভিডিওর মাধ্যমে বুঝানো যায়।
  • আর্টিকেল শুধু যারা পড়তে পারে তাদের জন্য কিন্ত ভিডিও নিরক্ষর মানুষ বা বাচ্চারাও দেখতে পারে।
  • ছবি তুলে একটা পন্যকে যতটা আকর্ষণীয় করা যার ভিডিও করে তার চেয়ে ভালভাবে, বিভিন্ন আঙ্গিকে পন্যকে উপস্থাপন করা যায়।
  • ভিডিও মার্কেটিং বা ইউটিউব মার্কেটিং মোটেও ব্যয়বহুল না, ফলে সব ধরণের মানুষই ভিডিও মার্কেটিং ব্যবহার করতে পারে।
  • যেহেতু গুগলের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন হলো ইউটিউব, ফলে তা সব রকমের কাস্টমারের জন্য একটি উপযোগী মার্কেটপ্লেস।

ইউটিউব মার্কেটিং করতে হলে কি প্রয়োজন?

  • নিজের ব্র্যান্ড বা ব্যবসায়ের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা
  • গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করে আপলোড করা
  • ইউটিউব এর এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) করা
  • ইউটিউব চ্যানেলকে মার্কেটিং করা ও সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো
  • ইউটিউব এর পলিসি ও এলগোরিদম জানা

কোন ধরণের ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করতে হবে?

  • ভিডিও টির মালিক আপনাকে হতে হবে। আপনার পূর্বে কেউ উক্ত ভিডিওটি আপলোড করে থাকলে তার কপিরাইট আপনার নয়। সুতরাং ইউনিক ভিডিও আপলোড করতে হবে। এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অন্য কারো হলে সেটাও কপিরাইট বহির্ভূত হবে।
  • যেকোনো বয়সের মানুষ যেন ভিডিওটি দেখতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। 
  • ভাল কোয়ালিটি ও রেজুলেশনের ভিডিও হতে হবে। ক্যামেরা আবশ্যক নয়, মোবাইল ফোনেও ভাল ভিডিও ধারণ করা যায়।     
  • ভিডিওর টাইটেল খুব আকর্ষণীয় হতে হবে, দেখা যায় ভিডিওর কন্টেন্ট আহামরি ভালো না হলেও শুধু টাইটেলের জন্য প্রচুর ভিউ হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে টাইটেল যেন কন্টেন্টের সাথে অসামাঞ্জস্য না হয়। অসামানঞ্জস্য টাইটেলে রিপোর্ট পড়লে ইউটিউব ভিডিও ডিলেট করে দিতে পারে।
  • শর্ট লেন্থের ভিডিও বেশ কার্যকর। ৩-৭ মিনিটের ভিডিওর ভিউ প্রচুর হয়। সাধারণত লেন্থ বেশী হলে ইউজারের বিরক্তি চলে আসে ফলে সে চলে যায় এবং তা চ্যানেল এর জন্য মোটেও ভাল নয়। 
  • অবশ্যই ভিডিওতে আপনার চ্যনেলের লোগো ব্যবহার করেন ও টেক্সট ব্যবহার করবেন যেখানে প্রয়োজনীয়। মনে রাখবেন, ক্লিন ভিডিও (লগো না টেক্সট না থাকলে) সহজেই কেউ কপি করে তার চ্যানেলে আপলোড দিতে পারে।  
  • খুব আকর্ষণীয় একটি থাম্পনেইল ব্যবহার করুন, আকর্ষণীয় থাম্পনেইল প্রচুর ভিজিটরকে আকৃষ্ট করে।  

সফল হতে হলে ইউটিউবের এসইও করতে হবে

ইউটিউব চ্যানেল বানানোই শেষ নয়। যদি প্রচুর সাবস্কাইবার ও ভিওয়ার পেতে হয় তবে অবশ্যই চ্যানেলটির সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) করতে হবে। ইউটিউবের এসইও করার পক্রিয়া হলো –

  • চ্যানেলের আকর্ষণীয় নাম, লগো ও ডিসক্রিপশন নির্বাচন করতে হবে।  
  • চ্যানেলের শর্ট ও প্রাসঙ্গিক URL দিতে হবে। মনে রাখতে হবে অন্তন ১০০ জন সাবস্ক্রাইবার ও চ্যানেলের বয়স ৩০ দিন না হলে URL চেঞ্জ করা যায় না।
  • চ্যানেলের কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। সাধারণত যে সব কি-ওয়ার্ড দ্বারা আপনার চ্যানেলকে সার্চ করা হয়। সেক্ষত্রে ইউটিউবের সাজেস্টেড কি-ওয়ার্ডগুলো বেছে নিতে পারেন। কি-ওয়ার্ডগুলো অবশ্যই ট্যাগে ব্যবহার করতে হবে।
ইউটিউব কি ওয়ার্ড রিসার্চ সাজেশন
  • ভিডিও হতে হবে প্রাসঙ্গিক ও গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারে এমন।
  • নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে ও গ্রাহকদের চাহিদা বুঝতে হবে।  
  • বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন ইত্যাদি) সাইটে আপনার চ্যানেল বা ভিডিওর মার্কেটিং করতে হবে। Quora এবং Ask Yahoo এই দুটি সাইটেও প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ভিডিওর মার্কেটিং করতে পারেন। তাছাড়াও পার্সোনাল ব্লগ বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিডিও পাবলিশ করে ভিওয়ার বাড়াতে পারেন।

তথসুত্রঃ জানতে ক্লিক করুন

পরিশেষে বলি

একজন আদর্শ ইউটিউব মার্কেটার হতে হলে অবশ্যই কোয়ালিটি এনশিওর করা উচিত। আমদের দেশে বেশিরভাগ ইউটিউবারই সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন স্পেমিং বা অহেতুক ভিডিও পাবলিশ করে। যদি উপরোক্ত গাইডলাইন মেনে চলতে পারেন, আশা করি আপনি খুব ভালো ইউটিউব বা ভিডিও মার্কেটারে পরিণত হবেন।

আরও পড়ুন ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুকের এলগোরিদম মেনে ফেসবুক মার্কেটিং করার পদ্ধতি

ফেসবুকের এলগোরিদম মেনে ফেসবুক মার্কেটিং করার পদ্ধতি

যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করার আগে আপানকে জানতে হবে সেই সোশ্যাল মিডিয়ার এলগোরিদম (বিধিবিধান) কি। ঠিক তেমনি ফেসবুক মার্কেটিং করার আগে আপনাকে খুব ভালভাবে জানতে হবে ফেসবুকের এলগোরিদম সম্পর্কে। ডিজিটাল মার্কেটিং জানতে হলে ফেসবুক মার্কেটিং জানা আবশ্যক।

অর্থাৎ আপনাকে জানতে হবে-

  • বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট যেমন ফেসবুক লাইভ, ভিডিও, ইমেজ, টেক্সট বেশি রিচ হয়।
  • লাইক-কমেন্ট-শেয়ার-ম্যাসেজ-কল টু একশন কোনটি আপনার পোস্টের জন্য বেশি প্রয়োজন। 
  • কোন ধরণের এড পাবলিশ করা ফেসবুক থেকে নিষিদ্ধ।
  • ফেসবুক আইডি এবং ফেসবুক পেজ এর মধ্যে কোনটার পোস্ট বেশি রিচ হয়।

অর্থাৎ আপনি যদি ফেসবুকের এলগোরিদম মেনে মার্কেটিং করতে পারেন তবে ভাল রিচ পাবেন ও আপনার সেলস বাড়বে।

                                                        ফেসবুক মার্কেটিং

নিউজ ফিড অ্যালগরিদম

ফেসবুকে কার নিউজফিডে কোন পোস্ট প্রদর্শিত হবে এটা একটা অ্যালগারিদম মেইনটেইন করে চলে, যেটাকে EDGE Rank বলে। আর এ অ্যালগারিদমের কারনেই সবার সব পোস্ট দেখা যায় না। আপনি হয়তো অসংখ্য পেজে লাইক দিয়েছেন বা গ্রুপে এড হয়েছেন বা আপনার লিস্টে অনেক ফ্রেন্ড আছে কিন্ত সবার সব পোস্ট আপনি দেখেন না বা অন্যরাও আপনার সব পোস্ট দেখে না।

ফেসবুকের বেশ পুরানো তিনটা এলগোরিদম হল Affinity, Weight এবং Time decay চলুন এই তিনটা এলগোরিদম সম্পর্কে জেনে নিই। 

Affinity (সম্পর্ক):

Affinity হচ্ছে আপনার ফেসবুক পোস্টের সাথে ব্যবহারকারীর রিয়েকশন। আপনার পোস্টে তারা কি পরিমাণ লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করে। যিনি আপনার পোস্টে বারবার লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করবে তার নিউজফিডে আপানার পোস্তগুলো বারবার প্রদর্শিত হবে। অপরদিকে যিনি আপনার পোস্টে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করবে না তার নিউজফিডে আপনার পোস্ট আসার সম্ভবনা কমে যাবে, যদিও তিনি আপনার পেজকে লাইক দিয়ে রেখেছেন। সেজন্য যারা “See First” করে রাখবে পেজে তারা নিয়মিত সবগুলো পোস্ট পাবেন।

Weight / Type of Content (কন্টেনের ধরণ): 

Weight হলো আপনি কি ধরণের পোস্ট ফেসবুকে করছেন, হতে পারে সেটি ইমেজ, টেক্সট, ভিডিও। সেক্ষেত্রে  ফেসবুকের নিউজফিডে ক্রমান্বয়ে বেশি প্রদর্শিত হয় যথাক্রমে-  

– ফেসবুক লাইভ

– ভিডিও

– ইমেজ

– টেক্সট

এখানে উল্লেখ্য, ফেসবুকে আপলোড করা ইমেজ, টেক্সট, ভিডিও ছাড়া যদি অন্য কোন ওয়েবসাইটের যদি লিংক শেয়ার করা হয় (যেমন ইউটিউব ভিডিও লিংক) তবে রিচ কম হবে।   

এবার আসি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, ক্লিক কোনটির (Weight) কেমন। যথক্রমে বেশি থেকে কম

– শেয়ার

– কমেন্ট

– লাইক

– ক্লিক

অর্থাৎ যিনি আপনার পোস্ট শেয়ার করবেন তার নিউজফিডে আপনার পরবর্তী পোস্টগুলো প্রদর্শিত হওয়ার চান্স সবচেয়ে বেশি। তারপর যথক্রমে কমেন্ট, লাইক ও ক্লিক (যেমন ছবিতে ক্লিক করা)।

Time Decay (সময়ের অবস্থান): 

Time Decay হচ্ছে আপনার পোস্টটি কতক্ষণ একটি নিউজফিডে প্রদর্শিত হবে এবং আপনি পেজে লাস্ট পোস্টটি কখন করেছিলেন। অর্থাৎ পোস্ট যত পুরানো হবে তত কম ব্যবহারকারীদের নিউজফিডে প্রদর্শিত হবে।

এবার আসুন জেনে নিই কিভাবে ফেসবুকের এলগোরিদম মেনে পোস্ট করলে বেশি রিচ পাওয়া যাবে।

১। ট্রেন্ডিং বা চলমান টপিকগুলোর পোস্ট করুন

ট্রেন্ডিং বা চলমান টপিকগুলোর পোস্ট বেশি রিচ হয়। সেক্ষেত্রে হ্যাশট্যাগ একটি কার্যকর ইন্ডিকেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২। সেই সময়ে পোস্ট করুন যখন আপনার ব্যবহারকারীরা অনলাইনে বেশি একটিভ

যেমন ধরুন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি ফেসবুকে একটিভ থাকে তাই তখন পোস্ট করলে পোস্টের রিচ বেড়ে যাবে। কিন্তু আপনার পোস্টটি যদি B2B (বিজনেস টু বিজনেস) হয় তাহলে সকার ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টার মধ্যে পোস্ট করা ভালো। কারন এই সময়ে সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খোলা থাকে। তবে বন্ধের দিন এড রান না করাই ভাল।

৩। এমন কন্টেন্ট কখনও পোস্ট করবেন না যা আপনাকে নিচে নামবে

  • · পোস্টের টাইটেলের সাথে পোস্টের লিংকের কোন মিল নেই, এমন পোস্ট ফেসবুকের রিচ কমিয়ে দেয়।
  • · বর্ডারলাইন কন্টেন্ট ( যেসব কন্টেন্ট আক্রমনাত্বক যদিও ফেসবুকে নিষিদ্ধ নয়) রিচ কমিয়ে দিবে।
  • · ভুল তথ্য এবং ভুয়া নিউজ রিচ কমিয়ে দিবে।

৪। হাই কোয়ালিটি ভিডিও এবং ৩ মিনিটের বেশি ভিডিও পোস্ট করুন

  • ব্যবহারকারীরা সার্চ করে এমন ভিডিও পোস্ট করুন।
  • ভিডিও যেন অন্তত ৩ মিনিট হয়ে খেয়াল রাখুন।
  • অন্য কারো পোস্ট করা ভিডিও পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন তবে রিচ বেশি হবে 

৫। ধারাবাহিকভাবে নিয়মিত পোস্ট করুন

অনেকেই দেখা যায় ফেসবুক পেজে কখনো খুব বেশি পোস্ট করেন আবার কিছুদিন ইনেকটিভ হয়ে যান। সেক্ষত্রে আপনাকে নিয়মিত ও ধারাহাবিকভাবে পোস্ট করতে হবে। খুব বেশি বেশি পোস্ট করতে হবে ব্যপারটা এমন নয় তবে পোস্টের দীর্ঘবিরতি দেয়া উচিত নয়।

৬। প্রাসঙ্গিক গ্রুপে একটিভ থাকুন  

  • ফেসবুকের গ্রুপের রিচ অনেক বেশি হয়, সেক্ষত্রে প্রাসঙ্গিক গ্রুপে পোস্ট করা ও গ্রাহকদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেয়া যায়।

৭। অডিয়েন্সের পছন্দ অনুযায়ী পোস্ট করুন

  • সেই বিষয়গুলোতে পোস্ট করুন যা অডিয়েন্স সাবলীলভাবে লাইক-কমেন্ট-শেয়ার করে থাকে। গ্রাহকদের সাবলীল অংশগ্রহণ আপনার রিচ বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে।

৮। সেই পোস্টটি বুস্ট করুন যার অরগানিক রিচ বেশি

  • অরগানিক রিচ বলা হয় টাকা খরচ ছাড়া যে রিচ পাওয়া যায়। তাই আগে পোস্ট করে দেখুন ব্যবহারকারীদের থেকে কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন। যদি রেসপন্স ভালো হয় তবেই পোস্টটি বুস্ট করুন নয়তো ভালো রিচ পাবেন না।
তথ্যসূত্রঃ জানতে ক্লিক করুন- ফেসবুক এলগোরিদম ২০২০ 

পরিশেষে বলি

ফেসবুক এড ও মার্কেটিং একটি বিশাল আলোচনার বিষয়, অল্প পরিসরে সবকিছু উল্লেখ করা সম্ভব নয়। আপনারা মূল্যবান মতামত বা প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট বক্সে প্রদান করুন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি ও কোন সাইটে মার্কেটিং বেশি কার্যকর?

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি ও কোন সাইটে মার্কেটিং বেশি কার্যকর?


Facebook, Twitter, YouTube, LinkedIn, Instagram, Pinterest ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে যে মার্কেটিং করা হয় তাকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে। 

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া হ’ল আমাদের প্রতিদিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এমন অবিশ্বাস্য সুবিধা দেয় যা সারা বিশ্ব জুড়ে কয়েক বিলিয়ন মানুষের কাছে Ad (বিজ্ঞাপন) পৌঁছাতে সহায়তা করে। যারা মার্কেটিং এর এই লাভজনক উত্সটি প্রয়োগ করছেন না, তারা অবশ্যই একটি আকর্ষণীয় মার্কেটিং এর সুযোগ মিস করছেন। কম খরচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে গ্রাহকদের পণ্য এবং সেবা ছড়িয়ে দেওয়া এখন খুব সহজ বিষয়।  

স্টার্টআপস এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের বিশাল সুবিধা রয়েছে। সঠিক গ্রাহকদের টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়া যথাযথভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি বিক্রয়, ব্র্যান্ডের আনুগত্য, ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক (ভিজিটর), এসইও ইত্যাদির সুবিধা পাওয়া যাবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে তাই আপনার প্রতিযোগীদের সাথে পাল্লা দিয়ে মার্কেটিং করতে চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কোন বিকল্প নেই।

আপনার ব্র্যান্ড তৈরি করতে, বিক্রয় বাড়াতে এবং ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক (ভিজিটর) আনতে এবং আপনার কাস্টমারের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অত্যাবশ্যক। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  1. Facebook Marketing
  2. YouTube Marketing
  3. LinkedIn Marketing
  4. Instagram Marketing
  5. Twitter Marketing

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিতি  

Facebook

ফেসবুকের রয়েছে ২৩০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।

ফেসবুক বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া সাইট, প্রতি মাসে দুই বিলিয়নেরও বেশি লোক এটি ব্যবহার করে। যা বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ!

বিশ্বের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান Facebook Page ব্যবহার করে এবং যার মধ্যে ৬০ লক্ষ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন (Facebook Boosting) প্রদান করে। তাই মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম।
আরও পড়ুন ফেসবুক এড ও মার্কেটিং বিষয়ক ১০টি প্রশ্নের উত্তর

YouTube

ইউটিউবের রয়েছে ১৯০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।

ইউটিউব সর্বাধিক জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন এক বিলিয়ন ঘন্টা ভিডিও দেখে। ইউটিউব মার্কেটিং শুরু করতে চাইলে আপনি নিজের ব্র্যান্ড বা ব্যবসায়ের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন যেখানে আপনি আপনার গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও আপলোড করতে পারেন। ইউটিউব (গুগলের মালিকানাধীন) গুগলের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন হিসাবেও পরিচিত।

Messenger

ম্যাসেঞ্জারের রয়েছে রয়েছে ১৩০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।

ফেসবুকের মালিকানাধীন একটি এপস হলো মেসেঞ্জার। ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পন্য বা সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়। ম্যাসেঞ্জারের নতুন একটি ফিচার হলে চ্যাটবট (Chatbot). চ্যাটবটের মাধ্যমে কোন ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই ম্যাসেজের রিপ্লাই দেয়া যায়। ফলে অফিস বন্ধ থাকুক বা কেউ রিপ্লাই না দিক, চ্যাটবট সেট করা প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করে থাকে।

Twitter

টুইটারের রয়েছে রয়েছে ৩৫ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।   টুইটার এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহারকারীদের ট্রেন্ডিং বিষয়ের (সমসাময়িক) প্রাসঙ্গিক কথোপকথন হয়ে  থাকে।  ছোট ছোট স্ট্যাটাস (টুইট) এবং মেনশন করে পারস্পরিক যোগাযোগ সম্পন্ন হয়ে থাকে।  সাধারণত ছোটটুইটার ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৬ কোটি টুইট বার্তা পাঠান।

Instagram

ইনস্টাগ্রামের রয়েছে রয়েছে ১০০ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।   
ইনস্টাগ্রাম একটি সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে আপনি ফটো এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারেন। মূলত টিন-এজাররা (১৩-১৯ বছর বয়সী) ইনস্টাগ্রাম এপটি বেশি ব্যবহার করে থাকে। যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখানে ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন প্রচারের মাত্রা খুব বেশি নয়। তবে দিন দিন ইনস্টাগ্রাম ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

LinkedIn

লিঙ্কডইন এর রয়েছে রয়েছে ৬১ কোটি একটিভ ব্যবহারকারী।    

লিঙ্কডইন পেশাদারদের (Professional) জন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এবং একটি B2B (Business to Business) অডিয়েন্সদের মাঝে খুব জনপ্রিয়। প্ল্যাটফর্মটি কয়েক বছর ধরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে ৬১০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। লিঙ্কডইনে ব্যবহারকারীরা পোর্টফোলিওগুলি প্রদর্শন করতে পারেন এবং জব পোস্ট করতে পারেন এবং জবের জন্য আবেদন করতে পারেন। লিঙ্কডইন আপনার দক্ষতা (Skills) শেয়ার করার জন্য একটি দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম।

পরিশেষে বলি

সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং একটি বিশাল অধ্যায়, পুরোপুরি জানার জন্য আপনারা ইউটিউব টিউটোরিয়াল ও ভাল কিছু কোর্স করতে পারেন। আমাদের অন্যান্য পোস্টগুলোতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্লাটফর্মের উপর বিস্তারিত আলোচনা আছে। আপনাদের যেকোন প্রশ্ন বা মন্তব্য আমাদের কমেন্ট বক্সে করতে পারুন নিঃসংকোচে।