+8801676386302 [email protected]
ব্র্যান্ড অথোরিটি নামে এসইওতে নতুন মেট্রিক চালু করলো MOZ

ব্র্যান্ড অথোরিটি নামে এসইওতে নতুন মেট্রিক চালু করলো MOZ

৭ আগস্ট ২০২৩ এসইওতে নতুন মেট্রিক চালু করলো MOZ। যদিও এটা শুধুমাত্র বেটা ভার্সনে আছে মানে ফুল রিলিজ হয়নি। এটা এখন শুধুমাত্র USA এর জান্য রিলিজ করেছে। 

আমরা আগেই জানি ডোমেইন অথোরিটি, পেজ অথোরিটি ও স্প্যাম স্কোর নামে MOZ এর বেশ কিছু মেট্রিকস ছিল। এর সাথে তারা এখন এই নতুন মেট্রিকটি যুক্ত করেছে। এসইও নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকেরই এখন এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে ব্র্যান্ড অথোরিটি আসলে কি? এটা কিভাবে কাজ করে? এটা কি গুগলের কোন র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর? কিভাবে আমাদের ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ড অথোরিটি বৃদ্ধি করতে পারি? এই সব প্রশ্নের উত্তর থাকবে আজকের ব্লগে।  

ব্র্যান্ড অথোরিটি™ হল একটি MOZ-এক্সক্লুসিভ মেট্রিক যা 1 থেকে 100 স্কেলে ব্র্যান্ডকে পরিমাপ করে।

এখন কথা হচ্ছে, এসইও এর সাথে  ব্র‍্যান্ড অথোরিটির সম্পর্ক কি? 

আমরা সার্চ ইঞ্জিনে এমন অনেক কিওয়ার্ড পাই যেগুলো সম্পূর্ণভাবে একটা ব্র‍্যান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন “Pixel Phone” এটা লিখে কেউ সার্চ করলে অবশ্যই এখানে ব্র‍্যান্ড বলতে “Google” কে বুঝাবে। তেমনিভাবে “I-Phone” বা “Macbook” লিখে সার্চ করলে অবশ্যই Apple কে ব্র‍্যান্ড হিসেবে বুঝাবে। 

একটু লক্ষ্য করে দেখুন, শুধুমাত্র Google বা Apple নিজেদের স্টোরে ডিভাইসগুলো বিক্রি করেনা। অসংখ্য ই-কমার্স শপেও কিন্তু এই ডিভাইসগুলো পাওয়া যায়। যেমন, Amazon, E-bay, Walmart এ কিন্তু ডিভাইসগুলো আছে। ধরে নিলাম, Amazon, E-bay, Walmart সর্বোচ্চ ভালোভাবে এসইও করেছে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে Pixel Phone লিখে সার্চ করলে কে র‍্যাংক করবে? ই-কমার্স স্টোরগুলো নাকি Google? Macbook লিখে সার্চ করলে কে র‍্যাংক করবে? ই-কমার্স স্টোরগুলো নাকি Apple? 

আপনি অবশ্যই উত্তর পেয়ে গেছেন, Pixel Phone লিখে সার্চ করলে অবশ্যই Google কে পাবেন কিংবা Macbook লিখে সার্চ করলে Apple এর ওয়েবসাইটই আগে পাবেন। এর কারণও পরিস্কার কারণ এগুলো তাদের ব্র‍্যান্ডের প্রোডাক্ট।  

তাহলে, একথা পরিস্কার যে, সার্চ ইঞ্জিনগুলো র‍্যাংকিং দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যে ব্র‍্যান্ডের প্রোডাক্ট এই ব্র‍্যান্ডের ওয়েবসাইটকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। এখানে কে ভালো এসইও করলো সেটা মূখ্য বিষয় নয়। 

Brand Authority

MOZ কিভাবে ব্র্যান্ড অথোরিটি ক্যালকুলেট করে ?

ব্র্যান্ড অথোরিটি ক্যালকুলেট করতে MOZ দুটো বিষয়ে দেখে থাকে এক নাম্বার হচ্ছে কিওয়ার্ড ইনটেন্ট অপরটি হচ্ছে  কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম। এখন আমরা যদি চিন্তা করি একটি ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অথোরিটি কত হবে তবে আমাদের দেখতে হবে সেই ব্রান্ডটিকে ইউজাররা কোন ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছে।  যেমন, যদি ঐ ওয়েবসাইটকে তার ব্র্যান্ডেড কিওয়ার্ড দিয়ে বেশি বেশি সার্চ করা হয় এবং তার ব্র্যান্ডেড কিওয়ার্ডগুলোর সার্চ ভলিউম যদি বেশি হয় তবে সেই ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি Samsung এর বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিংবা বিভিন্ন সার্ভিস কিংবা বিভিন্ন প্রোডাক্টের মডেল নাম্বার দিয়ে সার্চ করে থাকে এর মানে  ঐ ব্যক্তি স্যামসাংয়ের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে চাচ্ছেন। এখন এই কিওয়ার্ডগুলোর ইন্টেন্ট যদি হয় Samsung এর ওয়েবসাইট কে খুঁজে পাওয়া এবং সেই কিওয়ার্ড গুলোর সার্চ ভলিউম যদি বেশি হয় তবে অবশ্যই Samsung এর ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে।     

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন আপনি হয়তো আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ভিজিটর পাচ্ছেন কিন্তু সেই ভিজিটরগুলো যদি আপনার ব্র্যান্ড কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে না আসে তবে আপনার ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে না।  অর্থাৎ আমরা বুঝতে পারলাম, যে কিওয়ার্ডগুলো দ্বারা ভিজিটররা শুধুমাত্র কিছু ইনফরমেশন জেনে যাচ্ছে কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটকে ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছে না তবে আপনার ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে না।  

ডোমেইন অথোরিটির মতো ব্র্যান্ড অথোরিটিও MOZ এক থেকে একশোর মধ্যে ক্যালকুলেট করে থাকে। যে ওয়েবসাইটটিকে ইউজাররা বেশি বেশি ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে এবং তাদের সার্চ ভলিউম যদি বেশি হয় তবে কেউ ওয়েবসাইটটির অথোরিটি অবশ্যই বাড়বে।   

ব্র্যান্ড অথোরিটি কিভাবে চেক করব? 

আমরা আগেই বলেছি,  MOZ এখনো ব্র্যান্ড অথোরিটিকে বেটা ভার্সনে রেখেছে এবং এটি শুধুমাত্র USA এর পার্সপেক্টিভে তৈরি করা।  ব্র্যান্ড অথোরিটি চেক করার জন্য আমাদের MOZ প্রো ইউজ করতে হবে,  MOZ ফ্রি ভার্সনে ব্র্যান্ড অথোরিটি চেক করা যাবে না। 

ব্র্যান্ড অথোরিটি কিভাবে বাড়ানো যায়? 

বলে রাখা ভালো ব্র্যান্ড অথোরিটি একদিনে বাড়ানো সম্ভব নয়।  আপনি যত বেশি Digital PR (Digital Public Relations) করবেন ততই আপনার ব্র্যান্ডের কিওয়ার্ডগুলো বাড়বে।  যেমন আপনার কোম্পানির নতুন একটি প্রোডাক্ট যখন আসলো তখন সেই প্রোডাক্ট নিয়ে অবশ্যই ইউজার গুগলে সার্চ করবে সেই প্রোডাক্টটি কিন্তু আপনার ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে।  যার ফলে আপনার ওয়েবসাইটে ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে। 

যারা শুধুমাত্র ব্লগিং করি তারা কিভাবে ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়াতে পারি?

যারা শুধুমাত্র ব্লগিং করে থাকি কিন্তু আমাদের নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নেই তাদের জন্য ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়ানো বেশ কঠিন। সেক্ষেত্রে আমরা অনেকেই মনে করতে পারি, হয়তো বড় বড় কোম্পানির ব্লগের সাথে একজন ফ্রিল্যান্স ব্লগারের ব্লগ হয়তো টিকতে পারবেনা।  হ্যাঁ, সেটা কিছুটা সত্যি অবশ্যই।  

তবে শুধু ব্লগিং ফোকাস সাইটগুলো কি করবে? তারা যেটা করতে পারে সেটা হচ্ছে ChatGPT এর  সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের টুল তৈরি করতে পারে। যেমন বিভিন্ন ধরনের কনভারটার টুল (Converter Tool)। আপনার সাইটে যখন এই ধরনের টুলগুলো থাকবে তখন ইউজাররা আপনার সাইটের নাম প্লাস টুলের নাম লিখে অনেক ক্ষেত্রে সার্চ করতে পারে। আপনি চাইলে আপনার ব্লগে এরকম কিছু টুল এড করতে পারেন, যেগুলো আপনার সাইটের নাম প্লাস টুলেরর নাম সহ ইউজার সার্চ করবে।   

যেমন ধরে নিলাম আপনি একটা টুল বানিয়েছেন কিলোমিটার টু মাইল কনভার্টার।  এখন ইউজাররা যদি সার্চ করে আপনার সাইটের নাম প্লাস টুলের নাম, এর মানে ইউজাররা আপনার সাইটে এসে আপনার টুলটি ইউজ করতে চাচ্ছে।  এতে করে আপনার সাইটের ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে।  

কিংবা আপনাদের মাথায় যদি এমন কিছু আইডিয়া আসে যার ফলে আপনি আপনার সাইটের নাম ইউজারকে দিয়ে সার্চ করাতে পারবেন তখন কিন্তু আপনার সাইটের ব্র্যান্ড স্কোর বেড়ে যাবে।  তাহলে সেটি কিভাবে আরো কার্যকর ভাবে করা যায় সেজন্য আমরা ব্রেনস্ট্রম করতেই পারি।   

ব্র্যান্ড অথোরিটি কি কোন র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর?  

এক কথায় উত্তর হচ্ছে না।  তাহলে ব্র্যান্ড অথোরিটি নিয়ে মাথা ঘামানোর কি আছে?  আসলে ranking সাথে ব্র্যান্ডের একটি পরোক্ষ সম্পর্ক আছে।  যেমন,  আমরা যখন লিঙ্ক বিল্ডিং করি তখন অনেক ধরনের লিংক ব্র্যান্ড কিওয়ার্ডে আমাদের সাইটে আসে।  এর মানে ঐ কিওয়ার্ডে আমাদের  সাইটের অথোরিটি নির্দেশ করে। আর ব্র্যান্ড কিওয়ার্ডের কথা আগে তো আলোচনা করলামই। 

পরিশেষে বলি, আপাতত ব্র্যান্ড স্কোর রাতারাতি কিছু চেঞ্জ করে ফেলবে না, কারণ এটা শুধুমাত্র MOZ এর মেট্রিক। যদিও এর সাথে র‍্যাংকিং এর পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো অতি দ্রুত Google ব্র্যান্ডকে র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিবে। সেক্ষেত্রে বলা যায়, নিজস্ব প্রোডাক্ট বা সার্ভিস রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোই বেশি লাভবান হবে। সেক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্স ব্লগারদের সামনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ বাড়বে।  

কমন এসইও ভুল ধারণা – টুল বনাম গুগল রিকমেন্ডশন

কমন এসইও ভুল ধারণা – টুল বনাম গুগল রিকমেন্ডশন

এসইও করতে হলে অনেক সময় আমরা  বিভিন্ন ধরনের টুলের সাহায্য নিয়ে থাকি। এসব টুল ইউজ করেই আমরা সাধারণত আমাদের এসইও-এর ডিসিশন নিয়ে থাকি। কিন্তু কথা হচ্ছে টুলের ইনসাইট/ স্কোর/ ডাটা এসব কতটুকু গ্রহণযোগ্য? টুলগুলোর উপর ভিত্তি করে আমাদের কোন ডিসিশন নেয়া কি ঠিক হবে কিনা? বা কিভাবেই আমরা টুলের ইনসাইটকে গুগলের রিকমেন্ডডেশনের সাথে কম্পেয়ার করবো? তাহলে চলুন জেনে আসি বিষয়গুলো। 

কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি বা এসইও ডিফিকাল্টি 

একটা কিওয়ার্ড কতটা কম্পিটিটিভ র‍্যাংক করানোর জন্য তাই নির্দেশ করে কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি। কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি যত কম হবে ততই সেই কিওয়ার্ড র‍্যাংক করানো ইজি হবে। এখন কথা হচ্ছে সঠিক কিওয়ার্ড খুঁজে পেতে কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টিই কি একমাত্র বিবেচ্য বিষয়? 

উত্তর হচ্ছে না। শুধুমাত্র কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি দেখেই আমরা একটা কিওয়ার্ড সিলেক্ট করতে পারি না। কারণ একেক টুল একেক ধরণের ডাটা শো করে। সব টুলের কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি স্কোর কখনোই এক হবে না। যেমন Ahrefs এ আপনি দেখতে পেলেন একটা কিওয়ার্ডের ডিফিকাল্টি ৫ কিন্তু Semrush এ সেই কিওয়ার্ডের ডিফিকাল্টি হতে পারে ২৫! অন্য কোন টুল দিয়ে চেক করলে অবশ্যই সেখানেও আপনি কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টির ভিন্নতা পাবেন। 

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে সঠিক কিওয়ার্ড কিভাবে যাচাই করা উচিত?  

  • অবশ্যই গুগলে ম্যানুয়ালি সার্চ করে দেখতে হবে। (যেই লোকেশনে র‍্যাংক করাতে চান সেই লোকেশন থেকে সার্চ করতে হবে) 
  • সার্পে (SERP) কারা র‍্যাংক করেছে ও তাদের ওয়েবসাইটের অথোরিটি, ইনডেক্স পেইজ ইত্যাদি চেক করতে হবে। 
  • সার্পে (SERP) কম্পিটিটররা সেই কিওয়ার্ডের টপিক কতটুকু কভার করছে। 
  • সার্পে কোন দুর্বল সাইট, সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট, ফোরাম বা কোন User Generated Content আছে কিনা চেক করতে হবে।  
  • সার্পে (SERP) কম্পিটিটররা কতটুকু ও কোন কোন সোর্স থেকে ব্যাকলিংক পেয়েছে।  
  • সার্পে (SERP) কম্পিটিটরদের সেই কিওয়ার্ডে টপিক্যাল অথোরিটি কতটুকু। (এটা আসলে টোটালি এক্সপেরিয়েন্সডরাই অনুমাণ করতে পারবে, এজন্য কোন টুল নেই)  

ট্রাফিক – থার্ড পার্টি টুল 

একটা সাইটের ট্রাফিক বিভিন্ন টুল দিয়ে চেক করা যায়। সেটি হতে পারে Semrush, Ahrefs, Ubersuggest, Similarweb ইত্যাদি। এক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন কোন ধরণের থার্ড পার্টি টুলই এক্সাক্ট ডাটা দিতে পারে না। আপনি যদি এক্সাক্ট ডাটা দেখতে চান তবে অবশ্যই Google Analytics চেক করতে হবে। এমনও হতে পারে একটা সাইটের ট্রাফিক ১০,০০০ কিন্তু থার্ড পার্টি টুল দেখাচ্ছে ৫,০০০! 

আমরা বিভিন্ন ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে একটা ওয়েবসাইটের ট্রাফিক চেক করে থাকি। সেটা হতে পারে ব্যাংকলিংক নেয়ার ক্ষেত্রে, অন্য ওয়েবসাইটের সাথে কোলেবরেশন করতে ইত্যাদি। 

কিন্তু আপনি যদি থার্ড পার্টি টুল ইউজ করে সিদ্ধান্ত নেন সেটা কখনোই এক্সাক্ট হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা একাধিক থার্ড পার্টি টুলের সাহায্য নিতে পারি। এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ওয়েবসাইটের ট্রাফিক সম্পর্কে আমাদের বেটার আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে।  

ব্যাকলিংক – থার্ড পার্টি টুল 

ট্রাফিকের মতই বিভিন্ন টুল দ্বারা আমরা ব্যাকলিংক চেক করে থাকি। এক্ষেত্রেও সেম কথা প্রযোজ্য কোন থার্ড পার্টি টুলই ১০০% নিখুঁত ব্যাকলিংক দেখাতে পারবে না। একটা সাইটের ব্যাকলিংক যত বেশি হবে তার ডোমেইন অথোরিটি তত বেশি হবে। ব্যাকলিংক যদি অপ্রাসঙ্গিকও হয় তবুও কিন্তু একটা সাইটের ডোমেইন অথোরিটি বাড়বে। 

ধরে নিন আপনি একটা সাইটের ব্যাকলিংক থার্ড পার্টি টুলে চেক করে দেখলেন  ব্যাকলিংক ১০০০ এবং রেফারিং ডোমেইন ১০০। কিন্তু আপনি সার্চ কনসোলে চেক করে দেখলেন ব্যাকলিংক ২০০ ও রেফারিং ডোমেইন ২৫। 

এর মানে কি? এর মানে হলো, ব্যাকলিংক যতই জেনারেট হোক না কেন গুগল কিন্তু সবগুলো কাউন্ট করেনি। গুগল যতগুলো ব্যাকলিংক কাউন্ট করেছে সেগুলাই সেই সাইটের এক্সাক্ট ব্যাকলিংক। 

স্প্যাম স্কোর 

MOZ বা Ubersuggest দ্বারা আমরা স্প্যাম স্কোর চেক করতে পারি। এই MOZ বা Ubersuggest কিন্তু থার্ড পার্টি, মানে তারা গুগল বা কোন সার্চ ইঞ্জিন নয়। আসলে এই স্প্যাম স্কোর কি নির্দেশ করে? সাধারণত একটা ওয়েবসাইট যেসব এক্সটার্নাল বা থার্ড পার্টি সাইট থেকে লিংক পেয়েছে সেই লিংকের মানগুলোই আসলে স্প্যাম স্কোর নির্দেশ করে (আসলে আরো কিছু বিষয় আছে) । যেমন একটা সাইট, ভালো ও কোয়ালিটিফুল লিংক বিল্ডিং করলে তার স্প্যাম স্কোর কম হবে। কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক ও সম্ভাব্য গুগলের পেনাল্টি খাওয়া সাইট থেকে লিংক বিল্ডিং করলে স্প্যাম স্কোর বাড়বে।  

এখানে বলে রাখা ভালো স্প্যাম স্কোর কিছুটা বাড়লেই সেই ওয়েবসাইট স্প্যামিং করছে বলে ধারণা করা ঠিক নয়। স্প্যাম স্কোর বাড়ার মানে হচ্ছে ঐ ওয়েবসাইটে স্প্যামি ব্যাকলিংক জেনারেট হচ্ছে। সেটা কম্পিটিটর ইচ্ছা করেও জেনারেট করতে পারে। 

আমরা ব্যাকলিংক নেয়ার ক্ষেত্রে দেখি ওয়েবসাইটের স্প্যাম স্কোর কত। কিংবা এক্সপায়ার্ড ডোমেইন কেনার ক্ষেত্রেও দেখি এই স্প্যাম স্কোর। কিন্তু এই স্প্যাম স্কোর গুগলের ডিকশনারিতে নেই। এরকম অনেক সাইট আছে যাদের স্প্যাম স্কোর ১০ এর বেশি কিন্তু আসলে সেই সাইটগুলো স্প্যামি নয়। গুগল ২০২২ সালে লিংক স্প্যামিং এর গাইডলাইন দিতে একটি আপডেট নিয়ে আসে। সেখানে গুগল ক্লিয়ার করছে যে কোন ধরনের সাইট থেকে লিংক নেয়া যাবে বা কোন ধরণের সাইট থেকে লিংক নেয়া যাবে না।  

এখানে তাহলে ক্লিয়ার করা উচিত স্প্যাম স্কোর দেখে কি আমদের লিংক দেয়া বা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া কি ভুল? উত্তর হচ্ছে, না পুরোপুরি ভুল না। কিন্তু এটাও বলা প্রযোজ্য যে স্প্যাম স্কোরই একমাত্র নির্দেশক নয় একটি সাইটের স্প্যামিং ক্যালকুলেট করতে। কেউ যদি এক কথায় বলে দেয় ৫% এর বেশি স্প্যাম স্কোর হলেই ঐ সাইট থেকে লিংক নেয়া যাবেনা কথাটি সব সময় সত্য নাও হতে পারে।  তাই বলা যায়, একটা সাইটের স্প্যাম স্কোর জানা আমার সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সহজ করে মাত্র। 

ডোমেইন অথোরিটি 

MOZ বা Ubersuggest দ্বারা আমরা একটা সাইটের ডোমেইন অথোরিটি চেক করতে পারি। সাধারণত একটা সাইট কতগুলো সাইট থেকে লিংক পেলো বা কত ডোমেইন অথোরিটির সাইট থেকে লিংক পেলো তার মধ্যমেই ডোমেইন অথোরিটি ক্যালকুলেট করা হয়। যদিও আরও কিছু বিষয় দেখা হয় ডোমেইন অথোরিটি ক্যালকুলেট করতে। 

স্প্যাম স্কোরের মত ডোমেইন অথোরিটি দেখেও আমরা সাধারণত লিংক বিল্ডিং করে থাকি। কিন্তু বেশি ডোমেইন অথোরিটি বলেই সেই সাইট পাওয়ারফুল সাইট কথাটি সত্য নয়। একটা ডোমেইন এক্সপায়ার্ড হলে সেই ডোমেইনের লিংকগুলো কিন্তু জীবিত থাকতে পারে। ফলে এমনও হতে পারে সদ্য তৈরি হওয়া একটা সাইটের ডোমেইন অথোরিটি ৩০/৪০/৫০ বা আরও বেশি! এর কারণ সেই সাইটটি এক্সপায়ার্ড ডোমেইন কিনে ওয়েবসাইট বিল্ড করেছে। 

এখন আপনি যদি নতুন তৈরি হওয়া সাইটের গতিবিধি না দেখেই শুধুমাত্র ডোমেইন অথোরিটি দেখেই লিংক নেন তাহলে সেটা ভালো সিদ্ধান্ত হবে না। একটা কম ডোমেইন অথোরিটির সাইট কিন্তু রিলেভেন্ট ও ট্রাফিক ভালো, আপনি সেখান থেকে ব্যাকলিংক নিতে পারেন। কিন্তু ডোমেইন অথোরিটি বেশি হলেও ইরিলেভেন্ট সাইট থেকে মোটেও ব্যাকলিংক নেয়া উচিত নয়।  

এসইও প্লাগিনের গ্রিন সিগন্যাল 

অন পেইজ এসইও এবং অন্যান্য বেসিক কিছু টেকনিক্যাল এসইও ইস্যু ফিক্স করতে এসইও প্লাগিনগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত আমরা ধরে নিই গ্রিন সিগন্যাল আসলেই আমাদের অন পেজ এসইও খুব ভালোভাবেই হয়েছে। কিন্তু এই ধারণাটাও ঠিক না। 

একজন বিগিনারের কাছে এসইও প্লাগিনগুলো অনেকটা বস (Boss)। একজন এক্সপার্টের কাছে এসইও প্লাগিনগুলো এসিস্ট্যান্ট। কারণ একজন বিগিনার এসইও-এর বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো হয়তো ভালোভাবে জানে না তাই এসইও প্লাগিনের গাইডলাইনগুলো তাকে ফলো করতে হয়। কিন্তু একজন এক্সপার্ট কখনোই গ্রিন বা রেড সিগন্যাল নিয়ে চিন্তিত না বরং তিনি এসইও এর কোর বিষয়গুলো প্রয়োগ করেন তার কন্টেন্টে। এতে করে কয়েকটা রেড সিগন্যাল দিলেও তিনি উদ্বিগ্ন হন না!   

গ্রিন সিগন্যালগুলো অনেকক্ষেত্রেই প্যারাসিটামল তিন বেলার মত! যেমন সাইটের কন্টেন্ট যেকোন ক্যাটাগরিরই হোক না কেন প্লাগিনগুলো সব ক্ষেত্রেই সেম সিগন্যাল প্রয়োগ করে। যেমন, একটা মানি আর্টিকেল লিখলাম ৫,০০০ ওয়ার্ডের। সেই আর্টিকেলে যদি প্লাগিনের গাইডলাইন ফলো করি তাহলে আমাকে ফোকাস কিওয়ার্ড ৩০ বার ইউজ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে আমি সেখানে সর্বমোট ৫ বারের বেশি ফোকাস কিওয়ার্ড ইউজ করবো না। এক্ষেত্রে রেড সিগন্যাল আসলেও আমার কিছু করার নেই। 

টেক্সট রিডেবিলিটি স্কোর 

ইয়োস্ট এসইও টেক্সট রিডেবিলিটি স্কোর প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ রিডেবিলিটি সাজেশনই লজিক্যাল। কিন্তু একটা রাইটিং আসলেই ভালো হয়েছে কিনা সেটা একজন নেটিভ (স্থানীয় ভাষী) সবচেয়ে ভালো বুঝবেন। আপনি যদি ইংলিশে নেটিভ হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার রাইটিং ভালো হলে ইয়োস্টের রিডেবিলিটির দিকে আপনার তাকানোর প্রয়োজন নেই।

কিন্তু একজন বিগেনার বা ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের একজন রাইটারের জন্য টেক্সট রিডেবিলিটি স্কোর চেক করা প্রয়োজন। জাস্ট বেসিক কয়েকটা গাইডলাইন ফলো করলেই টেক্সট রিডিবিলিটি স্কোর বাড়ানো যায়। যেমন- 

  • Simple Sentence এ আর্টিকেল লিখা
  • যত বেশি Active Sentence ইউজ করা
  • প্রতিটি প্যারাগ্রাফ শর্ট করা (১৫০ শব্দের মধ্যে) 
  • আর্টিকেলে বেশি বেশি Transition Words ইউজ করা 
  • যতটা সম্ভব Short Subheading ইউজ করা 
  • Uncommon Word বা অপ্রচলিত শব্দ ইউজ না করা 
  • প্রতিটি প্যারাগ্রাফের শুরুতেই Repetitive শব্দ বা বাক্য ইউজ না করা। (একটা কমন ভুল করে থাকি আমরা, একই ধরণের বাক্য বার বার ইউজ করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই  Repetitive শব্দ বা বাক্য প্যারাগ্রাফের শুরুতে ইউজ করা হয়)  

শেষ কথা 

শেষ কথা হলো এসইও টুলগুলো আমাদের বিভিন্ন ইনসাইট বা ডাটা দিয়ে হেল্প করে থাকে। আমরা সেই ডাটাগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহার না করে বরং এসইও এর কোর রিকমেন্ডেশন ফলো করবো। সেজন্য টুল নির্ভর নলেজ অর্জন করার আগে গুগলের রিকমেন্ডেশনগুলো গুগল সার্চ সেন্ট্রাল থেকে জেনে আসা প্রয়োজন। 

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর গুলো কি কি জানতে চাই

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর গুলো কি কি জানতে চাই

যেসব বিষয় অনুসরণ করে একটি ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে অর্থাৎ সেরা দশে স্থান পায় তাই হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। আমরা যখন কোন একটা কিওয়ার্ড দিয়ে গুগলে বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করি তখন প্রথম পেজেই ১০ টি রেজাল্ট প্রদর্শিত হয়। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, কেন সার্চ ইঞ্জিন মাত্র ১০ টি রেজাল্ট প্রথম পেজে নিয়ে আসলো? কেন অন্যান্য ওয়েবসাইট প্রথম পেজে আসার সুযোগ পায়নি? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। আমরা আজকে আলোচনা করবো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর নিয়ে।  সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলো নিম্নরূপ-

১। কন্টেন্ট ফ্যাক্টর

২। ডোমেইন ফ্যাক্টর

৩। ওয়েবসাইট ফ্যাক্টর

৪। অন পেজ এসইও ফ্যাক্টর 

। ব্যাকলিংকস ফ্যাক্টর

কন্টেন্ট ফ্যাক্টর

গুগল কোর এলগোরিদম আপডেট মে ২০২০ এ তাদের র‍্যাংকিং ফ্যাক্টরের মধ্যে কন্টেন্টকে এক নম্বরে রেখেছে। এক্ষেত্রে গুগল ৪ টি ধাপে কন্টেন্টের মান তুলে ধরতে গুরুত্বারোপ করেছে, সেগুলো হলো-  

১। কনটেন্টের মান

–পর্যাপ্ত তথ্য, রিসার্চ, রিপোর্ট ও বিশ্লেষন নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।

–সম্পূর্ণ ও বিশদভাবে বিষয়বস্তু আর্টিকেলে ফুটিয়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ ভিজিটররা যা সার্চ করছে তাকি পুরোপুরি পেয়েছে কিনা নিশ্চিত করতে হবে।

–বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে কন্টেন্ট লিখে বা আর্টিকেল পুনলিখন (Rewrite) করার চেয়ে নতুন তথ্যবহুল কন্টেন্ট অবশ্যই বেশি ফলপ্রসূ।

– আর্টিকেলের টাইটেল ও মেটা ডেসক্রিপশনের মাধ্যমে পুরো আর্টিকেলের সারাংশ তুলে ধরতে হবে।  

– আর্টিকেলের টাইটেল বা মেটা ডেসক্রিপশন বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে লিখতে হবে। অতিরঞ্জন বা হটকারি টাইটেল সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংক পাবে না।

– আপনার পেজ বা পোস্ট কি মানুষ বুকমার্ক বা শেয়ার করতে ইচ্ছুক কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। 

–বিভিন্ন এনসাইক্লোপিডিয়া বা বইয়ের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য কি রেফারেন্সের পাওয়ার যোগ্যতা রাখে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তবে ওয়েবসাইট র‍্যাংক করার সমূহ সম্ভবনা আছে। 

২। কন্টেন্ট লেখকের দক্ষতা

– এমন কন্টেন্ট লিখতে হবে যা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও যা সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ সহকারে লিখা হয়।

–যে বিষয়ে কন্টেন্ট লেখক লিখেছে সে বিষয়ে তিনি ভাল জ্ঞান রাখেন কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।

– ওয়েসবাইটের যেকোন কন্টেন্ট প্রতারণা, মিথ্যা বা ভুল তথ্য থেকে মুক্ত হতে হবে।

৩। কন্টেন্ট উপস্থাপনা

– ওয়েবসাইটের আর্টিকেলগুলোকে বানানগত বা ব্যকরণগত যথাসম্ভব শুদ্ধ হতে হবে।

– আর্টিকেলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে লিখতে হবে তাড়াহুড়ো করে লিখা ঠিক নয়।

– কন্টেন্টে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন থাকলে মানুষ পড়তে বিরক্তবোধ করে। সুতরাং সহনীয় মাত্রায় ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়া উচিত।

–সকল ডিভাইসে (মোবাইল, ট্যাব) ইত্যাদিতে সুন্দরভাবে যেন কন্টেন্ট প্রকাশিত হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৪। কন্টেন্টের তুলনা

– বলার অপেক্ষা রাখে না অন্যান্য পেজের তুলনায় করলে অধিক মুল্যবান কন্টেন্ট লিখতে হবে র‍্যাংক পেতে হলে।

–ভিজিটরের প্রয়োজন পূর্ণ করে কন্টেন্ট লিখা উচিত সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি করা সেটি পরের বিষয়।

যে চারটি পয়েন্ট আমরা এতক্ষন আলোচনা করলাম তা ছিল গুগল কোর এলগোরিদম আপডেট যা মে ২০২০ এ প্রকাশিত যা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর। এই পয়েন্টগুলো আলোচনা করে আমরা বুঝতে পারছি গুগল র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কন্টেন্টকে। 

ইইএটি ক্রাইটেরিয়া (EEAT Criteria)

ইইএটি ক্রাইটেরিয়া (EEAT Criteria) এখন সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর এ ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। EAT এর বিশদরূপ হচ্ছে

E = Experience

E = Expertise

A = Authoritativeness and

T = Trustworthiness.

Experience (অভিজ্ঞতা)

এখানে অভিজ্ঞতা বলতে বুঝানো হয়েছে যিনি কন্টেন্ট লিখেছেন তার অভিজ্ঞতা কতটুকু। যে বিষয়ের উপর লিখছেন সেই বিষয়ের উপর আপনি অভিজ্ঞ কিনা।

Expertise (দক্ষতা)

Expertise (দক্ষতা) বলতে বুঝানো হচ্ছে যে ওয়েবসাইট থেকে কন্টেন্ট লিখা হচ্ছে তাদের উক্ত বিষয়ের উপর গভীর দক্ষতা রয়েছে কিনা। অর্থাৎ সামগ্রিক আলোচ্য বিষয়ের উপর তাদের গভীর জ্ঞান আছে কিনা।     

Authoritativeness (প্রামান্যতা)

Authoritativeness (প্রামান্যতা) দ্বারা বুঝানো হচ্ছে আপনি যে বিষয়বস্তুর উপর ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন তার উপর আপনার কর্তৃত্ব বা প্রামান্যতা কতটুকু আছে। আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর দক্ষতা রাখেন তা প্রমান হয় যখন বড় ওয়েবসাইট (যার বেশি পিএ/ডিএ আছে) আপনাকে এক্সটারনাল লিংক দেয় বা রেফারেন্স দেয় । এটা তখন প্রমান হয় আপনার ওয়েসবাইট ঐ বিষয়বস্তুর মূল তথ্যদাতা।       

Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা)

একটি  ওয়েবসাইট যখন তথ্য প্রদান বা লেনদেনের বিশ্বাসযোগ্য হবে সেটাকে Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা) বলা হয়। আর্থিক লেনদেন যেসব ওয়েবসাইটে হয় তাদের জন্য Trustworthiness সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য Trustworthiness সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোন ওয়েবসাইটে  SSL certificate সংযুক্ত থাকা মানে ওয়েবসাইটের Trustworthiness এর প্রমাণ বহন করে।     

ডোমেইন ফ্যাক্টর

১।ডোমাইনের বয়স

ডোমেইন বয়স একটি কম গুরুত্বপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর। সাধারণত কোন ডোমেইনের বয়স বেশি থাকা মানেই সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক পাবে ব্যাপারটি এমন নয়, তবে দুটি ডোমেইনের কন্টেন্ট যদি একই মানের হয় তবে যে ডোমেইনের বয়স বেশি সেটি সার্চ রেজাল্টে অগ্রাধিকার পাবে।  

২। টপ লেভেল ডোমেইন

টপ লেভেল ডোমেইন (TLD) সাধারণত সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন (SLD) থেকে র‍্যাংক পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায় । সুতরাং র‍্যাংকিং এ ভালো রেজাল্ট করতে হলে টপ লেভেল ডোমেইন নিয়ে কাজ করা উচিত। সাধারণত টপ লেভেল ডোমেইন হলো-

•          .com

•          .net

•          .org

•          .info

•          .co

•          .io

•          .me

•          .xyz

এর মধ্যে ডট কম ডোমেইনকে বলা হয় কিং ডোমেইন যা টপ লেভেল ডোমেইনের মধ্যে প্রথমে অবস্থান করে।

৩। এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন

এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন হচ্ছে সেই ডোমেইনগুলো যেগুলো প্রধান কিওয়ার্ডের সাথে মিলে যায়। যেমন আপনি যদি অনলাইনে বাসের টিকেট বিক্রি করেন এবং আপনার ডোমেইন হয় busticket.com তাহলে এটি হচ্ছে এক্স্যাক্ট ম্যাচ ডোমেইন। এখানে আপনার কিওয়ার্ড ও ডোমেইন একসাথে মিলে গেছে। এক্স্যাক্ট ম্যাচ ডোমেইনে আপনি সার্চ রেজাল্টে সামান্য প্রাধান্য পাবেন।

৪। ব্র্যান্ডেড ডোমেইন

২০২৩ সালের এসইও স্ট্র্যাটেজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্র্যান্ডেড ডোমেইন নিয়ে কাজ করা। গুগল এখন ব্র্যান্ডেড ডোমেইনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে র‍্যাঙ্কিং এর জন্য। যেমন backenddigital.com একটি ব্র্যান্ড নেম ডোমেইন।

৫। পাবলিক WHOIS vs. প্রাইভেট WHOIS  

কোন ডোমেইন রেজিস্ট্রেটরের নাম জানা যাবে যদি WHOIS ডাটা পাবলিক করে রাখা হয়, কিন্তু WHOIS ডাটা প্রাইভেট করে রাখা মানে আপনি কিছু লুকাতে চাচ্ছেন যা কিনা সার্চ ইঞ্জিন একটি নেগেটিভ সিগন্যাল হিসেবে নেয়। সুতরাং, WHOIS ডাটা পাবলিক করে রাখাই বেস্ট প্যাকটিস।

৬। স্পামার WhoIs Owner  

একটি হোস্টিং এর আন্ডারে একাধিক ডোমেইন থাকতে পারে। যদি সার্চ ইঞ্জিনের কাছে একটি ডোমেইন স্পামার হিসেবে সাব্যস্ত হয় তবে সেই ব্যক্তির হোস্টিং এর আন্ডারে থাকা বাকি ডোমেইন গুলোতেও সেটি সমান প্রভাব ফেলে।  

৭। কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন

লোকাল এসইও বা স্থানীয় সার্চ রেজাল্টে কিছু অগ্রাধিকার পায় কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন। তবে গ্লোবাল টার্গেটে কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন ততটা কার্যকর নয়। কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন এর উদাহরণ হচ্ছে .com.bd (বাংলাদেশ), com.ac (অস্ট্রেলিয়া), com.us (ইউএসএ) ইত্যাদি।     

অন পেজ এসইও ফ্যাক্টর

১। টাইটেল ট্যাগে কিওয়ার্ড রাখা

টাইটেল ট্যাগের মধ্যে যদি ফোকাস কিওয়ার্ড থাকে তবে তা র‍্যাংক করার সম্ভবনা তুলনামূলক বেশি হয়। তাছাড়াও MOZ এবং Backlinko এর দুটি পৃথক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, যেসব টাইটেল ট্যাগের প্রথম অংশে কিওয়ার্ড থাকে সেসব ওয়েবসাইট র‍্যাংক করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী থাকে।

২। মেটা ডেসক্রিপশনে কিওয়ার্ড রাখা  

মেটা ডেসক্রিপশনে কিওয়ার্ড থাকা মানে সেই আর্টিকেল কিওয়ার্ডের সাথে প্রাসঙ্গিক বলে সাব্যস্ত হয়। যেকোন আর্টিকেলের সারাংশ অল্প কথায় তুলে ধরে মেটা ডেসক্রিপশন, যদি মেটা ডেসক্রিপশনের মধ্যে কিওয়ার্ড থাকে তবে তবে সেই আর্টিকেল সার্চ রেজাল্টে অধিকতর প্রকাশিত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

৩। ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল লিংক ব্যাবহার করা

আর্টিকেল/পেজে রেফারেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে অন্তত একটি ইন্টারনাল লিংক ও অন্তত একটি এক্সটারনাল লিংক ব্যবহার করতে হবে। তবে প্রয়োজন সাপেক্ষ্যে অবশ্যই একাধিক লিংক দেয়া যাবে। আমি যদি নিজের ওয়েবসাইটের কোন পেজকে লিংক দেই তবে সেটা ইন্টারনাল লিংক। আমার নিজের ওয়েবসাইটের বাইরের কোন লিংক ইউজ করলে সেটা এক্সটারনাল লিংক।

৪। ইউআরএলে কিওয়ার্ড রাখা

ইউআরএলে কিওয়ার্ড রাখা আরেকটি প্রাসঙ্গিক সিগন্যাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে সার্চ রেজাল্টে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

৫। কন্টেন্ট অপটিমাইজেশন  

অন পেজ এসইও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কন্টেন্ট অপটিমাইজ করা। কন্টেন্ট অপটিমাইজেশন এর ধাপগুলো নিম্নরূপ –

•          কন্টেন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যক কিওয়ার্ড রাখতে হবে ও মাত্রাতিরিক্ত কিওয়ার্ড ব্যবহার (কিওয়ার্ড স্টাফিং) হতে বিরত থাকতে  হবে।

•          কন্টেন্টে H1, H2, H3 ট্যাগগুলো ব্যবহার করতে হবে।

•          যথাসম্ভব তথ্যবহুল ও বিশদ কন্টেন্ট হতে হবে যা আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি।

•          সাব হেডিং এর মধ্যে কিওয়ার্ড রাখতে হবে।

•          Latent Semantic Indexing (LSI) বা প্রতিশব্দমূলক কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

•        কন্টেন্ট ব্যবহৃত তথ্যসূত্র বা রেফারেন্সের জন্য ইন্টারনাল লিংক ও এক্সটারনাল লিংক ব্যবহার করতে হবে। 

৬। কন্টেন্ট আপডেট 

সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় কন্টেন্ট আপডেটের প্রয়োজন দেখা দেয়। যেমন আমাদের এই আর্টিকেলের কথাই ধরুন, আজ থেকে ১-২ বছর পর সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর পরিবর্তন হতে পারে ফলে সময়ের সাথে সাথে এই কন্টেন্টকে আপডেট করতে হবে। যদি ওয়েবসাইটে এমন কোন কন্টেন্ট থেকে থাকে যার প্রয়োজনীয়তা একেবারেই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে তবে সেই কন্টেন্টকে ডিলিট করে দেওয়া উচিত।   

৭। ইমেজ অপটিমাইজেশন  

বর্তমান সময়ে ইমেজ র‍্যাংক করানো এসইও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইমেজ র‍্যাংক করাতে হলে নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে-

•          ইমেজের সাইজ যথাসম্ভব ছোট হওয়া ভাল ফলে দ্রুত পেজ লোড হবে।

•          ইমজে অবশ্যই রিলেটেড কিওয়ার্ড দিয়ে অল্টার টেক্স ব্যবহার করতে হবে।

•          ইউনিক ও কপিরাইটমুক্ত ইমেজ হতে হবে।

•          প্রয়োজনে ইমেজের প্রোপার্টিজ থেকে কিওয়ার্ড, ট্যাগ ও কপিরাইট সেট করে দেওয়া ভালো।

ওয়েবসাইট ফ্যাক্টর

১। এক্সেমএল সাইটম্যাপ

আপনার ওয়েবসাইটে কতগুলো পেজ ও পোস্ট আছে তা সাইটম্যাপের মাধ্যমে গুগলে ইনডেক্স করা হয়। সার্চ রেজাল্টে প্রকাশিত হওয়ার জন্য সাইটম্যাপ সার্চ কনসোলে সেট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

২। এসএসএল সার্টিফিকেট

কোন ওয়েবসাইটের সিকিউরিটির নিশ্চয়তা প্রদান করে এসএসএল সার্টিফিকেট। বিশেষ করে যেসব ওয়েবসাইটে আর্থিক লেনদেন হয় সেসব ওয়েবসাইটে এসএসএল সার্টিফিকেট আরও বেশি প্রয়োজন। এসএসএল সার্টিফিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর।

৩। মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ভিজিটর আসে মোবাইল ফোন হতে। ফলে ওয়েবসাইট মোবাইল, ট্যাব, পিসি সবকিছুতেই যেন রেসপনসিভ হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ওয়েবসাইট রেসপসিভ না হলে সার্চ রেজাল্টে বেশ পিছিয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।

৪। গুগল সার্চ কনসোল ইনডেক্সিং

গুগলের ওয়েবমাস্টার টুল বা গুগল সার্চ কনসোলে ওয়েবসাইটকে ইনডেক্স করাতে হবে। গুগল সার্চ কনসোলে ওয়েবসাইটকে ইনডেক্স করালে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে ও কোন ইরোর থাকলে তাও দেখতে পাওয়া যাবে। সার্চ কনসোল মূলত আপনার ওয়েবসাইটের উপস্থিতি গুগলকে জানান দেয়।

৫। কোন ব্রোকেন লিংক বা ৪০৪ ইরোর পেজ না রাখা

ওয়েবসাইটে কোন ব্রোকেন লিংক থাকলে সার্চ ইঞ্জিন সেটিকে একটি নেগেটিভ সিগন্যাল হিসেবে নেয়। সেক্ষেত্রে ব্রোকেন লিংকটিকে সার্চ কনসোল থেকে রিমুভ করে বা সেখানে প্রাসঙ্গিক অন্য একটি কন্টেন্ট যুক্ত করে দেয়া যেতে পারে।

ব্যাকলিংক এসইও ফ্যাক্টর

১। লিংকিং ডোমেইন ও লিংকিং পেজের সংখ্যা

কতগুলো ডোমেইন থেকে একটা ওয়েবসাইট লিংক পেয়েছে তাই হচ্ছে লিংকিং ডোমেইনের সংখ্যা। লিংকিং ডোমেইন বেশি হওয়ার অর্থ হচ্ছে ওয়েবসাইটি অন্যদের থেকে অথোরিটি পাচ্ছে। যেটি সার্চ ইঞ্জিনে একটি পজিটিভ র‍্যাংকিং সিগন্যাল। একইভাবে তা বিভিন্ন পেজ লিংকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

২। লিংকিং পেজের ডোমেইন অথোরিটি

যে ডোমেইন বা পেজ থেকে লিংক পাওয়া যাবে তার ডোমেইন অথোরিটি বেশি হওয়ার অর্থ হচ্ছে বড় ওয়েবসাইট থেকে লিংক অর্জন করা। সুতরাং যেসব ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথোরিটি বেশি তাদের থেকে ব্যাকলিংক গ্রহণ করলে ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টে অগ্রাধিকার পাবে।

৩। লিংকের প্রাসঙ্গিকতা

যে উৎস থেকে লিংক সংগ্রহ করা হয়েছে সেটি নিশ রিলেটেড কিনা সেটি নির্দেশ করে লিংকের প্রাসঙ্গিকতা। বিভিন্ন নিশ থেকে লিংক নেওয়ার চেয়ে প্রাসঙ্গিক নিশ থেকে লিংক গ্রহণ করলে তা সার্চ রেজাল্টে অধিকতর গুরুত্ব বহন করে। যদি সেই লিংক এংকর টেক্সট থেকে নেওয়া হয় তবে এর গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়।

৪। ডু ফলো বনাম নো ফলো লিংক 

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর এর মধ্যে ডু ফলো লিংক অন্যতম। অপরদিকে নো ফলো লিংক সার্চ রেজাল্টে অগ্রাধিকার পাওয়ার কোন ভূমিকা রাখে না, কিন্তু ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার ক্ষেত্রে নো ফলো লিংকের গুরুত্ব রয়েছে।

পরিশেষে বলি

সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর একটি বিশদ বিষয়। গুগলের প্রায় ২০০ টির বেশি র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর রয়েছে। আমরা চেস্টা করেছি মূল বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য। আমরা আশা করি, উপরোক্ত বিষয়গুলো কোন ওয়েবসাইটে প্রয়োগ করলে ওয়েবসাইট অবশ্যই র‍্যাংক করবে।  

ই-কমার্স এসইও করুন ৮ টি ধাপ অনুসরণ করে

ই-কমার্স এসইও করুন ৮ টি ধাপ অনুসরণ করে

ই-কমার্স এসইও করা প্রতিটি ব্যবসায়ের জন্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কেননা আপনি এসইও না করলে ওয়েবসাইটের ভিজিটর হারাবেন ও পাশাপাশি আপনি সেলস থেকে বঞ্চিত হবেন। এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় যারা নতুন ওয়েবসাইট খুলেছেন কিংবা আপনার ওয়েবসাইটের এখন ভালো ফলফল দেখতে চান।

ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য কেন এসইও করা প্রয়োজন 

•         ৪৪% গ্রাহক তাদের অনলাইন শপিং এর প্রক্রিয়া শুরু করে গুগলে সার্চ করার মধ্যমে (nChannel)

•         ৩৭.৫% ট্রাফিক ই-কমার্স ওয়েবসাইটে আসে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে (SEMRush)

•         ২৩.৬% অর্ডার ই-কমার্স  ওয়েবসাইটে আসে অরগানিক সার্চ ট্রাফিকদের মাধ্যমে (Business Insider)

১ ওয়েবসাইট ডিজাইন

ই-কমার্স এসইও এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট ডিজাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইনটি এমন হতে হবে যেন একজন ক্রেতা যেকোন প্রোডাক্ট সহজেই খুঁজে পায় ও তার সাথে প্রাসঙ্গিক প্রোডাক্টগুলোও দেখতে পারে। ওয়েবসাইট ডিজাইন করার সময় অবশ্যই কয়েকটি পেজ বাধ্যতামূলক রাখতে হবে সেগুলো হচ্ছে- 

ই-কমার্স এসইও

•         হোমপেজ

•         এবাউট পেজ

•         F.A.Q. পেজ

•         ব্লগ আর্টিকেল

•         হেল্প সেন্টার এনসার

•         কন্টাক পেজ

ওয়েবসাইটকে এমনভাবে সাজাবেন না যেন ভিজিটর একটার পর একটা ক্লিক করে তারপর তথ্য খুঁজে পেতে হয়। ওয়েবসাইটকে সাবলিল ও সহজ করে কাস্টমারের সামনে উপস্থিত করুন যেন, সহজেই যে কেউ যেকোন পেজে ভিজিট করতে পারে। সেজন্য কাস্টমার যেন ব্যাক ও ফ্রন্ট পেজে সহজেই ভিজিট করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় ওয়েবসাইটে লাইভ চ্যাট যুক্ত রাখুন যেন ভিজিটর ওয়েবসাইট থেকে যেকোন প্রয়োজনীয় বিষয়ের তথ্য লাইভ চ্যাট থেকে জেনে নিতে পারে।

২ ই-কমার্স কিওয়ার্ড রিসার্চ 

প্রত্যেকটা এসইও ক্যাম্পেইনের ভিত্তি হচ্ছে কিওয়ার্ড রিসার্চ। কিওয়ার্ড রিসার্চের উপর ভিত্তি করে আপনি ওয়েবসাইটের প্রত্যেকটা বিষয়কে সাজাবেন ও পরবর্তী কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

ই-কমার্স এসইও

ছয়টি ধাপে ইকমার্স ওয়েবসাইটের কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে

১। ওয়েবসাইটের সবগুলো পেজের একটা লিস্ট করুন।

২। প্রতিটি পেজে কতগুলো কিওয়ার্ড থাকতে পারে এর সম্ভাব্য একটা লিস্ট করুন।

৩। কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলগুলো ব্যবহার করুন ও এর মাধ্যমে কিওয়ার্ডের মাসিক সার্চ ভলিউম ও কিওয়ার্ডের কম্পিটিশন বের করুন।

৪। প্রথম অবস্থায় সার্চ ভলিউম বেশি কিন্ত কম্পিটিশন কম এমন কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ শুরু করুন।

৫। লং টেইল কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন অর্থাৎ যে কিওয়ার্ডগুলো ৪ থেকে ৬ ওয়ার্ডের হয়। লং টেইল কিওয়ার্ডের কম্পিটিশন কম থাকে কিন্তু একুরেট প্রোডাক্ট ভিজিটরদের খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

৬। কিওয়ার্ড প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুগলের গাইডলাইন মেনে চলুন ও Keyword Golden Ratio- KGR পদ্ধতি মেনে চলুন। 

কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল

ই-কমার্স এসইও করার জন্য বেশ কিছু ফ্রি কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল আছে যা ব্যবহার করে আপনি সহজেই একটি গুছানো কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন। বলাবাহুল্য, অনেক সময় বিভিন্ন টুল থকে ভিন্ন ভিন্ন রেজাল্ট পাবেন। তবে বেস্ট প্র্যাকটিস হচ্ছে আপনি যদি সবগুলোর কম্পিনেশনে সবচেয়ে ভালো কিওয়ার্ড বেছে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে নিম্নের টুলগুলো আপানকে যথেষ্ট সাহায্য করবে-

ই-কমার্স কিওয়ার্ড রিসার্চ

•         “কিওয়ার্ড টুল ডমিনেটর – Keyword Tool Dominator” এটা এমাজনের সার্ভিস।

•         এমাজন ও গুগল সাজেশন তা ছাড়াও অন্যান্য জায়ান্ট ই-কমার্স কোম্পানির কিওয়ার্ড সাজেশন ফলো করতে পারেন।

•         “উবারসাজেস্ট – Ubersuggest” এটা নেইল প্যাটেলের সার্ভিস।

•         “গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার – Google Keyword Planner” এটা গুগলের সার্ভিস।

•         “ময – MOZ ও এসইএম রাশ – SEM Rush এর মাধ্যমেও কিওয়ার্ড রিসার্চ করা যায়।

৩ ই-কমার্স ওয়েবসাইটের অন পেজ এসইও

একটি ওয়েবসাইটের অন পেজ এসইও ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি করে তোলে ও পাশাপাশি ওয়েবসাইটকে ভিজটরদের কাছে ইউজার ফ্রেন্ডলি করে তোলে। এক কথায় অন পেজ এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন ও ইউজারদের কাছে গুছিয়ে তথ্য বা প্রোডাক্ট উপস্থাপন করা। ১০ টি ধাপে ওয়েবসাইটের অন পেজ এসইও করতে হবে-

১। কিওয়ার্ড লিস্ট তৈরি করুন যা প্রত্যেকটা প্রোডাক্টের অন পেজ এসইওতে ব্যবহার করতে হবে।

২। অন পেজ এসইও করার জন্য একটি প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন, হতে পারে তা “Yoast SEO” বা “Rank Math” বা “All in one SEO” 

৩। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে এখন ভয়েস সার্চের পরিমাণ বেড়ে গেছে, বিশেষ করে ই-কমার্স প্রোডাক্টের জন্য প্রচুর ভয়েজ সার্চ হচ্ছে, এসব ভয়েস সার্চ কিওয়ার্ড অন পেজ এসইওতে যুক্ত করতে হবে।

৪। প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন গুছিয়ে লিখতে হবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এসইও এক্সপার্টরা প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশনে “Lowest Price” “Best Product” “Free Delivery” বা কোন প্রমোশনাল শব্দ ব্যবহার করেন। ফলে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড ছাড়াও বেশ কিছু কিওয়ার্ডে ওয়েবসাইট র‍্যাংক করে।

৫। ইমেজ ও ভিডিও পোস্ট করার ক্ষেত্রে ছোট JPG ইমেজ ও MP4 ভিডিও ব্যবহার করুন। আপনার পেজের ইমেজ ও ভিডিও সাইজ যত ছোট হবে তত দ্রুত ওয়েবসাইট লোড হবে।

৬। পোডাক্ট পোস্টের সাথে রিলেটেড প্রোডাক্ট সাজেশন যেন থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, এতে করে বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়ার সম্ভবনা থাকে। সেক্ষত্রে ইন্টারনার লিংকিং যথাযথভাবে করতে হবে।

৭। প্রোডাক্ট টাইটেল ও মেটা ট্যাগ যত সম্ভব ছোট কিন্তু অর্থবোধক হতে হবে।

৮। পেজে অবশ্যই H1, H2, H3 হেডিং ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে।

৯। ওয়েবসাইটের যেন ভালো রিভিও থাকে ও সেই রিভিও সার্চ রেজাল্টে প্রকাশিত করলে ভিজিটর ওয়েবসাইটে তুলনামূলক বেশি আসে।

১০। ইউনিক ও মানসম্পন্ন কন্টেন্ট লিখুন ও কন্টেন্টের অন পেজ এসইও করুন। অবশ্যই র‍্যাংক পেতে হলে ডুল্পিকেট কন্টেন্ট পরিহার করতে হবে। বিষয়টি গুগল কোর এলগোরিদম আপডেট ২০২০ এর মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

৪ টেকনিক্যাল ই-কমার্স এসইও চেকলিস্ট

টেকনিক্যাল ই-কমার্স এসইও হচ্ছে এমন কিছু বিষয় যা সার্চ ইঞ্জিনের চাহিদা মোতাবেক ওয়েবসাইটের কিছু খুঁটিনাটি বিষয় নিশ্চিত করা, অর্থাৎ শতভাগ সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে অবশ্যই টেকনিক্যাল এসইওর বিশয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে যেমন –   

১। ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড যত কম হয় ততই ভালো। এতে করে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক পেতে সুবিধা হবে ও ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমে যাবে।

২। ওয়েবসাইটের জন্য আরকটি অত্যাবশ্যক বিষয় হচ্ছে “SSL Certificate” নিশ্চিত করা। বিশেষ করে SSL certificate ছাড়া ই-কমার্স ওয়েবসাইটের র‍্যাংক পাওয়া সম্ভব নয়।

৩। যেহেতু বেশিরভাগ ভিজিটর এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসে ফলে ওয়েবসাইটকে অবশ্যই মোবাইল ফ্রেন্ডলি বা রেসপনসিভ হতে হবে।

৪। গুগল সার্চ কনসোলে কোন ইরর থাকলে তা খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি এও নিশ্চিত হতে হবে, সবগুলো পোস্ট ও পেজ গুগল ইনডেক্স করেছে কিনা। গুগল যদি আপনার ওয়েবসাইটকে ইনডেক্স না করে তবে সার্চ রেজাল্টে আপনার ওয়েবসাইট প্রকাশিত হবে না।

৫। ওয়েবসাইটে কোন ইনভেলিড পেজ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। Error 404 পেজ যদি ওয়েবসাইটে থেকে থাকে তবে তা খুঁজে বের করতে হবে এবং পেজটিকে অন্য পেজের সাথে লিংক করে দিতে হবে বা ডিলিট করে দিতে হবে।

৬। Robots.txt ফাইল আপলোড করতে হবে। মূলত এই ফাইলের মাধ্যমে আপনি কোন কোন পেজকে সার্চ ইঞ্জিনকে ইনডেক্স করতে বলবেন তা নির্দেশ করে। 

৭। স্কিমা মার্কআপ ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে হবে। কতগুলো HTML ট্যাগ এর সমন্বয়ে স্কিমা মার্কআপ গঠিত হয়, যা দিয়ে সার্চ ইঞ্জিনকে প্রোডাক্ট ডিলেইলস, প্রোডাক্ট রেটিং ও স্টক সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করবে। গুগল সার্চ কনসোলে প্রোডাক্ট রিপোর্টে স্কিমা মার্কআপের স্ট্যাটাস দেখে নিতে পারবেন। আপনার যখন মোটামুটি সবগুলো কিওয়ার্ড এর চেকলিস্ট হয়ে যাবে তখন সার্চ কনসোলে র‍্যাংকিং চেক করতে পারবেন।  

৫ ইজি চেকআউট পেজ ও পেমেন্ট মেথড

একজন ক্রেতা যখন আপনার ওয়েবসাইট থেকে কিছু কিনতে চায় তখন সে প্রোডাক্টি Add to Cart করার জন্য চেক আউট পেজে চলে যায়। আপনি যদি জটিলভাবে চেকআউট পেজটি তৈরি করেন অর্থাৎ একটি প্রোডাক্ট কেনার জন্য ক্রেতাকে প্রচুর তথ্য দিতে হচ্ছে ও কয়েকটি ধাপ শেষ করতে হচ্ছে, তখন ক্রেতা আপনার চেক আউট পেজ থেকে বেরিয়ে যাবে ও প্রোডাক্ট কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এর ফলে আপনি আপনি ক্রেতা হারালেন ও ওয়েবসাইটের ভিজিটর হারালেন।

আপনার যততুকু তথ্য দরকার তা আপনি সংগ্রহ করতে পারেন। সেজন্য প্রথম স্টেপে ইনফরমেশন ও দ্বিতীয় স্টেপে ডেলিভারি এড্রেস ও তৃতীয় স্টেপে পেমেন্ট মেথড রাখতে পারেন। প্রথম স্টেপ শেষে যদি ক্রেতা চেক আউট পেজ থেকে বের হয়ে যায় তবুও যেন আপনি তাদের তথ্য পেতে পারেন ও তাদের কাছে পুণরায় মার্কেটিং করতে পারবেন। সুতরাং চেক আউট পেজ যত সম্ভব ইজি ও ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে হবে। 

বেশিরভাগ মানুষ যেই পেমেন্ট মেথড পছন্দ করে সেই পেমেন্ট মেথড অবশ্যই রাখেবন। যেমন, আমাদের বেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় পেমেন্ট মেথড হচ্ছে ক্যাশ অন ডেলিভারি ও মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশ। এই দুটি পেমেন্ট মেথড অবশ্যই চেকআউট পেজে রাখবেন। ই-কমার্স এসইও করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৬ ওয়েবসাইটে FAQ (Frequently Asked Question) পেজ যুক্ত করুন

ওয়েবসাইটে FAQ (Frequently Asked Question) পেজ যুক্ত করে ক্রেতাদের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোন পন্য ক্রয় কররা আগে ক্রেতাদের মনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদয় হয়, ফলে প্রাসঙ্গিক এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে ক্রেতারা পন্য ক্রয় করতে আগ্রহী হয় না। FAQ (Frequently Asked Question) পেজ যুক্ত হলে-

ওয়েবসাইটে FAQ (Frequently Asked Question)

– ক্রেতারা তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের উত্তর পাবে ও সেলসের পরিমাণ বাড়বে।

– বিভন্ন প্রশ্নবোধক কিওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইট র‍্যাংক করবে, যেমন How to use, Where to find ইত্যাদি।

সাধারণত যে প্রশ্নগুলো করা হয়ে থাকে সেগুলো হলো –

– আপনাদের রিটার্ন পলিসি কি?

– কোন কোন অঞ্চলে ডেলিভারি দিয়ে থাকেন?

– আপনাদের পেমেন্ট মেথড কি কি?

– অর্ডার দেয়ার পর কি ক্যানসেল করা যাবে?

– কত সময়ের মধ্যে পন্য হাতে পাওয়া যাবে?

– আমি অর্ডার কি করে ট্র্যাক করতে পারি?

– প্রডাক্টের উপকরণ গুলো কি কি?

৭ সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রমোশন করুন

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রমোশন ছাড়া ই-কমার্স এসইও কখনোই পরিপূর্ন হবে না। একথা কখনোই অস্বীকার করা যাবে না যে ভিজিটরদের একটা বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওয়েবসাইটে আসবে। আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট এমনভাবে লিখতে হবে যেন সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি বেশি শেয়ার হয়। আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন কিছু বাটন যুক্ত করতে হবে যেন ওয়েবসাইটে বেশি বেশি ভিজিটর আসে যেমন, Learn More, Shop Now ইত্যাদি।

গুগল সার্চ রেজাল্টেও বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টগুলো র‍্যাংক করে। গুগলের এলগোরিদম অনুযায়ী ফেসবুক ও টুইটার পোস্ট র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়।

৮ ওয়েবসাইটের জন্য মানসম্পন্ন ব্যাকলিংক তৈরি করুন

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে মানসম্পন্ন ব্যকলিংক তৈরি করতে হবে। ব্যাকলিংক তৈরি করলে আপনি সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত র‍্যাংক পাবেন ও ওয়েবসাইটে প্রচুর ভিজিটর পাবেন।

•         সেই সব ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক তৈরি করুন যে ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথোরিটি বেশি। সেজন্য MOZ এর সাহায্যে চেক করতে পারবেন ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথোরিটি।

•         ইনফোগ্রাফিক্স, ব্রোকেন লিংক ও গেস্ট পোস্টের মাধ্যমে মানসম্পন্ন ব্যাকলিংক তৈরি করুন।

•         ডিরেকটরি সাবমিশন ও সোশ্যাল বুকমার্কিং এর মাধ্যমেও ভালো ব্যাকলিংক পেতে পারেন।

•         ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রচুর ভিজিটর ওয়েবসাইটে পাবেন ও অটো ব্যাকলিংক পাওয়া যাবে।

•        এক্সপায়ার্ড ভালো ডোমেইন অথোরিটি ওয়েবসাইটে কিনে নিতে পারেন। তারপর সেই ওয়েবসাইটে আপনি নিজের মত করে ব্যাকলিংক তৈরি করতে পারবেন।

পরিশেষে বলি

আমাদের আর্টিকেলে আমরা সংক্ষিপ্তভাবে একটি ই-কমার্স এসইও করার প্রক্রিয়া আলোচনা করেছি। তবে পরিপূর্ণ এসইও করতে হলে অবশ্যই একজন এসইও এক্সপার্টের শরণাপন্ন হতে হবে। বলে রাখা ভালো এসইও করার কোন শর্টকাট নেই, এসইও করতে হলে অন্তত কয়েকমাস ওয়েবসাইটে কাজ করতে হবে। আপনার যেকোন মন্তব্য আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন, সুতরাং আপনার যেকোন প্রশ্ন বা মন্তব্য আমাদের কমেন্ট বক্সে করতে পারেন।  

গুগল কোর এলগোরিদম আপডেট মে ২০২০, কে জিতলো কে হারলো

গুগল কোর এলগোরিদম আপডেট মে ২০২০, কে জিতলো কে হারলো

৪ই মে ২০২০ সালে গুগল সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের একটি কোর এলগোরিদম আপডেটের ঘোষণা দেয় তাদের অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে। এই কোর এলগোরিদম আপডেটের ফলে বেশ কিছু ওয়েবসাইট ব্যাপকভাবে ভিজিটর হারায় ও সার্চ ইঞ্জিনের র‍্যাংকিং থেকে নিচে নেমে যায়। আবার অপরদিকে বেশ কিছু ওয়েবসাইট রাতারাতি গুগলের প্রথম পেজে স্থান পেয়ে যায়।

কেন র‍্যাংকিং এ এত রদবদল? এই প্রশ্ন এখন সব মার্কেটারদের মুখে মুখে। তাহলে চলুন জেনে নেই গুগল কোর এলগোরিদম আপডেট মে ২০২০ নিয়ে।


গুগল কোর এলগোরিদম আপডেট কি?

বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময় গুগল কিছু আপডেট নিয়ে আসে তার এলগোরিদমে, কিন্তু কিছু আপডেট আছে যার আওতা ব্যাপক ও সার্চ রেজাল্টে বিশাল পরিবর্তন আনে তাকে কোর এলগোরিদম আপডেট বলে। সম্প্রতি যে আপডেটটি প্রকাশিত হলো সেটি একটি কোর এলগোরিদম আপডেট। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-

– কোর আপডেট নির্দিষ্ট কোন ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট বা নির্দিষ্ট কোন দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং সকল দেশের সকল ভাষার সকল ক্যাটাগরির ওয়েবসাইটের জন্য প্রযোজ্য হবে।  

– কোর আপডেট বাস্তবায়িত হওয়ার সাথে সাথেই অটোমেটিক বিভিন্ন ওয়েবসাইট র‍্যাংক করবে ও অনেকে র‍্যাংক হারাবে।

– পরবর্তীতে র‍্যাংক পেতে হলে কোর আপডেটের গাইডলাইন মেনে চলতে হবে।

কি আছে এই গুগল কোর এলগোরিদম আপডেটে?

প্রাসঙ্গিকভাবে বলে রাখা উচিত এই কোর এলগোরিদম আপডেট ৪ই মে ২০২০ সালে প্রকাশিত হলেও এটি পূর্বে থেকেই গুগলের একটি গাইডলাইন হিসেবে ছিল। উক্ত গাইডলাইনটি গুগল প্রকাশ করেছিল ১লা আগস্ট ২০১৯ সালে। এতএব আমরা বুঝতে পারছি, এই গাইডলাইনটি পূর্বে থেকেই বহাল ছিল কিন্তু এটিকে গুগুল এলগোরিদম হিসেবে নেয়নি সেই মুহূর্তে। মে ২০২০ কোর এলগোরিদম আপডেটের ফলে গুগল এই গাইডলাইনকেই এলগোরিদম হিসেবে ঘোষণা দেয়। চলুন জেনে সেই সেই গাইডলাইনে কি আছে-  

কন্টেন্টকে গুরুত্ব দিতে হবে

যারা কন্টেন্টে গুরুত্ব দিয়েছে তাদেরকেই গুগল পুরস্কৃত করেছে। অর্থাৎ যাদের র‍্যাংক পতন হয়েছে গুগল তাদের পুনরায় র‍্যাংক করার জন্য কন্টন্টে প্রাসঙ্গিকতা চায়। কন্টেন্ট ভালভাবে সাজাতে হলে বেশ কিছু পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে গুগলের গাইডলাইনে যা এখন গুগল কোর  এলগোরিদম আপডেট।

চারটি ক্যাটাগরিতে গুগল কন্টেন্টকে প্রশ্নবোধক দিয়েছে, সেগুলো হলো

১। কনটেন্টের মান সম্পর্কিত প্রশ্ন

– আপনার কন্টেন্টে পর্যাপ্ত তথ্য, রিসার্চ, রিপোর্ট ও বিশ্লেষন বিদ্যমান কিনা?

– যে বিষয়ের উপর কন্টেন্ট লিখেছেন সে বিষয়টি কি কন্টেন্টে সম্পূর্ণ ও বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে?

– যেসব ওয়েবসাইট থেকে কন্টেন্ট এর তথ্য নিয়েছেন তাদেরকে কি রেফারেন্স দিয়েছেন নাকি কপি পেস্ট বা আর্টিকেল পুনলিখন (Rewrite) করেছেন?

– আপনার টাইটেল ও মেটা ডেসক্রিপশন কি কন্টেন্টের সারাংশ তুলে ধরতে পেরেছে?

– আপনার টাইটেল বা মেটা ডেসক্রিপশন অতিরঞ্জিত ও হতবাক করার মত করেননি তো?

– আপনার পেজ কি মানুষ বুকমার্ক বা শেয়ার করতে ইচ্ছুক?

– আপনার কন্টেন্ট কি বিভিন্ন এনসাইক্লোপিডিয়া বা বইয়ের মধ্যে রেফারেন্সের পাওয়ার যোগ্যতা রাখে?

২। দক্ষতা বিষয়ক প্রশ্ন

– আপনার কন্টেন্ট কি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য? এটি কি সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ প্রদান করে?

– আপনার ওয়েবসাইট কেউ ভিজিট করলে তিনি কি সকল তথ্যে বিশ্বস্ততার সাথে গ্রহণ করবে?

– কন্টেন্ট লেখক যে বিষয়ে লিখেছে সে বিষয়ে কি তিনি ভাল জ্ঞান রাখেন?

– ওয়েসবাইটের কন্টেন্টকি মিথ্যা বা ভুল তথ্য থেকে মুক্ত?

– আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের উপর কি মানুষ আস্থা রাখতে পারবে?

৩। কন্টেন্ট উপস্থাপনা ও প্রস্তুত বিষয়ক প্রশ্ন

– ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট কি বানানগত বা ব্যকরণগত ভুল হতে মুক্ত?

– কন্টেন্ট কি পরিকল্পিতভাবে সাজনো হয়েছে নাকি তাড়াহুড়ো করে লিখা হয়েছে?

– অনেক লেখক অনেক কন্টেন্ট লিখেছেন ওয়েবসাইটে, ফলে ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ পেজ বিছিন্ন থেকে গেল নাতো?

– কন্টেন্টে কি প্রচুর বিজ্ঞাপন রয়েছে যেন মানুষ কন্টেন্ট পড়তে বিরক্তবোধ করে?   

– কন্টেন্ট কি সকল ডিভাইসে (মোবাইল, ট্যাব) সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয় অর্থাৎ রেসপনসিভ?   

৪। তুলনামূলক প্রশ্ন

অন্যান্য পেজের সাথে তুলনা করলে আপনার কন্টেন্ট কি অধিক মুল্যবান?

– আপনার কন্টেন্ট কি ভিজিটরের প্রয়োজন পূর্ণ করতে লিখা হয়েছে নাকি সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক পাওয়ার জন্য লিখা হয়েছে?

আমরা এতক্ষন যে চারটি পয়েন্ট আলোচনা করলাম তা ছিল গুগলের গাইডলাইন যা বর্তমানে এলগোরিদম হিসেবে স্থান পেয়েছে। এই পয়েন্টগুলো আলোচনা করে আমরা বুঝতে পারছি গুগল র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কন্টেন্টকে। সার্চ ইঞ্জিন বিশেশজ্ঞরা সেজন্য বলে থাকেন Content is King বা কন্টেন্টই রাজা। জেনে নিন কন্টেন্ট মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে।

ইএটি ক্রাইটেরিয়া (EAT Criteria)

গুগল এলগোরিদম আপডেট মার্চ ২০২০ এর অন্যন্য আরেকটি সংস্করন হলো ইএটি ক্রাইটেরিয়া (EAT Criteria) । ইএটি ক্রাইটেরিয়া (EAT Criteria) এখন র‍্যাংকিং ফ্যাক্টরে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। EAT এর পূর্ণরূপ হচ্ছে E = Expertise A = Authoritativeness and T = Trustworthiness.

Expertise (দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা)

এখানে Expertise (দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা) দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যিনি কন্টেন্ট লিখছেন তার উক্ত বিষয়ের উপর কতটুকু দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা রয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে বিষয়বস্তু সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান আছে কিনা।  

Authoritativeness (প্রামান্যতা)

এখানে Authoritativeness (প্রামান্যতা) বলতে বুঝাচ্ছে আপনি যে বিষয়বস্তুর উপর ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন সে বিষয়ের উপর আপনার কর্তৃত্ব বা প্রামান্যতা আছে। আপনি আপনার বিষয়বস্তুর উপর কর্তৃত্ব রাখেন তা প্রমান হয় যখন বড় বড় ওয়েবসাইট আপনাকে রেফারেন্স দেয় (এক্সটারনাল লিংক দেয়) । এটা প্রমান করে আপনার ওয়েসবাইট ঐ বিষয়ের মূল তথ্যদাতা।

Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা)

যখন আপনার ওয়েবসাইট তথ্য প্রদান বা লেনদেনে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ দেবে তখন তাকে Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা) বলা হয়। বিশেষ করে যেসব ওয়েবসাইটে আর্থিক লেনদেন হয় সেসব ওয়েবসাইটের জন্য Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা) সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে ই-কমার্স সাইটের জন্য Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। SSL certificate কোন ওয়েবসাইটে সংযুক্ত থাকা কোন ওয়েবসাইটের Trustworthiness (বিশ্বাসযোগ্যতা) এর প্রমাণ বহন করে।

কে জিতলো কে হারলো?

গুগল কোর  এলগোরিদম আপডেট মে ২০২০ এ সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যারা তথ্যবহুল কন্টেন্ট নির্ভর ওয়েবসাইট করেছে। পাশাপাশি নতুন বিভিন্ন সাইট যারা দ্রুত র‍্যাংক পেয়েছিল তাদের ভিজিটর কমে গেছে ও র‍্যাংক পতন হয়েছে। সেক্ষত্রে গুগল পুরানো ডোমেইনকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেসব সাইট র‍্যাংক হারিয়েছে তাদের মধ্যে লোকাল সাইট, এফিলিয়েট সাইট ও ই-কমার্স সাইট বেশি। অপরদিকে হেলথ, এডুকেশন ও নিউজ সাইটগুলো বেশ লাভবান হয়েছে। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে কিছু ব্যাতিক্রম ঘটেছে। বস্তুত যাদের র‍্যাংক পতন হয়েছে তাদের ওয়েবসাইট মানসম্পন্ন নয় এমনটি ভাবা ঠিক নয়। এটা গুগলের এলগোরিদম আপডেটের ফলে র‍্যাংক পতন হয়েছে। কারা জিতলো ও কারা হারলো এই নিয়ে SEM Rush একটি সুন্দর রিপোর্ট করেছে।  

তাহলে এখন কি করা উচিত?

এই দীর্ঘ আলোচনার পর আপনারা বুঝে গেছেন আপনাদের ওয়েবসাইটের কি করা উচিত? সংক্ষেপে পুরা বিষয়টা এক কথায় বললে “আপনার ওয়েবসাইট ও কন্টেন্টকে ভিজিটর ফ্রেন্ডলি করুন অটোমেটিক তা সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করবে” কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি করতে গিয়ে ভিজিটর ফ্রেন্ডলি না করতে পারলে ওয়েবসাইট র‍্যাংক হারাবে। গুগলের নতুন এলগোরিদম আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে এখন থেকে সাইট র‍্যাংক করানো হবে আগের চেয়ে আরেকটু দীর্ঘমেয়াদি পক্রিয়া। গুগল কোর  এলগোরিদম আপডেট এর ফলে আরো বুঝা যাচ্ছে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এবার স্থান একদমই পাবে না।

পরিশেষে বলি

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি কয়েক মাসের পক্রিয়া, কোন শর্টকাট ব্যবহার করে ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করানো যায় না। গুগল কোর  এলগোরিদম আপডেট মে ২০২০ এর ফলে যারা দক্ষতা, অভিজ্ঞতা বা পরিশ্রম দিয়ে ওয়েবসাইট সাজিয়েছে তারাই পুরস্কৃত হলো। যাদের র‍্যাংক পতন রয়েছে তাদেরও অনুধাবণ করার সময় এসেছে আরো ভালো কন্টেন্ট তৈরি করে কি করে র‍্যাংক পাওয়া যায়। গুগলের আপডেটেড গাইডলাইনগুলো মেনে চলুন সাইট র‍্যাংক করবেই।

এই বিষয়ে আপনার মতামত বা প্রশ্ন নিঃসংকোচে আমাদের কমেন্ট করে জানান।