fbpx
+8801676386302 info@backenddigital.com
ফেসবুক এড ও মার্কেটিং এর ১০ টি প্রশ্নের উত্তর যা জানা আবশ্যক

ফেসবুক এড ও মার্কেটিং এর ১০ টি প্রশ্নের উত্তর যা জানা আবশ্যক

বিগত কয়েক বছরে ফেসবুক পেজ কেন্দ্রিক অনেক ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে । অপ্রিয় হলেও সত্য যে বেশিরভাগ বুস্ট বা এড রান করা হয় থার্ড পার্টি এজেন্সির মাধ্যমে। কিন্তু আপনি নিজে ফেসবুক এড বুস্ট করেন কিংবা থার্ড পার্টির মাধ্যমে বুস্ট করেন না কেন, বেসিক ফেসবুক মার্কেটিং পলিসি ও ফেসবুকের এলগোরিদম জানা আবশ্যক। নয়তো দেখা যাবে আপনি টাকা খরচ করেছেন কিন্ত ভাল রিচ বা সেলস কোনটাই পাচ্ছেন না। কিংবা রিচ পেলেও সেলস পাচ্ছেন না।

ফেসবুক এড রান করেছেন কিন্তু রিচ পাচ্ছেন না?

রিচ আসছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অর্ডার পাচ্ছেন না?

তাহলে এই পোষ্ট আপনার জন্য।

ফেসবুকে রিচ / অর্ডার না আসার অনেক কারন থাকতে পারে। যেকোনো এড রান করার আগে আপনাকে বেসিক কিছু বিষয় অবশ্যই জানতে হবে। বুস্ট করলেই ধুমধাম অর্ডার আসবে একথা মোটেও ঠিক নয়। আপনার কৌশল ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে যদি ফেসবুকের বিধি-বিধান বা ফেসবুকের এলগোরিদম মেনে এড রান করতে পারেন আশা করি ভাল রেজাল্ট পাবেন।

চলুন জেনে নেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর প্রধান পার্ট ফেসবুক সম্পর্কিত ১০ টি প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্ন ১ – কি করে সঠিকভাবে টার্গেট অডিয়েন্স সেট করবো?

আপনি অবশ্যই জানেন সব পন্য সবাই কিনবে না বা আপনি নিজেও সবার কাছে আমভাবে মার্কেটিং করবেন না। তাহলে অবশ্যই একশ্রেণীর ক্রেতা আছে যারা আপনার পন্যটি কিনতে চায় বা আপনিও সেই ক্রেতাশ্রেণীকে খুঁজে বের করতে চান। উদাহরণস্বরূপ ধরে নিলাম আপনার প্রোডাক্ট হলো পাঞ্জাবি। এবার আসুন দেখে নেই কিভাবে টার্গেট কাস্টমার সেট করবেন-  

Location – কোন এলাকাতে এডস ফেসবুক কাষ্টমার কে দেখাবে। মনে করুন আপনি শুধু ঢাকা সিলেক্ট করলেন তাহলে ফেসবুক শুধু ঢাকার মানুষকেই এডস শো করবে। আপনি সাধারণত যে লোকেশনে যথাসময়ে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিতে সক্ষম শুধুমাত্র সেই লোকেশনই টার্গেট করা উচিত। লোকাল ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ড্রপ পিন দিয়ে টেনে অবশ্যই লোকেশন সিলেক্ট করতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে ড্রপ পিন দিয়ে কোন এরিয়া এক্সক্লুডও করতে পারেন। (অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন এরিয়ার মধ্যে আপনি যদি এড দেখাতে না চান)

Age – আপনার কাষ্টমার এর বয়স কত অর্থাৎ আপনার পাঞ্জাবিগুলো কোন বয়সের কাস্টমার কিনতে পারে। ধরে নিলাম আপনার পাঞ্জাবিগুলো খুব গর্জিয়াস যা শুধু ইয়াংরাই পছন্দ করবে। তাহলে আপনি বয়স সেট করতে পারেন ১৮-৪৫ বছর।  

Gender – পাঞ্জাবি অবশ্যই ছেলেদের পোষাক, তাই এখানে আপনি শুধু Male সিলেক্ট করবেন। অনেকে বলতে পারেন মেয়েরাওতো গিফট দেওয়ার জন্য কিনতে পারে। কিন্ত সেজন্য Male + Female সিলেক্ট করলে বড় ভুল করবেন। কারণ এখানে ছেলেদের কনভার্সন রেট (এড দেখে কিনে ফেলা) অনেক বেশি হবে কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে কনভার্সন রেট কম হবে। ফলে আপনি Female দের টার্গেট করে যে পরিমাণ টাকা খরচ করবেন তা উঠে আসার সম্ভবনা নেই বললেই চলে।  

Interest – আপনাকে এখানে বেশ বিচক্ষণ হয়ে খুঁজে বের করতে হবে কারা আপনার পাঞ্জাবি পড়তে পারে? আগেই বলেছি আপনার পাঞ্জাবি ইয়াংদের টার্গেট করে করা। সেক্ষেত্রে আপনি ইন্টারেস্ট দিতে পারেন বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড যারা পাঞ্জাবি বিক্রয় করে যেমন, অঞ্জনস। এছাড়াও আপনি Male ফ্যাশন সম্পর্কিত বিভিন্ন ইন্টারেস্ট সিলেক্ট করতে পারেন ফলে যাদের Male ফ্যাশন সম্পর্কিত ইন্টারেস্ট আছে শুধু তাদের ফিডেই এডস দেখাবে।

Include – আপনার পাঞ্জাবি যেহেতু ছেলেদের পোশাক তাই আপনি Include এ মেনস ড্রেস সিলেক্ট করে দিতে পারেন।

Exclude – যাদেরকে আপনি এডস দেখাতে চান না তাদের Exclude করবেন। যেমন যারা এলরেডি প্রোডাক্ট কিনে ফেলেছে (who purchased products) তাদের Exclude করে দিতে পারেন। অনেকে আবার All Page Admins কে Exclude করে দেয়। যেন অন্য পেজের এডমিন আপনার ফেসবুক এড দেখে রিপোর্ট না করতে পারে।

কি করে সঠিকভাবে টার্গেট অডিয়েন্স সেট করবো

প্রশ্ন ২- ফেসবুক মার্কেটিং এর সেলস ফানেল কাকে বলে?

ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হলে সেলস ফানেল সম্পর্কে জানার বিকল্প নেই। এই সেলস ফানেলকে বলা হয় AIDA মডেল। যেখানে উপস্থাপন করা হয় কিভাবে একজন অডিয়েন্স কাস্টমারে পরিণত হয়।

AIDA এর পূর্ণরূপ (Awareness, Interest, Desire & Action)

ফেসবুক সেলস ফানেল

Awarness: প্রথমেই আপনাকে কাস্টমারের এটেনশন বা মনযোগ আকর্ষণ করতে হবে। সুন্দর পোস্ট ও সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে আপনি সহজেই কাস্টমারের মনযোগ আকর্ষণ করতে পারেন। ফলে কাস্টমার আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে অবগত হয়।

Interest: অডিয়েন্সের মনযোগ আকর্ষণ হলে এবার তাকে আপনার ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে ভিজিট করানোর প্রক্রিয়া হলো ইন্টারেস্ট। অডিয়েন্সের ইন্টারেস্ট থাকার ফলে সে আপনার ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইট ভিজিট করবে। এতে করে পণ্য বা সেবা ক্রয়ে তার আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

Desire: এ পর্যায়ে অডিয়েন্স প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কিনতে আগ্রহী হয় কিন্তু কিনবে কিনা পুরোপুরি শিওর হতে পারে না। প্রডাক্টের রিভিউ দেখা বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সে সংগ্রহ করে ও বেস্ট অফারটা সে খুঁজে বের করতে চেস্টা করে। এ পর্যায়ের এড গুলো অডিয়েন্সকে সিদ্ধান্তহীনতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

Action: একশন হলো একজন অডিয়েন্সকে কাস্টমারে পরিনত করার সর্বশেষ স্তর। এক্ষেত্রে ফেসবুকের কল টু একশন বাটনগুলো ব্যবহৃত হয়, যেমন Book Now, Download, Shop, Contract ইত্যাদি। এসব বাটনের ব্যবহার করে একজন অডিয়েন্স অর্ডার সম্পাদন করে ক্রেতাতে পরিণত হয়।

প্রশ্ন ৩- ফেসবুকে আমার প্রতিযোগী ব্যবসায়ী সম্পর্কে কি করে ধারণা নিতে পারি?  

আপনার প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের (Competitor Business) মধ্যে কি গোয়েন্দাগিরি করতে চান? জানতে চান প্রতিযোগীরা-  

– পেজে এই মুহূর্তে কোন এডস রান করছে?  
– কোন ক্যাটাগরির এডস এই মুহূর্তে রান করছে?  
– এই মুহূর্তে এডস গুলোর রেসপন্স কেমন হচ্ছে?  
– এই মুহূর্তে কোন প্রোডাক্টগুলোর প্রমোশন চলছে?  
– এই মুহূর্তে একসাথে কতগুলো এডস রান করছে?  

দারুন একটা ব্যাপার, তাই না? এই বিষয়গুলো জানতে ফেসবুকের একটি ইজি টুল ব্যবহার করতে পারেন।
Facebook Ads Library

এই লিংকে প্রবেশ করে আপনার প্রতিযোগী পেজের নাম লিখবেন আর পেয়ে যাবেন তাদের ফেসবুক এড বিষয়ক তথ্য। সে অনুযায়ী তাদের এডস থেকে আপনিও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এখন আপনার কোন ধরণের এড রান করা উচিত।

প্রশ্ন ৪- অন্যের কন্টেন্ট কপি করে ফেসবুক এড রান করলে কি ঠিক?   

অন্যের কন্টন্ট কপি করে ফেসবুক এড রান করা মোটেও উচিত নয়। আপনি যদি বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর এডের দিকে লক্ষ রাখেন তবে দেখবেন তারা কখনো কপি পেস্ট করে পোস্ট করে না। যদিও ফেসবুক কপিরাইট বিষয়টি গুগল বা ইউটিউবের মত কঠোরভাবে অনুসরণ করে না। ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও কপি করা কপিরাইটের সমস্যা করে, যা টেক্সটের ক্ষেত্রে করে না। কিন্ত কপি পেস্ট কন্টেন্ট দিয়ে এড রান করলে বেশ কিছু অসুবিধা হতে পারে-   

– অডিয়েন্স যদি অরিজিনাল কন্টেন্ট খুঁজে পায় তবে আপনাকে ফেক মনে করবে ফলে আপনার ব্যবসায়ের গ্রহনযোগ্যতা হারাবে।

– আপনি যার কন্টেন্ট কপি করছেন সে আপনার এডে বা পেজে রিপোর্ট করে দিতে পারে।  

প্রশ্ন ৫- কোন সময়ে ফেসবুক এড রান করা উচিত?  

সেই সময়ে ফেসবুক এড রান করুন যখন ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে বেশি এক্টিভ। ফেসবুকে এড রান করার সময় মাথায় রাখতে হবে আপনার ক্লায়েন্ট কি ভোক্তারা নাকি ব্যবসায়ীরা।

যদি আপনার ক্লায়েন্ট আম জনতা বা ভোক্তারা হয় তবে এড রান করতে পারেন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত। ছুটির দিনে এড রান করেও ভাল ফলাফল পাবেন। কারণ এইসময়ে ভোক্তারা ফেসবুকে বেশি এক্টিভ।  

যদি আপনার ক্লায়েন্ট ব্যবসায়ীরা হয় মানে আপনি B2B ব্যবয়ায় করেন তবে এড রান করা উচিত সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টার মধ্যে, কারন এটা অফিস টাইম। আর B2B ব্যবসায়ের এড বন্ধের দিন রান করাই উচিত।

এড ছাড়াও ফেসবুকে নরমাল পোস্ট গুলো যদি এই টাইমে করতে পারেন তবে রিচ ভালো পাবেন।

প্রশ্ন ৬- কোন ধরণের পোস্টকে বুস্ট করা উচিত?    

অবশ্যই সেই পোস্টগুলো বুস্ট করা উচিত যে পোস্টের অরগানিক রিচ বেশি, অর্থাৎ অর্থ ব্যয় না করেই যে রিচ পাওয়া যায় তাকে অরগানিক রিচ বলে। এর মানে আপনাকে আগে পোস্ট করে দেখতে হবে পোস্টের রিচ কেমন হচ্ছে। যদি পোস্টের রিচ ভাল হয় তবে সে পোস্টটিকে বুস্ট করতে পারেন। এর কারণ হচ্ছে ফেসবুক চায় এর ইউজাররা তাদের পছন্দসই পোস্টগুলো বেশি বেশি যেন পায়। সুতরাং যে পোস্ট ইউজাররা লাইক করে সে পোস্টের রিচ ফেসবুকই বেশি করে দেয়।

প্রশ্ন ৭- ফেসবুকের Text overlay নিয়মটি কি এবং ইমেজে ২০% টেক্সট রুলস মানা কি আবশ্যক?    

ফেসবুকের Text Overlay রুলসটি হলো আপনি যখন কোন পোস্ট বুস্ট করবেন তখন সেই পোস্টের ইমেজে ২০% এর বেশি টেক্সট বা লিখা থাকা যাবে না। সম্প্রতি ২০২০ সালে, ইমেজে ২০% টেক্সট রাখার রুলসটি ফেসবুক বাতিল করেছে। ফলে এখন যেকোন টেক্সটের ইমেজ দিয়েই এড রান করা যাবে। তবে পোস্টের সৌন্দর্য ও গ্রাহক আকৃষ্ট করতে টেক্সটে ২০% এর বেশি ইমেজ না দেওয়াই ভালো।

অনেকেই এক্ষেত্রে যুক্তি দেখান যে, ইমেজে বেশি টেক্সট থাকলে বেশি ইনফরমেশন দেয়া যায়। আসলে আপনার ইনফরমেশন দিতে হবে পোস্টের টেক্সটে কিন্তু ইমেজের টেক্সটে নয়।

প্রশ্ন ৮- ফেসবুকের পলিসি অনুযায়ী কোন ধরনের ফেসবুক এড রান করা উচিত নয়?

  

ফেসবুকের পলিসিতে বেশ কিছু বিষয়ের উপর নিষেধজ্ঞা আছে সেগুলো হলো- এলকোহল (মদ), জুয়াখেলা, লটারি, বিটকয়েন বা ক্রিপটোকারেন্সি, পর্ণগ্রাফি বা এডাল্ট কন্টেন্ট, সাবস্কিপশন পলিসি (মাসিক বা বাৎসরিক), মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (যেমন ডেশটিনি), অস্ত্র, অবৈধ প্রোডাক্ট বা সেসব বিষয় ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এর বিপক্ষে যায় ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৯- বুস্ট ছাড়াও কোন ধরণের পোস্ট নিয়মিত করা উচিত?

 

আপনি যদি সবসময় একই ধরণের পোস্ট করেন তবে রিচ পাবেন না। বিভিন্ন সময়ে ভিন্নধর্মী পোস্ট করুন ও পোস্টে বৈচিত্রতা আনুন। আপনার পোস্টগুলো এমন হওয়া উচিত যেন অডিয়েন্স আলোচনার সুযোগ পায়। মনে রাখবেন পোস্টে যত বেশি অডিয়েন্সের ইনভলবমেন্ট থাকবে তত বেশি রিচ হবে ও পেজের অরগানিক লাইক বাড়বে।

প্রশ্ন ১০- ফেসবুকের পিক্সেল বলতে কি বুঝায় ?   

ফেসবুকের পিক্সেল হলো একটা কোড যেটি আপনার ওয়েবসাইটে বসালে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিটরদের সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিবে। মনে রাখবেন এই তথ্যগুলোতে কোন অডিয়েন্সের নাম থাকবে না। তবে অডিয়েন্সের বিহেভিওর বা আচরণগত বেশ কিছু তথ্য পাবেন। আর এই তথ্যগুলো আপনি ব্যবহার করবেন অডিয়েন্সকে রি টার্গেট বা পুনরায় টার্গেট করার জন্য। রি টার্গেটের জন্য প্রথমত আপনাকে পিক্সেল ডাটা থেকে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। এর ফলে আপনি একই রকম বা সিমিলার অডিয়েন্স (লুকএলাইক) তৈরি করে ফেসবুক এড রান করলে সেই এডটি বেশ কার্যকর হয়।

সকল বিষয়ের তথ্যসূত্র Facebook Advertising Policy

পরিশেষে বলি

ফেসবুক এড ও মার্কেটিং এর আদ্যোপান্ত একটি আর্টিকেলে লিখা অসম্ভব। আমরা চেস্টা করেছি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ১০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে। সেজন্য আপনি আমাদের অন্য পোস্ট ফেসবুকের এলগোরিদম ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং পোস্ট দুটি পড়ে আসতে পারেন ভালো ধারণা পাবেন। আর অবশ্যই যেকোন প্রশ্ন না মন্তব্য আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখুন।

এসইও প্রকারভেদ – হোয়াইট হ্যাট, গ্রে হ্যাট ও ব্ল্যাক হ্যাট এসইও

এসইও প্রকারভেদ – হোয়াইট হ্যাট, গ্রে হ্যাট ও ব্ল্যাক হ্যাট এসইও

এসইও প্রকারভেদ বলতে আমরা আলোচনা করবো, সাধারণত নৈকিকতার ভিত্তিতে এসইও প্রকারভেদ। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে হলে সার্চ ইঞ্জিনের বিধিবিধান বা নিয়ম কানুন জানা প্রয়জোন। কারন একটি সার্চ ইঞ্জিন তাদের সার্চ রেজাল্টে আপনার ওয়েবসাইটকে স্থান দিবে কিনা তা অনেকাংশেই নির্ভর করে সেই সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম কানুন বা এলগোরিদম মেনে চলার উপর। আজকে আমরা আলোচনা করবো বিধিবিধান অনুযায়ী সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের বা এসইও প্রকারভেদ।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের বা এসইও প্রকারভেদ

বিধিবিধান অনুযায়ী বলি তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এসইও প্রকারভেদ তিন প্রকার।

  • হোয়াইট হ্যাট এসইও
  • ব্ল্যাক হ্যাট এসইও
  • গ্রে হ্যাট এসইও

হোয়াইট হ্যাট এসইও

হোয়াইট হ্যাট এসইও হচ্ছে নৈতিক, ভাল ও সুন্দর এসইও। আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন এর আইন কানুন মেনে আপনার ওয়েবসাইটকে এসইও করেন তবে তাই হবে হোয়াইট হ্যাট এসইও।  

  • Google Search Console (Webmaster Tool) এ বেশ কিছু গাইডলাইন উল্লেখ্য করা আছে। এর মধ্যে কিছু গাইডলাইন হচ্ছে Best Practice যা পালন করলে আপনি সার্চ রেজাল্টে ভালো ফলাফল পাবেন অর্থাৎ আপনার সাইটের ভালো এসইও হবে। অর্থাৎ কেউ যদি এই গাইডলাইন মেনে তার ওয়েবসাইটের এসইও করে থাকে তবে তা হোয়াইট হ্যাট এসইও বলে গণ্য হবে।
  • হোয়াইট হ্যাট এসইও করলে আপনি দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক পাবেন না, কিন্তু যখন আপনি র‍্যাংক পাবেন তখন তা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
  • ভিজিটরের চাহিদা অনুযায়ী হোয়াইট হ্যাট এসইও করা হয়ে থাকে। কারন গুগল যেই ওয়েবসাইটকেই বেশি পছন্দ করে যেটি যত বেশি User Friendly.
  • যারা পার্মানেন্ট ব্যবসা করেন তাদের অবশ্যই হোয়াইট হ্যাট এসইও করা উচিত।
  • হোয়াইট হ্যাট এসইও এর কোন শর্টকাট নেই, অন্তত ৩ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।  
  • ইউনিক কন্টেন্ট ও ওয়েবসাইটের সকল তথ্যের রেফারেন্স দেওয়া থাকে সেটা ইন্টারনাল লিংক বা এক্সটারনাল লিংক ব্যবহার করে।
  • কাস্টমার বা অডিয়েন্স সেচ্ছায় ক্লিক করে বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে।

হোয়াইট হ্যাট এসইও এর কন্টেন্ট ও ইমেজগুলো থাকে ইউনিক। হোয়াইট হ্যাট এসইও করতে চাইলে কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ধারণা থাকলে খুবই ভাল। অপরদিকে ভিডিও বা ইউটিউব এসইও করতে চাইলে ইউটিউব বা ভিডিও মার্কেটিং এর ধারণা থাকা প্রয়োজন।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও  

সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন না মেনে দ্রুত র‍্যাংক পাওয়ার জন্য যে কৌশলের অবলম্বন করা হয় তাই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও।

  • ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে দ্রুত র‍্যাংক করানো যায়।
  • ওয়েবসাইটের ভিজিটর দ্রুত বৃদ্ধি করা যায় ব্ল্যাক হ্যাট এসইও ব্যবহার করে।
  • বিভিন্ন ডুপ্লিকেট বা কপি করা কন্টেন্ট আর্টিকেল রি-রাইটার বা বিভিন্ন সফটওয়ারের মাধ্যমে নতুন করে লিখা হয়।
  • হিডেন লিংক ব্যবহার করা হয় ক্লিক পাওয়ার জন্য।
  • বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটে URL Redirect বা হিডেন লিংকের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়।
  • অপ্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দ্বারা ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করানো হয়।
  • পুরা আর্টিকেলে কি ওয়ার্ড স্টাফিং করা থাকে। অর্থাৎ বেশি বেশি কি ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয় র‍্যাংক পাওয়ার জন্য।
  • ইমেজ এর এল্টার টেক্সটে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভিন্ন কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়।
  • এংকর টেক্সটে অডিয়েন্সকে অপ্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়।
  • মিথ্যা বা ভুল হেডলাইন দিয়ে অডিয়েন্সকে অয়েবসাইটে নিয়ে আসা হয়, হেড লাইনের সাথে আর্টিকেলের কোন মিল থাকে না।
  • বিভিন্ন ব্যাকলিংক তৈরির পদ্ধতিগুলো অডিয়েন্সকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা হয়, যেমন মিচ্যুয়াল কন্টেক্সচুয়াল লিংক উভয়ে একমত হয়ে স্প্যামিং করলো।
  • টাকার বিনিয়মে বা নিজেরা ফেক রিভিউ দেয়া।
  • কম্পিটিটরদের নেগেটিভ এসইও করা বিভিন্ন লিংক বিল্ডিং এর মাধ্যমে।
  • ব্ল্যাক হ্যাট এসইও সার্চ ইঞ্জিনের আইন বিরুদ্ধ তাই যেকোনো সময় সার্চ ইঞ্জিন ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করা ওয়েবসাইটকে ব্লক করে দিতে পারে। ফলে ওয়েবসাইটটি আর সার্চ রেজাল্টে প্রকাশিত হবে না।
  • যার সল্প সময়ের জন্য কোন ব্যবসা করবে বা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন ব্যবসা করবে তারা সাধারণত ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে থাকে। যেমন কোন একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসা করবে ও বিশ্বকাপ শেষে ব্যবসা বন্ধ করে দিবে তারা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করতে পারে।

গ্রে হ্যাট এসইও

সার্চ ইঞ্জিনের কিছু গাইডলাইন ফাঁকি দিয়ে, বা ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে যদি সে অনুযায়ী এসইও করা হয় তবে তা হবে গ্রে-হ্যাট এসইও। যেমন গুগল প্রায়ই এর এলগোরিদম চেঞ্জ করে, এসব চেঞ্জের সাথে পরিচিত হয়ে প্রতিটি এলগোরিদম থেকে গ্যাপ করে এসইও করাই হচ্ছে গ্রে-হ্যাট এসইওর কাজ। সহজ বা ইজি দুটি গ্রে হ্যাট এসইও হচ্ছে এক্সপায়ার্ড ডোমেইন কিনে প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ারকিং করা ও নিজেরা ওয়েব ২.০ ওয়েবসাইট তৈরি করা। খুব এক্সপার্ট না হলে কখনোই গ্রে হ্যাট এসইও করতে যাওয়া উচিত হবে না। কারন গুগুল যদি পেনাল্টি দিয়ে ওয়েবসাইটকে ব্লক করে দেয় তাহলে ওয়েবসাইটের মালিক কোম্পানি বিশাল লসের সম্মুখীন হবে।

পরিশেষে বলি

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি বিশাল অধ্যায়। এই আর্টিকেলে আমরা শুধু এসইও এর ধরনগুলো আলোচনা করলাম। আমাদের সাইটে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতিটা অধ্যায়ের উপর পর্যাপ্ত আর্টিকেল পাবেন, ইনশা’আল্লাহ। আপনার যেকোনো প্রশ্ন থাকলে বা মন্তব্য থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখুন।

কন্টেন্ট মার্কেটিং কি ও কিভাবে কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে হবে?

কন্টেন্ট মার্কেটিং কি ও কিভাবে কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে হবে?

কন্টেন্ট মার্কেটিং কি?

সূক্ষ পরিকল্পনা ও সৃজনশীলতার, মাধ্যমে একটি বিষয়বস্তু বা কন্টেন্ট তৈরি করে তা টার্গেট কাস্টমারদের কাছে প্রমোশন করার নামই হলো কণ্টেন্ট মার্কেটিং। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছে কন্টেন্ট । কেননা, ভাল কন্টেন্ট তৈরি করা সম্ভব না হলে, শুধু প্রমোশন করে কাস্টমার রিচ করা সম্ভব হবে না। কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু যদি প্রাসঙ্গিক না হয় তবে কোন মিডিয়াতেই মার্কেটিং ফলপ্রসূ হবে না। ব্লগ, ওয়েবসাইট, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া সব যায়গাতেই এখন কন্টেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ন মার্কেটিং এর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু মার্কেটিং কেন প্রয়োজন?

আপনি যেকোনো প্রমোশনই করেন না কেন সবকিছুতে কন্টেন্ট লাগবেই। আপনি কাস্টমারদের ইমেইল করবেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিবেন বা ব্লগে আর্টিকেল লিখবেন অবশ্যই সুন্দর একটি কন্টেন্টের প্রয়োজন হবে এবং এটির মার্কেটিং করতে হবে। মানুষ এখন এড পছন্দ করে না, অনেকেই আবার এড ব্লকার সফটওয়্যার ব্যবহার করে। যারা এড ব্লকার ব্যবহার করে না তারাও কিন্তু এডে ক্লিক করে না। ফলে এড দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট না করে কন্টেন্ট দিয়ে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করাই কন্টেন্ট বিপণন বা মার্কেটিং এর মূলকথা। ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রাণ বলা যায় কন্টেন্টকে।

  • আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে কাস্টমারদের জানাতে কন্টেন্ট বিপণন বা মার্কেটিং অপরিহার্য ভুমিকা পালন করে।
  • কাস্টমাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে আকর্ষণীয় কন্টেন্টের বিকল্প নেই।
  • কাস্টমারদের বিভিন্ন সমস্যা, কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট সমাধান করতে পারে, তা বুঝাতে কন্টেন্ট বিপণন বা মার্কেটিং অত্যাবশ্যক।  
  • আপনার ব্যান্ড ভ্যলু বাড়াতে এবং আনুগত্যশীল কাস্টমার তৈরি করতে প্রয়োজন ভালো মানের কন্টেন্ট ।
  • বিজ্ঞাপন, ইমেইল মার্কেটিং, ফেসবুক বুস্ট, ইউটিউব ভিডিও সবকিছুতেই প্রয়োজন আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য কন্টেন্ট।
  • একটি ভালো কন্টেন্ট অডিয়েন্সকে ভিজিটর থেকে কাস্টমারে রূপান্তর করতে পারে।  

কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি ও মার্কেটিং এর কৌশল

সব প্রতিষ্ঠানই কন্টেন্ট ব্যবহার করে কিন্ত কার কন্টেন্ট মার্কেটে জনপ্রিয়তা পাবে বা অডিয়েন্সের প্রয়োজন পূরণ করবে তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন একটি পরিকল্পিত কন্টেন্ট বিপনন বা মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি।

অডিয়েন্সের পছন্দ অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি করা

অডিয়েন্স কি ধরণের কন্টেন্ট পছন্দ করে, কোন ধরনের কন্টেন্ট সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি শেয়ার হয়, অডিয়েন্স কোন ধরণের কন্টেন্টের প্রত্যাশা করে সে অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।

রেফারেন্সসহ তথ্যবহুল কন্টেন্ট তৈরি করা

যেকোন কন্টেন্ট তৈরি করতে হলে সেখানে রেফারেন্স বা তথ্যসূত্র ব্যবহার করলে অডিয়েন্সের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে কন্টেন্টটি তথ্যবহুল, নির্ভুল ও রেফারেন্সযুক্ত হতে হবে।

কন্টেন্ট রিসার্চ করে তৈরি করা

একটা বাস্তব সত্য কথা হচ্ছে পৃথিবীর বেশিরভাগ কন্টেন্টই লিখা হয়ে গেছে। যেমন আপনি যে শব্দ লিখেই গুগলে সার্চ করেন না কেন আপনি কন্টেন্ট পাবেন। সুতরাং এখন প্রয়োজন হবে –

  • প্রচুর কন্টেন্ট রিসার্চ করে ধারণা নেওয়া
  • বিদ্যমান কন্টেন্টের মন্দ দিক বা ঘাটতি বের করা
  • ভাল কন্টেন্ট যারা প্রকাশ করে তাদের ফলো করা
  • কোন ধরনের কন্টেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি শেয়ার হয়
  • কন্টেন্ট এর কিওয়ার্ড রিসার্চ করা অর্থাৎ গ্রাহক কোন ধরণের কন্টেন্ট সার্চ করে তা খুঁজে বের করা

ওয়েব এনালাইটিক্স ব্যবহার করা

ভাল মানের কন্টেন্ট তৈরি করতে হলে অবশ্যই ওয়েব এনালাইটিক্স ব্যবহার করতে হবে, হতে পারে তা Google Analytics বা Facebook Analytics. এক্ষেত্রে বুঝা যাবে কোন কন্টেন্টের রিচ বেশি বা ওডিয়েন্সের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।

কন্টেন্ট চ্যানেল সিলেক্ট করা

বিভিন্ন ধরনের চ্যানেলের জন্য আলাদা আলাদা কন্টেন্ট মার্কেটিং করা উচিত। অডিয়েন্সের চাহিদা, সময়, আগ্রহ, বয়স, অবস্থান ইত্যাদি বিবেচনা করে টার্গেট অডিয়েন্সকে তার ব্যবহৃত চ্যানেলে মার্কেটিং করতে হবে।

এসিও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট তৈরি

সার্চ ইঞ্জনে কেউ সার্চ করলে যদি আপনার কন্টেন্টকে খুঁজে না পায় তবে কন্টেন্ট তৈরি করা অর্থহীন হয়ে যাবে। তাই আপনার কন্টেন্টকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে হবে। সেক্ষেত্রে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। বিস্তারির জানুন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

মানসম্পন্ন কন্টেন্ট তৈরি

  • কন্টেন্ট অন্য কারো থেকে কপি করা যাবে না এতে এসিও র‍্যাংকিং পাওয়া যাবে না ও কাস্টমারের গ্রহনযোগ্যতা পাওয়া যাবে না।
  • কন্টেন্টের টাইটেল ও মেটা ডেসক্রিপশন আকর্ষণীয় হতে হবে।
  • ব্লগ কন্টেন্টের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করতে হবে যেন বিষয়বস্তু ফুটে উঠে।
  • কন্টেন্ট গোছানো ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের হতে হবে।

কন্টেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরি

নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে, সেক্ষেত্রে একটা শিডিউল করে রাখা যেতে পারে, সপ্তাহে কয়টি কন্টেন্ট কোন সময়ে কে পাবলিশ করবে। অনেক্ষেত্রে দেখা যায় কখনো নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ হয় আবার কখনো দীর্ঘদিন কন্টেন্ট পাবলিশ হয়। কন্টেন্ট পাবলিশের মধ্যে যেন ধারাবাহিকতা থাকে সেজন্য কন্টেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করতে হবে।

মার্কেট সেগমেন্ট (বিভক্তিকরণ) করা

পেশা, অবস্থান, বয়স, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। যেমন বাচ্চাদের জন্য যে কন্টেন্ট সেটি অবশ্যই বয়স্কদের জন্য মানানসই হবে না।

কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

সব ধরণের কোম্পানির জন্য কন্টেন্ট এর মার্কেটিং একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাল মানের কন্টেন্ট তৈরি করতে প্রয়োজন প্রচুর মেধাশ্রম। এখন প্রশ্ন আসে কি করে কন্টেন্ট এর মার্কেটিং এ সফল হওয়া যায় আর সফল হতে হলে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত। তাই আমরা আলোচনা করবো কন্টেন্ট মার্কেটিং এর প্রকারভেদ নিয়ে।

বিভিন্ন চ্যানেলে বিভন্ন ধরণের কন্টেন্ট নিয়ে মার্কেটিং করা যার। সেক্ষত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার ভিজিটর কোন কোন প্ল্যাটফর্মে বেশি ভিজিট করে। এখন আমরা বেশ কিছু প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট বিপনন বা মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করবো। অনালাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন স্থানে কন্টেন্ট ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

কন্টেন্ট মার্কেটিং
কন্টেন্ট মার্কেটিং এর প্রকারভেদ
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ব্লগ
  • ভিডিও
  • ইমেইল
  • ইনফোগ্রাফিক্স
  • পডকাস্ট
  • ই-বুক
  • প্রেজেন্টেশন
  • প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন ইত্যাদি 

সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট

বিশ্বের প্রায় ৩৭০ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, হতে পারে তা ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরণের সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন, ফেসবুকে ভাইরাল কন্টেন্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ফেসবুক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ভিজিটরদের শিক্ষা, সচেতন করা, আনন্দ দেয়া, নিউজ শেয়ার করা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট ব্যবহৃত হয়। সব বয়সী সব ধরণের মানুষই ফেসবুক ব্যবহার করে। কিন্ত টুইটারে ছোট ছোট টুইট বেশি ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে আনন্দ দান ও অল্প কথার ব্যপকতা প্রকাশ পায়। অপরদিকে লিঙ্কডইন হচ্ছে প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক যেখানে শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেয়ে পেশাগত যোগাযোগই প্রাধান্য পায়।

সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট

তাহলে বুঝা যাচ্ছে একেক ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ার একেক ধরণের অডিয়েন্স থাকে ফলে প্রত্যেকটি কন্টেন্ট সে অনুযাগী অডিয়েন্সের নিকট পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কন্টেন্ট তৈরি করার আগে সেই সোশ্যাল মিডিয়ার অডিয়েন্সদের আচরণ বুঝতে হবে। এজন্য কন্টেন্ট প্রস্তুতকারকে অবশ্যই বেসিক সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং জানতে হবে।

ব্লগ কন্টেন্ট

কাস্টমারদের কাছে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার জন্য ব্লগ কন্টেন্ট এর বিকল্প নেই। ব্লগ পোস্টগুলো এমন হওয়া উচিত যেন ভিজিটরা শিক্ষামূলক, জ্ঞানমূলক, প্রোডাক্ট সম্পর্কিত তথ্য ইত্যাদি পেয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে ব্লগ এমন একটা প্লাটফর্ম যা পাঠক থেকে কাস্টমারে পরিনত করতে পারে। ব্লগের মাধ্যমে একটি কোম্পানির কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক জোরদার হয় ও ব্র্যান্ডভ্যালু বৃদ্ধি পায়।

ব্লগে কন্টেন্ট প্রকাশ করার পর তা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অন্য ব্লগের সাথে লিংকিং করে ও সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ার করে ব্লগের কন্টেন্ট মার্কেটিং করা হয়ে থাকে।

ভিডিও কন্টেন্ট  

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বর্তমান সময়ে মানুষ ব্লগ পড়ার চেয়ে ভিডিও দেখতে বেশি আগ্রহী। অন্যান্য সকল মাধ্যম হতে ভিডিও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও সহজতর অডিয়েন্সের কাছে। দীর্ঘসময় ধরে আর্টিকেল পড়ার চেয়ে ভিডিও কন্টেন্ট সল্প সময়ে অধিকতর বেশি ফলপ্রসূ তথ্য প্রদান করতে পারে। ইউটিউবে প্রতিদিন ১০০ কোটি ঘন্টা ভিডিও দেখা হয়, ফলে অডিয়েন্সকে আকৃষ্ট করতে ভিডিও কন্টেন্ট মার্কেটিং এর বিকল্প নেই। বিস্তারিত পড়ুন ইউটিউব বা ভিডিও মার্কেটিং

ইমেইল ট্যামপ্লেট

ইমেইলের মাধ্যমে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইমেইল ট্যামপ্লেট ব্যবহার করতে হবে। ইমেইল ট্যামপ্লেটে সংক্ষেপে কাস্টমারদের পণ্য বা সেবা গ্রহণের আহবান জানানো হয়। ইমেইল ট্যামপ্লেটে টার্গেট কাস্টমারদের বিভিন্ন অফার, ফিচার, আপডেট ইত্যাদি জানানো হয়। বিস্তারিত পড়ুন ইমেইল মার্কেটিং

ইনফোগ্রাফিক্স


ইনফোগ্রাফিক্স কেবলমাত্র শব্দের চেয়ে ডেটা আরও চিত্র  জোরালোভাবে ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারে। ট্যাবল, চার্ট, গ্রাফ ইত্যাদি হলো ইনফগ্রাফিক্সের উদাহরণ। অডিয়েন্সকে সংক্ষেপে পুরো বিষয়বস্তু বুঝাতে ইনফোগ্রাফিক্সের বিকল্প নেই।

পরিশেষে বলি

কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু মার্কেটিং একটা বিশাল অধ্যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল উপজীব্য বিষয় এখন কন্টেন্ট। আমরা চেস্টা করেছি কন্টেন্ট মার্কেটিং এর মূল কথাগুলো তুলে ধরার। আপনার যেকোন প্রশ্ন না মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করবো?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করবো?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

কমিশনের ভিত্তিতে কোন কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা বিক্রয় করে দেয়াকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। যেমন বিশ্বব্যাপী Amazon, E-bay, Alibaba Express এমনকি বাংলাদেশের Daraz, Pickaboo, AjkerDeal ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট হয়ে মার্কেটিং করেও কমিশন অর্জন করা যায়। বলা যায় ডিজিটাল মার্কেটিং এর বাস্তবিক একটি প্রয়োগক্ষেত্র হলো অ্যাফিলিয়েট বা সম্বন্ধ মার্কেটিং।

অ্যাফিলিয়েট বা সম্বন্ধ মার্কেটিং এর সুবিধা কি?

– অ্যাফিলিয়েট হয়ে মার্কেটিং এমন একটি পেশা যা আপনাকে শিখতে সহায়তা করবে, আয় করাবে এবং আপনাকে একাগ্রভাবে নিয়োজিত রাখবে।

– এটি খুবই স্বল্প ব্যয়ে শুরু করা যায়।

– এটি একটি স্বাধীন পেশা, প্রতিদিন সময় দিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

– আয়ের কোন নির্দিষ্ট সিমা নেই, যত বেশি সেলস জেনারেট করতে পারবেন তত বেশি আয় করতে পারবেন।  

– নিজের কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রয়োজন পড়ে না, অন্যের প্রোডাক্ট বিক্রয় করে কমিশন পাওয়া যায়।

অ্যাফিলিয়েট বা সম্বন্ধ মার্কেটিং এ তিনটি পক্ষ কাজ করে-

  • মার্চেন্ট বা বিক্রেতা – যে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান পণ্য/সেবা বিক্রয় করে থাকে  
  • কাস্টমার বা ক্রেতা – যারা মার্চেন্টের সেই সকল পণ্য/সেবা ক্রয় করে থাকে
  • অ্যাফিলিয়েট বা প্রমোটার – তারা মার্চেন্টের তৈরিকৃত পণ্য/সেবা কাস্টমারের কাছে মার্কেটিং করে এবং কাস্টমার সেই পণ্য/সেবা কিনলে অ্যাফিলিয়েটরা মার্চেন্টদের নিকট হতে নির্দিষ্ট হারে কমিশন পায়।  
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন?

অ্যাফিলিয়েট হয়ে মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি বিবেচণা করতে হবে। একটি সুন্দর প্রমোশনের জন্য পলিসিও সুন্দর হওয়া আবশ্যক।

অ্যাফিলিয়েট রেজিস্ট্রেশন

অ্যাফিলিয়েট হয়ে মার্কেটিং করতে হলে যে মার্চেন্টের পন্য/সেবা আপনি বিক্রয় করবেন সে মার্চেন্ট আপনাকে একটি লিংক প্রদান করবে। প্রত্যেক অ্যাফিলিয়েট আলাদা আলাদা লিংক পাবে। সেই লিংকে গিয়ে কেউ যদি কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ক্রয় করে তবে তার কমিশন অ্যাফিলিয়েটের একাউন্টে জমা হবে।

বিভিন্ন মার্কেটিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ

মার্কেটিং করতে হলে অবশ্যই আপনার হাতে কিছু হাতিয়ার লাগবে, আপনার হাতিয়ারগুলো যত শক্তিশালী হলে আপনার বিক্রয় ঠিক ততটাই সহজ হবে। অ্যাফিলিয়েট হয়ে মার্কেটিং করতে হলে আপনার প্রয়োজন হবে-

– একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট

– একটি ইউটিউব চ্যানেল

– সোশ্যাল মিডিয়া পেজ (যেমন ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি)

ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ সবগুলোই যে বাধ্যতামূলক থাকা লাগবে ব্যাপারটি এমন নয়। তবে যত বেশি চ্যানেল বা মিডিয়া আপনার হাতে থাকবে তত বেশি মার্কেটিং এর সুযোগ আপনি পাবেন।

অনালাইন প্রমোশন বা ডিজিটাল মার্কেটিং

যেনে রাখা প্রয়োজন শুধু ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থাকলেই হবে না। প্রচুর ভিজিটরকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ভিজিটর না আসলে কখোনই সেলস বাড়বে না। আর ভিজিটর আনতে গেলে আপনাকে জানতে হবে বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং যেমন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং ইত্যাদি। অর্থাৎ আপনাকে করতে হবে-

– ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য ভাল মানের কন্টেন

– ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভাল মানের ভিডিও এবং

– সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়মিত পোস্ট

নিশ সাইট তৈরি করা

নিশ বলতে বুঝায় ক্যাটাগরি বা বিষয়বস্তু। অ্যাফিলিয়েট বা সম্বন্ধ মার্কেটিংয়ে বিভিন্ন কোম্পানির বহু ক্যাটাগরির অসংখ্য প্রোডাক্ট আছে। আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ক্যাটাগরির কোন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন। মনে রাখেবেন একসাথে অনেকগুলো ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করলে কোনটার মার্কেটিংই সঠিকভাবে করতে পারবেন না। যেমন ধরুন আপনি ইলেক্ট্রনিক্স ক্যাটাগরি সিলেক্ট করেছেন, সেখান থেকে আপনি টেলিভিশন হচ্ছে একটা নিশ। তাই আপনার এখন কাজ হবে যেকোন একটি নিশ সিলেক্ট করে উক্ত নিশ রিলেটেড একটি ওয়েবসাইট বানানো।  

মার্কেটপ্লেস ও প্রোডাক্ট সিলেকশন

অ্যাফিলিয়েট বা সম্বন্ধ মার্কেটিংয়ের অনেকগুলো মার্কেটপ্লেস আছে। আপনি সেখান থেকে যেকনো একটা মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারবেন। মনে রাখবেন একাধিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করার চেয়ে একটি মার্কেটপ্লেসে কাজ করাই উত্তম হবে।

বিগেনারদের জন্য কাজ শুরু করার জন্য বেস্ট মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ClickBank.com তা ছাড়াও আছে ClickBetter.com, Payspree.com, PayDot.com, ClickSure.com, VIPAffiliates.com, TwistDigital.com, LinkShare.com, Cj.com, ইত্যাদি । যে মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন সেই মার্কেটপ্লেস এর অফিসিয়াল YouTube চ্যানেল বেশ ভালো কিছু টিউটোরিয়াল পাবেন। এসব টিউটোরিয়াল আপনার কাজকে সহজ করে দিবে।

এবার আসি প্রোডাক্ট সিলেকশন। প্রোডাক্ট সিলেকশনের প্রতি আপানকে দেখতে হবে ঐ প্রোডাক্টে কমিশনের হার কত এবং প্রোডাক্টটি মার্কেটে বেশ ভালো চলছে কিনা। সুতরাং রিসার্চ করে বের করে ফেলুন কোন প্রোডাক্টগুলোর অনলাইনে কাটতি বেশি ও মানুষ নিয়মিত অনলাইন থেকে ক্রয় করে।

জানতে হবে বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং

আপনি কস্ট করে টাকাপয়সা খরচ করে ওয়েবসাইট বানালেন, ওয়েবসাইটের জন্য ইউনিক সব কন্টেন লিখলেন, ওয়েসসাইট ডিজাইন করলেন তাছাড়াও ইউটিউব ভিডিও বানালেন এবং সোশ্যল মিডিয়াতেও পেজ অপেন করলেন। কিন্ত কোন কিছুই কাজে আসবে না আপনি যদি এসব ওয়েবসাইট/ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়ার মার্কেটিং করতে না পারেন। কারন মানুষ আপনার চ্যানেলে না আসলে আপনি কার কাছে মার্কেটিং করবেন? তাই আপনার জানা উচিত-

ডিজিটাল মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

ইউটিউব মার্কেটিং

ইমেইল মার্কেটিং (অপশনাল)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কি পরিমাণ আয় করা সম্ভব?

এখানে কয়েকটি ব্যাপারের উপর ভিত্তি করে বলা যাবে আয়ের হার বা পরিমাণ কি রকম হবে। যেমন-

– প্রোডাক্টে কমিশনের হার কত

– প্রতি ইউনিট প্রোডাক্টের মূল্য কত

– আপনি কত ইউনিট প্রোডাক্ট সেল করতে পেরেছেন

– মোট বিক্রয়কৃত প্রোডক্টের মূল্য কেমন

অ্যামাজন কমিশন রেট

আমরা আগেই বলেছি আয়ের কোন লিমিট নেই, আপনি যত বেশি সেলস জেনারেট করতে পারবেন তত বেশি কমিশন পাবেন। অনেক মার্কেটার আছে হয়তো মাসে ৩-৪ লক্ষ টাকা আয় করে আবার কেউ এক টাকাও আয় করতে পারে না। সুতরাং পুরোটাই একটা আপেক্ষিক বিষয় ভাগ্যের তো বটেই।  

ধরা যাক, একটি পণ্যের মূল্য ২০,০০০ টাকা, বিক্রয়ের উপর কমিশনের হার ৫%। আপনার বিক্রয়ের পরিমাণ ১০০ ইউনিট।

তাহলে আপনার আয় হবে-

২০,০০০ × ১০০= ২০,০০,০০ × ৫% = ১,০০,০০০ টাকা।

অনলাইনে হাজারো অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে তাহলে অ্যামাজন কেন?

এক্ষেত্রে বলে রাখি অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের চেয়ে অ্যামাজনের কমিশনের হার কম। তারপরও মার্কেটাররা অ্যামাজনের উপর আস্থা রাখে। এর সহজ উত্তর হচ্ছে অ্যামাজন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ও গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহনীয় ও গ্রাহকদের একটা সফট কর্নার কাজ করে। ফলে অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের প্রোডাক্টের চেয়ে অ্যামাজনের প্রোডাক্ট বিক্রি হয় বেশি। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মার্কেটিং করলে দেখা যায় ট্রাফিক (ভিজিটর) যে পরিমানে আসে সে পরিমানে সেলস জেনারেট হয় না। কিন্ত অ্যামাজনের কনভার্সন রেট অনেক বেশি ফলে কম ট্রাফিকেও ভালো সেলস জেনারেট হয়।   

একটিভ ইনকাম বনাম প্যাসিভ ইনকাম  

ধরুন, আপনি ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ সবগুলোই তৈরি করে রানিং করে দিলেন। কোন মাসে আপনি মার্কেটিং না করলেও আপনার চ্যানেলগুলোতে ভিজিটর আসলো ও আপনার পন্য বা সেবা ক্রয় করলো তবুও আপনি কমিশন পাবেন।  

তথ্যসুত্রঃ জানতে ক্লিক করুন Affiliate Program Amazon

পরিশেষে বলি

অ্যাফিলিয়েট বা সম্বন্ধ মার্কেটিং শিখতে হলে প্রথম ৩ মাস ইউটিউব ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে ও বিভিন্ন আর্টিকেল পড়ে আইডিয়া নিন। সেক্ষেত্রে আমাদের ডিজিটাল মার্কেটিং ও অন্যান্য পোস্টগুলো পড়ে দেখতে পারেন। আর যেকোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে আপনি কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) কি?  এবং এসইও করার প্রক্রিয়া কি?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) কি? এবং এসইও করার প্রক্রিয়া কি?

কোন ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে নিয়ে আসার যে প্রক্রিয়া তাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলে। Google, Yahoo, Bing, Ask ইত্যাদি হলো সার্চ ইঞ্জিনের উদাহরন। ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি শক্তিশালি হাতিয়ার হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। সুনির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে সহজেই একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে নিয়ে আসা যায়। সেজন্য কোন অর্থ সার্চ ইঞ্জিনকে প্রদান করতে হয় না। তবে প্রত্যেকটি সার্চ ইঞ্জিনের কিছু এলগরিদম বা বিধিবিধান আছে। সেই এলগরিদমগুলো মেনে চললে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমদিকে আসা সম্ভব হয়। মনে রাখতে হবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কোন শর্টকাট নেই। কখনো কখনো কয়েক মাসের প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। সাধারণত ৩-৬ মাসের মধ্যে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের পথম পেজে নিয়ে আসা যায়। সেজন্য ধারাবাহিকভাবে কিছু বিষয়কে মেনে চলতে হয়।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন রুলস ও রেগুলেশনের (নিয়ম-নিতি) ভিত্তিতে ৩ প্রকার

হোয়াইট হ্যাট এসইও – যা সার্চ ইঞ্জিনের বিধিবিধান মেনে করা হয়

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও – যা সার্চ ইঞ্জিনের বিধিবিধান অমান্য করে অবৈধভাবে করা হয়

গ্রে-হ্যাট এসইও – যা সার্চ ইঞ্জিনের কিছু বিধান মানে ও কিছু বিধান ফাঁকি দিয়ে করা হয়

বিস্তারিত আলোচনা জানুন-  সার্চ ইঞ্জিনের প্রকারভেদ

নিচে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের পদক্ষেপগুলো বা এসইও চেকলিস্ট তুলে ধরা হলো ধারাবাহিকভাবে-

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  1. Google Search Console এ ওয়েবসাইটকে ইনডেক্স করাতে হবে।
  2. Google Analytics এ ওয়েবসাইটকে ইনডেক্স করাতে হবে।
  3. Yoast SEO ইন্টল করতে হবে। (শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীর জন্য)  
  4. কি ওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে (সেই কি ওয়ার্ডগুলো যেগুলো মানুষ Google এ সার্চ করে)  
    • Identify Low Competition Keywords with high search value
    • Identify Long tail keywords
    • Identify Local Keywords
    • Find Questions Keywords
  5. বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করুন ( Social Media এবং Questions Answers ওয়েবসাইটে) সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করুন
  6. যথাযথভাবে  On Page SEO করতে হবে।
    • Keyword Anchor texting
    • Use short URLs using post title
    • Set unique Title Tag
    • Set Unique Meta Tag
    • Sets Keywords in Meta Description & Title Tag
    • Use keywords in the content
    • Using H1, H2, H3, H4 Heading as or where necessary
    • Optimize Images & set Image Alter Texts
    • Use synonyms (LSI- Latent Symmetric Indexing) keywords
    • Use Internal & External Links
  7. Technical SEO এর নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে
    • Identify Crawl Errors (Those Pages cannot be found by Search Engines)
    • Find out How Google Views the Selected Page
    • Make Sure the website is responsive (PC, Tablet & Mobile friendly as well)
    • Fix broken Links (A Links which doesn’t work)
    • Secure the site using HTTPS (Ensure SSL Certificates)
    • Ensure website faster loading speed      
  8. কন্টেন্ট বা আর্টিকেলকে সুন্দরভাবে সাজাতে হবে
    • Select unique content for publishing
    • Use some content marketing formula
    • Use Schema Markup
  9. লিংক বিল্ডিং বা ব্যাক লিংক এর ধাপসমূহ মেনে চলতে হবে (Off Page SEO)
    • Use powerful backlinks (Guest Post, Broken Links, Web 2.0, Blog commenting etc.)
    • Analyzing Competitors Backlinks (Use Reserve Backlinks where competitors created backlinks) 
    • Become a podcast for backlinks
  10. সর্বদা পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করুন (Google Analytics এ) এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি সন্ধান করুন
এই চেকলিস্ট অনুসরণ করে আপনার ওয়েবসাইটটি অবশ্যই সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে র‌্যাঙ্ক করবে।

তথ্যসূত্রঃ জানতে ক্লিক করুন- এসইও চেকলিস্ট

পরিশেষে বলি

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি নিয়মতান্ত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদী পক্রিয়া। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করেছি খুব গুরুত্বপূর্ণ পক্রিয়াগুলোকে ( সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন চেকলিস্ট ) উপস্থাপন করার। কিন্তু এসইও এত বড় একটি অধ্যায় যা কখনোই একটি আর্টিকেলে লিখে শেষ করা যাবে না। কমেন্ট বক্সে আপনারা যে টপিকটি নিয়ে জানতে চান লিখুন, ইনশা’আল্লাহ সম্ভব হলে আমরা অন্য একটি পোস্টে তুলে ধরবো।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?  ও কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করবো?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ও কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করবো?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি

ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ডিজিটাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে মার্কেটিং বা বিপণন করা। যেমন ডিজিটাল মিডিয়ার মধ্যে রয়েছে Facebook, Google, YouTube, Twitter, LinkedIn ইত্যাদি। এসব ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে যথাযথভাবে কাস্টমারদের কাছে পন্য বা সেবার মার্কেটিং করাকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।

আপনি অবশ্যই চাইবেন কেউ Google সার্চ করে যেন আপনার ওয়াবসাইটকে প্রথম পৃষ্ঠায় দেখে কিংবা আপনার ফেসবুক বুস্ট যেন অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে, যাতে করে আপনার কোম্পানির পন্য বা সেবা অনেক বেশি বিক্রয় হয়। পাশাপাশি আপনার কোম্পানির প্রচারও সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এ যে বিষয়গুলো সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয় সেগুলো হলো

ডিজিটাল মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা (SEO)
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা (SMM)
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ভিডিও মার্কেটিং বা ইউটিউব মার্কেটিং
  • কনটেন্ট মার্কেটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বা (SEM)
  • ওয়েব এনালিটিক্স
  • CPA মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা (SEO)

কোন ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে নিয়ে আসার যে প্রক্রিয়া তাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলে। Google, Yahoo, Bing, Ask ইত্যাদি হলো সার্চ ইঞ্জিনের উদাহরন। সুনির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে সহজেই একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে নিয়ে আসা যায়। সেজন্য কোন অর্থ সার্চ ইঞ্জিনকে প্রদান করতে হয় না। তবে প্রত্যেকটি সার্চ ইঞ্জিনের কিছু এলগরিদম বা বিধিবিধান আছে। সেই এলগরিদমগুলো মেনে চললে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমদিকে আসা সম্ভব হয়। মনে রাখতে হবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কোন শর্টকাট নেই। কখনো কখনো কয়েক মাসের প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। বিস্তারিত পড়ুন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা (SEO)

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা (SMM)

বিভিন্ন অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট যেমন “Facebook“, “Twitter” “Instagram” “LinkedIn“ “Pinterest” ইত্যাদি ব্যবহার করে কোন পণ্য, সেবা বা ব্যবসায়ের মার্কেটিং করাকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে। আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেনা এমন লোক পাওয়া দুষ্কর। এমনকি স্কুলের বাচ্চা থেকে শুরু করে একজন বৃদ্ধ মানুষও এখন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। তাই সব বয়সী, সব পেশার, সব স্থানের মানুষের কাছে মার্কেটিং করতে সোশ্যাল মিডিয়ার বিকল্প নেই। বিস্তারিত পড়ুন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা (SMM)

ইমেইল মার্কেটিং

ইমেইল এর মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে পন্য বা সেবা ক্রয়ের আহ্বান জানানো বা কোন বিজ্ঞাপন প্রচার করাকেই ইমেইল মার্কেটিং বলে। আমাদের দেশে ইমেইল মার্কেটিং ততটা জনপ্রিয় না হলেও উন্নত বিশ্বে ইমেইল মার্কেটিং বিজ্ঞাপনের একটি জনপ্রীয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটিং ওয়েবসাইট যেমন “Mailchimp” “Awber” “Get Respone” ইত্যাদি ব্যবহার করে ইমেইল মার্কেটিং করা হয়ে থাকে। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কয়েক হাজার ইমেইল একই সাথে পাঠানো যায়। বিস্তারিত পড়ুন ইমেইল মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বিভিন্ন কোম্পানিরা কমিশন এর বিনিময়ে বিভিন্ন অনলাইন ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগে তাদের পন্য বা সেবা বিক্রয় করে দেয়াকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। যেমন “Amazon” “E-bay” “Alibaba” ইত্যাদি কোম্পানির পন্য বিক্রয় করে কমিশন অর্জন করা যায়। আর এই কমিশন নির্ভর করে বিক্রয়ের উপর। বিক্রয় না হলে কোম্পানি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারকে কোন কমিশন দিবে না। বিস্তারিত পড়ুন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ভিডিও মার্কেটিং বা ইউটিউব মার্কেটিং

ইউটিউবের চ্যানেল বানিয়ে বিভিন্ন পন্য বা সেবা বিক্রয় করা বা ব্যবসায়ের ব্রান্ডিং করাকেই ভিডিও মার্কেটিং বা ইউটিউব মার্কেটিং বলে । YouTube এ গিয়ে যেকোনো কোম্পানির বিষয়ে সার্চ করে তাদের official product বা service এর অনেক ভিডিও পাওয়া যায়। YouTube হলো Google এর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সার্চ ইঞ্জিন, যেখানে প্রতি দিন কোটি কোটি মানুষ ভিডিও দেখতে আসেন। তাই, যেকোনো পন্যের প্রমোশন (promotion) করার জন্য ভিডিও বানিয়ে YouTube এ প্রচার করা একটি কার্যকর ভিডিও মার্কেটিং এর উদাহরণ। বিস্তারিত পড়ুন ভিডিও মার্কেটিং বা ইউটিউব মার্কেটিং

কনটেন্ট মার্কেটিং

টার্গেট অডিয়েন্সে বা কাস্টমারদের কাছে তথ্যবহুল কন্টেন্ট (হতে পারে আর্টিকেল, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি) পৌছে দেয়ার মাধ্যমে তাদেরকে ব্যবসায়ের প্রতি আকৃষ্ট করাকেই কন্টেন্ট মার্কেটিং বলে। বিজ্ঞাপন অনেক সময় কাস্টমারদের আকৃষ্ট করে না তাই কাস্টমারদের কাছে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পন্য বা সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে কিংবা ইউটিউবে ভিডিও বানিয়েও কন্টেন্ট মার্কেটিং করা যায়। কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন অন্য কারো কন্টেন্ট কপি করা না হয়। বিস্তারিত পড়ুন কনটেন্ট মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বা (SEM)

আপনারা হয়তো অনেক সময় লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন Google search এর মাধ্যমে কিছু সার্চ করি, তখন প্রথম ২-৩ টি সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্টের মধ্যে আপনি বিজ্ঞাপন দেখবেন। এসব সার্চ রেজাল্টের নিচে ছোট্ট করে লিখা থাকে “Ad”

Google Ads দ্বারা গুগল সার্চ ইঞ্জিন বা অন্য অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়। অর্থাৎ কেউ Google কে টাকা প্রদান করেও প্রথম পেজে প্রথম দিকে কোম্পানির ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন দিতে পারে। আর এসব বিজ্ঞাপনে প্রতি ক্লিকের উপর চার্জ ধরা হয়।

ওয়েব এনালিটিক্স

আপনার ওয়েবসাইটে কতজন মানুষ ভিজিট করলো, কোন কোন অঞ্চল বা দেশের মানুষ আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করলো, কোন কোন কিওয়ার্ড দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক (ভিজিটর) আসলো, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কতজন ভিজিটর আসলো ইত্যাদি বিষয়ের যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে ওয়েব এনালিটিক্সে। সেজন্য আপনার ওয়েবসাইটকে অবশ্যই Google Analytics এ যুক্ত করতে হবে। ওয়েব এনালিটিক্স ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্যবসায়ের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করতে পারেন ও নতুন নতুন মার্কেটিং কৌশল নির্ধারণ করতে পারেন।

CPA মার্কেটিং

Cost Per Action (CPA) মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ক্রয়ের জন্য রেজিস্ট্রেশন বা সাইন আপ করাতে হয়। তাছাড়াও ওয়েবসাইট ভিজিট করানো, গেমস/এপ ডাউনলোড করানো ইত্যাদিও সিপিএ মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত। সিপিএ মার্কেটিং এ এফিলিয়েট এর মত পোডাক্ট বিক্রি করার প্রয়োজন হয় না। এখানে বিভিন্ন ধরনের অফার থাকে, কোন ভিজিটর যদি অফার শুধুমাত্র রেজিষ্টেশন বা সাইন আপ করে তাহলে প্রতিটি রেজিষ্টেশনের এর জন্য পেমেন্ট পাওয়া যাবে।

পরিশেষে বলি

ডিজিটাল মার্কেটিং একটি ব্যপক বিষয়, নতুনদের জন্য সবগুলো সেক্টর শেখা মোটেও উচিত নয়। আপনি এসইও জানেন বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা ইমেইল মার্কেটিং জানেন সফল হতে যে কোন একটি সেক্টরই যথেষ্ট। আর হ্যাঁ, সফল হতে হলে এক্সপার্ট হওয়ার বিকল্প নেই। আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।

আমাদের পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।