৭ আগস্ট ২০২৩ এসইওতে নতুন মেট্রিক চালু করলো MOZ। যদিও এটা শুধুমাত্র বেটা ভার্সনে আছে মানে ফুল রিলিজ হয়নি। এটা এখন শুধুমাত্র USA এর জান্য রিলিজ করেছে।
আমরা আগেই জানি ডোমেইন অথোরিটি, পেজ অথোরিটি ও স্প্যাম স্কোর নামে MOZ এর বেশ কিছু মেট্রিকস ছিল। এর সাথে তারা এখন এই নতুন মেট্রিকটি যুক্ত করেছে। এসইও নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকেরই এখন এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে ব্র্যান্ড অথোরিটি আসলে কি? এটা কিভাবে কাজ করে? এটা কি গুগলের কোন র্যাংকিং ফ্যাক্টর? কিভাবে আমাদের ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ড অথোরিটি বৃদ্ধি করতে পারি? এই সব প্রশ্নের উত্তর থাকবে আজকের ব্লগে।
ব্র্যান্ড অথোরিটি™ হল একটি MOZ-এক্সক্লুসিভ মেট্রিক যা 1 থেকে 100 স্কেলে ব্র্যান্ডকে পরিমাপ করে।
এখন কথা হচ্ছে, এসইও এর সাথে ব্র্যান্ড অথোরিটির সম্পর্ক কি?
আমরা সার্চ ইঞ্জিনে এমন অনেক কিওয়ার্ড পাই যেগুলো সম্পূর্ণভাবে একটা ব্র্যান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন “Pixel Phone” এটা লিখে কেউ সার্চ করলে অবশ্যই এখানে ব্র্যান্ড বলতে “Google” কে বুঝাবে। তেমনিভাবে “I-Phone” বা “Macbook” লিখে সার্চ করলে অবশ্যই Apple কে ব্র্যান্ড হিসেবে বুঝাবে।
একটু লক্ষ্য করে দেখুন, শুধুমাত্র Google বা Apple নিজেদের স্টোরে ডিভাইসগুলো বিক্রি করেনা। অসংখ্য ই-কমার্স শপেও কিন্তু এই ডিভাইসগুলো পাওয়া যায়। যেমন, Amazon, E-bay, Walmart এ কিন্তু ডিভাইসগুলো আছে। ধরে নিলাম, Amazon, E-bay, Walmart সর্বোচ্চ ভালোভাবে এসইও করেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে Pixel Phone লিখে সার্চ করলে কে র্যাংক করবে? ই-কমার্স স্টোরগুলো নাকি Google? Macbook লিখে সার্চ করলে কে র্যাংক করবে? ই-কমার্স স্টোরগুলো নাকি Apple?
আপনি অবশ্যই উত্তর পেয়ে গেছেন, Pixel Phone লিখে সার্চ করলে অবশ্যই Google কে পাবেন কিংবা Macbook লিখে সার্চ করলে Apple এর ওয়েবসাইটই আগে পাবেন। এর কারণও পরিস্কার কারণ এগুলো তাদের ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট।
তাহলে, একথা পরিস্কার যে, সার্চ ইঞ্জিনগুলো র্যাংকিং দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যে ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট এই ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইটকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। এখানে কে ভালো এসইও করলো সেটা মূখ্য বিষয় নয়।
MOZ কিভাবে ব্র্যান্ড অথোরিটি ক্যালকুলেট করে ?
ব্র্যান্ড অথোরিটি ক্যালকুলেট করতে MOZ দুটো বিষয়ে দেখে থাকে এক নাম্বার হচ্ছে কিওয়ার্ড ইনটেন্ট অপরটি হচ্ছে কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম। এখন আমরা যদি চিন্তা করি একটি ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অথোরিটি কত হবে তবে আমাদের দেখতে হবে সেই ব্রান্ডটিকে ইউজাররা কোন ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছে। যেমন, যদি ঐ ওয়েবসাইটকে তার ব্র্যান্ডেড কিওয়ার্ড দিয়ে বেশি বেশি সার্চ করা হয় এবং তার ব্র্যান্ডেড কিওয়ার্ডগুলোর সার্চ ভলিউম যদি বেশি হয় তবে সেই ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি Samsung এর বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিংবা বিভিন্ন সার্ভিস কিংবা বিভিন্ন প্রোডাক্টের মডেল নাম্বার দিয়ে সার্চ করে থাকে এর মানে ঐ ব্যক্তি স্যামসাংয়ের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে চাচ্ছেন। এখন এই কিওয়ার্ডগুলোর ইন্টেন্ট যদি হয় Samsung এর ওয়েবসাইট কে খুঁজে পাওয়া এবং সেই কিওয়ার্ড গুলোর সার্চ ভলিউম যদি বেশি হয় তবে অবশ্যই Samsung এর ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন আপনি হয়তো আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ভিজিটর পাচ্ছেন কিন্তু সেই ভিজিটরগুলো যদি আপনার ব্র্যান্ড কিওয়ার্ডগুলো দিয়ে না আসে তবে আপনার ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে না। অর্থাৎ আমরা বুঝতে পারলাম, যে কিওয়ার্ডগুলো দ্বারা ভিজিটররা শুধুমাত্র কিছু ইনফরমেশন জেনে যাচ্ছে কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটকে ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছে না তবে আপনার ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে না।
ডোমেইন অথোরিটির মতো ব্র্যান্ড অথোরিটিও MOZ এক থেকে একশোর মধ্যে ক্যালকুলেট করে থাকে। যে ওয়েবসাইটটিকে ইউজাররা বেশি বেশি ব্র্যান্ড কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে এবং তাদের সার্চ ভলিউম যদি বেশি হয় তবে কেউ ওয়েবসাইটটির অথোরিটি অবশ্যই বাড়বে।
ব্র্যান্ড অথোরিটি কিভাবে চেক করব?
আমরা আগেই বলেছি, MOZ এখনো ব্র্যান্ড অথোরিটিকে বেটা ভার্সনে রেখেছে এবং এটি শুধুমাত্র USA এর পার্সপেক্টিভে তৈরি করা। ব্র্যান্ড অথোরিটি চেক করার জন্য আমাদের MOZ প্রো ইউজ করতে হবে, MOZ ফ্রি ভার্সনে ব্র্যান্ড অথোরিটি চেক করা যাবে না।
ব্র্যান্ড অথোরিটি কিভাবে বাড়ানো যায়?
বলে রাখা ভালো ব্র্যান্ড অথোরিটি একদিনে বাড়ানো সম্ভব নয়। আপনি যত বেশি Digital PR (Digital Public Relations) করবেন ততই আপনার ব্র্যান্ডের কিওয়ার্ডগুলো বাড়বে। যেমন আপনার কোম্পানির নতুন একটি প্রোডাক্ট যখন আসলো তখন সেই প্রোডাক্ট নিয়ে অবশ্যই ইউজার গুগলে সার্চ করবে সেই প্রোডাক্টটি কিন্তু আপনার ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে। যার ফলে আপনার ওয়েবসাইটে ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে।
যারা শুধুমাত্র ব্লগিং করি তারা কিভাবে ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়াতে পারি?
যারা শুধুমাত্র ব্লগিং করে থাকি কিন্তু আমাদের নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নেই তাদের জন্য ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়ানো বেশ কঠিন। সেক্ষেত্রে আমরা অনেকেই মনে করতে পারি, হয়তো বড় বড় কোম্পানির ব্লগের সাথে একজন ফ্রিল্যান্স ব্লগারের ব্লগ হয়তো টিকতে পারবেনা। হ্যাঁ, সেটা কিছুটা সত্যি অবশ্যই।
তবে শুধু ব্লগিং ফোকাস সাইটগুলো কি করবে? তারা যেটা করতে পারে সেটা হচ্ছে ChatGPT এর সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের টুল তৈরি করতে পারে। যেমন বিভিন্ন ধরনের কনভারটার টুল (Converter Tool)। আপনার সাইটে যখন এই ধরনের টুলগুলো থাকবে তখন ইউজাররা আপনার সাইটের নাম প্লাস টুলের নাম লিখে অনেক ক্ষেত্রে সার্চ করতে পারে। আপনি চাইলে আপনার ব্লগে এরকম কিছু টুল এড করতে পারেন, যেগুলো আপনার সাইটের নাম প্লাস টুলেরর নাম সহ ইউজার সার্চ করবে।
যেমন ধরে নিলাম আপনি একটা টুল বানিয়েছেন কিলোমিটার টু মাইল কনভার্টার। এখন ইউজাররা যদি সার্চ করে আপনার সাইটের নাম প্লাস টুলের নাম, এর মানে ইউজাররা আপনার সাইটে এসে আপনার টুলটি ইউজ করতে চাচ্ছে। এতে করে আপনার সাইটের ব্র্যান্ড অথোরিটি বাড়বে।
কিংবা আপনাদের মাথায় যদি এমন কিছু আইডিয়া আসে যার ফলে আপনি আপনার সাইটের নাম ইউজারকে দিয়ে সার্চ করাতে পারবেন তখন কিন্তু আপনার সাইটের ব্র্যান্ড স্কোর বেড়ে যাবে। তাহলে সেটি কিভাবে আরো কার্যকর ভাবে করা যায় সেজন্য আমরা ব্রেনস্ট্রম করতেই পারি।
ব্র্যান্ড অথোরিটি কি কোন র্যাংকিং ফ্যাক্টর?
এক কথায় উত্তর হচ্ছে না। তাহলে ব্র্যান্ড অথোরিটি নিয়ে মাথা ঘামানোর কি আছে? আসলে ranking সাথে ব্র্যান্ডের একটি পরোক্ষ সম্পর্ক আছে। যেমন, আমরা যখন লিঙ্ক বিল্ডিং করি তখন অনেক ধরনের লিংক ব্র্যান্ড কিওয়ার্ডে আমাদের সাইটে আসে। এর মানে ঐ কিওয়ার্ডে আমাদের সাইটের অথোরিটি নির্দেশ করে। আর ব্র্যান্ড কিওয়ার্ডের কথা আগে তো আলোচনা করলামই।
পরিশেষে বলি, আপাতত ব্র্যান্ড স্কোর রাতারাতি কিছু চেঞ্জ করে ফেলবে না, কারণ এটা শুধুমাত্র MOZ এর মেট্রিক। যদিও এর সাথে র্যাংকিং এর পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো অতি দ্রুত Google ব্র্যান্ডকে র্যাংকিং এর ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিবে। সেক্ষেত্রে বলা যায়, নিজস্ব প্রোডাক্ট বা সার্ভিস রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোই বেশি লাভবান হবে। সেক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্স ব্লগারদের সামনে কিছুটা চ্যালেঞ্জ বাড়বে।
ধেয়ে আসছে চতুর্থ শিল্প বিল্পব। হয়তো এর ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করছে এখনই। আসলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কি?
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলো এক কথায় অটোমেশনের বিল্পব। যেখানে ধরা হয় মানুষের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাক্তিগত বেশিরভাগ কাজ অটোমেশনের মাধ্যমে সম্পাদিত হবে।
ধরুন বিকাশের কথাই বলি, ডেইলি প্রায় কয়েক লক্ষ লেনদেন হচ্ছে বিকাশে। এই লক্ষ লক্ষ লেনদেন যেখানে পেমেন্ট, সেন্ডমানি, বিল পে, ডোনেশন ইত্যাদি বিকাশ ইউজাররা করছে। নির্দিস্ট কিছু শপে কাস্টমার ক্যাশব্যাক পাচ্ছে তাছাড়াও পাচ্ছে বিভিন্ন অফার, ইন্টারেস্ট, পয়েন্টস ইত্যাদি। এই সমস্ত কিছুই হচ্ছে অটোমেশনের মাধ্যমে।
যদি বাস্তবিক অর্থে অটোমেশন না হয়ে ম্যানুয়ালি এই সকল লেনদেন সম্পাদিত হতো তাহলে প্রয়োজন পড়তো হাজার হাজার হিসাবরক্ষকের! অর্থাৎ এখানে অটোমেশনের ফলে এই হাজার হাজার হিসাবরক্ষকের কাজ একটি সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। এটাকে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের একটা ছোটখাটো উদাহরণ হিসেবে নিতে পারি।
বিস্তারিত বলতে মানুষের পরিবর্তে অটোমেশনের দ্বারা প্রোডাকশন, মার্কেটিং, সেলস, হিসাব, সাপোর্ট সবই পরিচালিত হবে। এই পরিবর্তনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তাহলে কথা হচ্ছে কি ঘটতে পারে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে? উদ্বেগটা আসলে কোথায়?
পরিবহণ খাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব
একজন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক, তিনি এখন স্বাধীনভাবে সিএনজি চালিয়ে আয় করছেন। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি তিনি কিন্তু এখন আর পুরোপুরি স্বাধীন না! তিনি উবারের মাধ্যমে ট্রিপ দিলে তার আয়ের ২০-৩০ % উবারকে দিয়ে দিতে হবে। যদি কাস্টমাররা সবাই রাইড শেয়ারিং এপে সিএজনি কল করে তাহলে সব টেক্সি চালক, সিএনজি চালক, ট্রাক চালক সবাই কিন্তু পরাধীন। এখানে সবাই স্বাধীনভাবে আয় করছে বললে ভুল হবে অনেকটা তারা রাইড শেয়ারিং কোম্পানির আন্ডারে জব করছে বললে ভুল হবে না।
কৃষিতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব
কৃষিতে বড় বড় মেশিনের সাহায্যে বিস্তীর্ণ জমির ফসল খুব অল্প সময়েই কেটে ফেলা হচ্ছে। আর সেই ফসল প্রক্রিয়াকরণ করতে আরও বেশি মেশিনের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এখন ভেবে দেখেছেন কি একটা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের কতটুকু সামর্থ্য আছে সেই মেশিন কেনার? আসলেই নেই, তাহলে এখন সেই কৃষককে মেশিনগুলো অনেক টাকায় ভাড়া নিতে হবে বা একজন মিল মালিকের কাছে ক্ষেত থেকেই ফসল বিক্রি করে দিতে হবে।
অপরভাবে যদি চিন্তা করি যে দিনমজুর কৃষি ক্ষেতে মজুরি দিতো তারও বা কি হবে? তার জব কি স্বয়ংক্রিয় মেশিন নস্ট করে দিচ্ছে না?
একজন কৃষক কিন্তু এখন অনেকাংশেই বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদির জন্য বড় বড় কোম্পানির নিকটস্থ হয়। একটু লক্ষ্য করেই দেখবেন অনেক বড় বড় কোম্পানিই কিন্তু এখন তাদের এগ্রিকালচার ভেঞ্চার খুলছে। অদূর ভবিষ্যতে যদি এমন হয় যে, কোম্পানিগুলো জমিতে চাষাবাদ করবে আর কৃষকরা দিনমজুর হিসেবে কাজ করে তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যদিও আগেই বলেছি কৃষিতেও শারীরিক শ্রমের ব্যবহার অনেক কমে যাবে। মানে খুব বেশি পরিমাণ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে না।
ক্যাশলেস ট্রান্সেকশন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং
সাধারণত আমরা আমাদের উদ্বৃত্ত ক্যাশ টাকাকে ব্যাংকের কাছে জমা রেখে আসি। সেখান থেকেই ব্যাংক আমানত পায় ও সেই আমানত বিনিয়োগ বা ঋণ দানে কাজে লাগায়। কিন্তু এখন আমাদের কিন্তু ব্যাংকের কাছে আমানত জমা রাখতে হচ্ছে না, অটোমেটিক্যালি আমাদের সব টাকা ব্যাংকের কাছে! যেমন একটা কোম্পানি যা সেল করছে অটোমেটিক্যালি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে তার ব্যাংকে জমা হয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে সকল ইমপ্লোয়ীর সেলারি বা যাবতীয় খরচ ব্যাংকের মাধ্যমেই প্রদান করছে। ইমপ্লোয়ীরা তাদের সেলারি ব্যাংক থেকে উত্তোলন না করেই কার্ড/মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রদান করছে। অর্থাৎ যা ট্রান্সএকশন হচ্ছে সবই ব্যাংকের মাধ্যমে বা MFS (মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে)।
এই ক্যাশলেস লেনদেনের ফলে মুলত কি হবে? ছোট ছোট ব্যাংকগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমসিম খাবে বা অনেক ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ ছোট ব্যাংকগুলোর কিন্তু MFS সার্ভিস নেই। কিংবা ৩৬০ পেমেন্ট সলিউশন দিতে পারছে না। আপনারা একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন বাংলাদেশে নতুন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকগুলো আসলেই লাইফ সাপোর্টে আছে।
একটু কি চিন্তা করছেন যিনি ব্যাংকের ক্যাশিয়ার বা বিশাল বিশাল টাকার বান্ডেল গুনতেন তার কি হবে? যেখানে ক্যাশ টাকাই থাকবে না সেখানে ক্যাশিয়ার দিয়ে কি হবে। যখন ব্যাংকের টোটাল ট্রান্সএকশন অটোমেশনের মাধ্যমে হবে তখন এই টাকার হিসার রাখার জন্য মোটেও এত একাউন্টেন্টের প্রয়োজন হবে না। শুধু ডিসিশন মেকিং এর জন্য বড় পোস্টে কিছু একাউন্টসের জব থাকবে।
কারেন্সির ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি কিন্তু এখনই অনেক ক্ষেত্রে ডমিনেট করছে। বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিও ক্রিপ্টো কারেন্সিতে পেমেন্ট নিচ্ছে। অনেক দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির উপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। অদূর ভবিষ্যতে ক্রিপ্টো ডমিনেট করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
শিক্ষাক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব
গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে পড়াশোনার জন্য ভালো সুযোগ পায় না। গ্রামের শিক্ষার পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সঙ্গতি ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই গ্রামের ছেলে/মেয়েরা পিছিয়ে। এখন কথা হচ্ছে অনলাইন শিক্ষা কি এই দূরত্ব অনেকাংশেই কমাতে সক্ষম নয়?
অনলাইন ক্লাসের ফলে যেকোন যায়গা থেকে যেকোন শিক্ষার্থী ঘড়ে বসেই শিখতে পারে। চাইলে ইউটিউব থেকে বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রফেসরের লেকচারও শুনতে পারে। মোটকথা চতুর্থ শিল্প বিল্পব এখানেও “সবার জন্য শিক্ষা”র একটি বড় নেয়ামত হতে পারে।
এবার আসি মূল পয়েন্টে, একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা না করেও নামমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট নিয়ে নিজেকে গ্রাজুয়েট দাবি করতেই পারেন। কিন্তু আসলেই কি তিনি গ্লোবাল মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন? অবশ্যই না।
তাহলে শিক্ষার ক্ষেত্রেও এমন কিছু পরিবর্তন আসবে যেখানে সবাই IELTS, GRE, GMAT, TOEFL ইত্যাদি গ্লোবালি স্বীকৃত স্কোর নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে যদি এমন হয় কারো বিশ্ববিদ্যালয়য়ের কোন ডিগ্রি নেই, কিন্তু তিনি ইন্টারনেট থেকে ক্লাস করে ভালো স্কোর করেছেন অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এমন যদি হয় IELTS, GRE, GMAT, TOEFL ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করতেও কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার দরকার পড়বে না হয়তো একসময় সেটাও সম্ভব হবে।
ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Udemy, Coursera এর মত প্রতিষ্ঠানগুলো হবে তখন লার্নিয়ের সবচেয়ে বড় সোর্স। এখন তাহলে সমস্যাটা কোথায়? যদি আসলেই শিক্ষায় তাই ঘটে, তবে ১০ অনুপাত ১ যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত আছে তা টিকবে না। একজন শিক্ষক একটা প্রি রেকর্ডেড কোর্সে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে পারবেন। সমস্যা সমাধানের জন্যও শিক্ষার্থীরা অনলাইন কমিউনিটিতে সমাধান পাবেন। মানে শিক্ষকের সংখ্যা অনেকাংশেই কমে যাবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিন্তু চাইলেই একটা মুদির দোকান বা খাবারের হোটেল খুলে বসতেই পারেন। কিন্তু আমরা কি লক্ষ্য করেছি সুপারশপগুলো কিভাবে মধ্যবিত্ত মানুষদেরও তাদের কাস্টমার বানাতে পেয়েছে। একটা সুপার শপ বাল্ক (প্রচুর পরিমাণে) বিক্রি করে ফলে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রোডাক্টে অফার দিতে পারে যেটা ক্ষুদ্র মুদির দোকানদার দিতে পারবেন না। বিকাশ/নগদ/ব্যাংকের সাথে যে পার্টনারশিপ সুপারশপগুলো করছে তা মুদি দোকানদার করতে পারবেন না। আমি কার্ডে/এপে পে করলে যদি ক্যাশব্যাক পাই তবে আমার সুপারশপে যেতে বাধা কোথায়?
তারপর আসি ই-কমার্স, আমরা জানি বাংলাদেশের মোট ক্রয়ের ১৫% হচ্ছে অনলাইন। যা দিন দিন আরো বাড়বে। মানে যে ১৫% ক্রয় মানুষ আগে দোকান থেকে কিনতো তা এখন অনলাইনে কিনছে। ফলে অফলাইনে ব্যবসা শুরু করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবা উচিত।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে হাজার হাজার কালেকশন নিয়ে আসছে কিংবা বিভিন্ন অফার প্রমোট করছে তা কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পারবেন না। ফলে বাধ্য হয়ে ৮% – ২০% পর্যন্ত কমিশন দিয়ে ব্যবসায়ীরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সেলার হচ্ছেন। মানে, সেই আগের কথা এখানেও ব্যবসায়ীরা অনেকাংশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে পরাধীন।
ভাবছেন হয়তো অনলাইনে ফুড বিক্রি করবেন কিন্তু সেখানেও আছে ফুডপান্ডা, পাঠাওয়ের আধিপত্য। আপনার নিজের সেল বাড়াতেই কিন্তু আপনি ২০%-৩০% কমিশন দিয়ে ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন করছেন, এখানেও আপনি পরাধীন।
প্রশ্ন আসতে পারে, এখানে পরাধীন বলতে আমি কি বুঝাচ্ছি? কেনইবা বার বার এই শব্দটা ব্যবহার করছি? কারণ, এখন যদি ই-কমার্স, ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম তাদের কমিশন বাড়িয়ে দেয় কিংবা সেলারদের সার্থবিরোধী কোন সিদ্বান্ত নেয় তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ির হাতে কিন্তু খুব বেশি অপশন নেই।
ট্র্যাডিশনাল জবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব
একজন ট্র্যাডিশনাল সেলসম্যান ডেইলি কয়টা সেল করতে পারবেন? ডেইলি কয়টা ক্লায়েন্ট মিটিং করতে পারবেন? কিন্তু একজন ডিজিটাল মার্কেটার একটা ডিভাইস ও কিছু টুল ইউজ করে মিলিয়ন অডিয়েন্সের কাছে রিচ করতে পারেন। ফলে ট্র্যাডিশনাল জবগুলো আসলেই কমে আসবে। আমি বলছি না ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং কিবা সেলস একেবারেই থাকবে না। কিন্তু এক্ষেত্রেও ডিজিটাল সেলস/মার্কেটিং ডমিনেট করবে।
তেমনিভাবে সকল কায়িকশ্রমের কাজ আধুনিক মেশিনগুলো দ্বারা করা হবে। যে কাজটি ১০০ জন শ্রমিক করতো সে কাজটি একটি মেশিন করবে, সেখানে চাকরি থাকবে শুধু মেশিন অপারেটরের।
অনেকেই বলতে পারেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসলে জব কেড়ে নিবে না। আমিও আংশিকভাবে একমত জব কেড়ে নিবে না, কিন্তু কমিয়ে দিবে ও জব রোল চেঞ্জ করে দিবে। যেমন এখন প্রচুর মানুষ, কোডিং, ডিজাইনিং, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখছে ফলে তাদের জব রোল চেঞ্জ হচ্ছে কিন্তু তারা জবলেস হচ্ছে না। জবলেস তারাই হবে যারা অটোমেশনের সাথে নিজেকে এডপ্ট করতে পারবে না।
আমার এই লিখার উদ্দেশ্য হলো, সামগ্রিকভাবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কি প্রভাব পড়তে পারে সেই সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মিডলম্যান কমিয়ে দিবে। একজন চাকরিজীবীর মত সবাই কোম্পানিগুলোর কাছে পরাধীন থাকবে।
এই লিখাটি শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত মতামতের উপর ভিত্তি করে লিখা। এই লিখার অনেক কথাই আমার স্ব-চিন্তা ও ধারণাপ্রসূত। আমার লিখার সাথে একমত হতে হবে এমন কোন কথা নেই।
আমাদের কাছে প্রায়ই অনেকে প্রশ্ন করেন আপনাদের এড একাউন্ট অথোরাইজড কিনা। সত্যি বলতে আমাদের সবার এড একাউন্টই অথোরাইজড। আমরা সবাই ফেসবুকে বিজনেস ম্যানেজার ক্রিয়েট করে এড একাউন্ট ক্রিয়েট করে থাকি। সো এক্ষেত্রে এই বিজনেস ম্যানেজার বা এড একাউন্ট সম্পূর্ণ বৈধ ও কার্যকর।
তাহলে মানুষ অথরাইজড এড একাউন্ট বলতে কি বুঝে?
HTTPOOL (মাদার কোম্পানি Aleph) তারা ফেসবুকের অথোরাইজড সেলস পার্টনার। তাদের থেকে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে এড একাউন্ট নেয়া যায়। এই এড একাউন্টকেই মানুষ সাধারণত অথোরাইজড এড একাউন্ট বলে থাকে।
HTTPOOL এড একাউন্ট কি ইউজ করা উচিত?
হ্যাঁ, আপনি চাইলে অবশ্যই এই HTTPOOL এড একাউন্ট ইউজ করতে পারেন। তবে এই এড একাউন্ট তাদেরই বেশি প্রয়োজন যাদের নিজস্ব পেমেন্ট মেথড (ডুয়েল কারেন্সি কার্ড) নাই। বিভিন্ন ইকমার্স সাইট যারা ফেসবুকে প্রতি মাসে কোটি টাকা স্পেন্ড করে তারা প্রায় সবাই নিজস্ব এড একাউন্ট ইউজ করে।
HTTPOOL এড একাউন্ট কি ডিজেবল হয় না?
আপনি ফেসবুকের পলিসি ভায়লেশন করলে যেকোন এড একাউন্টই ডিজেবল হবে। হোক সেটা HTTPOOL এড একাউন্ট। তবে HTTPOOL আপনাকে হেল্প করলে ডিজেবল এড একাউন্ট ফিরিয়ে আনতে।
HTTPOOL এড একাউন্ট এর পার্ফমেন্স কি বেশি ভালো হয়?
এই কথার কোন ভিত্তি নেই। আপনার এডের পার্ফমেন্স নির্ভর করে আপনার কন্টেন্ট ও অডিয়েন্স টার্গেটিং এর উপর। HTTPOOL এড একাউন্ট ইউজ করলে পার্ফমেন্স ভালো হবে এমন কোন কথা নেই।
HTTPOOL এড একাউন্ট ছাড়া অন্যদের এড একাউন্ট কি অবৈধ?
একদমই না। সব এড একাউন্টই ফেসবুকের বিজনেস ম্যানেজার ইউজ করে ক্রিয়েট করা ফলে সব এড একাউন্টই বৈধ।
পরিশেষে বলি, এড একাউন্ট আসলে মূল বিষয় না। মূল বিষয় হলো পেমেন্ট মেথড কে কি ইউজ করছে। যেমন আমরা পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড ইউজ করে এড রান করে থাকি। অনেকেই ভার্চুয়াল কার্ড ইউজ করে ফেসবুকের পেমেন্ট ফাকি দেয় বা থ্রেসল্ড ইউজ করে পেমেন্ট ফাকি দেয়। এই ধরণের অবৈধ কাজগুলোই আপনার পেজ বা এড একাউন্টের জন্য ক্ষতিকর।
ডোমাইন ও হোস্টিং বিষয়টা আসলে কি, এটা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। অনেকেই জানতে চান কোন ধরণের ডোমেইন কেনা ভালো হবে। কিংবা হোস্টিং এর ক্ষেত্রে কোন ধরণের হোস্টিং ভালো স্পিড পাবে। তাহলে চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।
ডোমেইন কি?
এক কথায় একটি ওয়েবসাইটের নামই হলো ডোমেইন। “Domain” হল একটি ইন্টারনেট ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপ্লিকেশনের নাম। ডোমেইন নামটি ইংরেজী ওয়েব ঠিকানার ভিত্তিতে একটি আইপি ঠিকানা অনুযায়ী ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপ্লিকেশনকে সম্পর্কিত করে। উদাহরণস্বরূপ, “google.com” facebook.com” “sheba.xyz” ইত্যাদি হলো একেকটি ডোমেইন নাম।
ডোমেইন কিনতে হলে প্রথমে একটি নাম নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ডোমেইন আপনাকে যেকোন প্রোভাইডার থেকে ডোমেইন ক্রয় করতে হবে। আপনি যদি ডোমেইন হোস্টিং কিনতে চান তবে নূন্যতম ২,০০০ টাকা খরচ করতে হবে।
ডোমেইন হতে পারে – (১) টপ লেভেল ডোমেইন (২) সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন (৩) থার্ড লেভেল ডোমেইন।
যেমন www.backenddigital.com এখানে (.com) হচ্ছে টপ লেভেল ডোমেইন, backenddigital হচ্ছে সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন এবং www হচ্ছে থার্ড লেভেল ডোমেইন।
বিভিন্ন ধরণের ডোমেইন এক্সটেনশনের মধ্যে রয়েছে –
.com
.org
.gov
.net
.xyz
.io
.ai
.edu ইত্যাদি।
কিং ডোমেইন
.com কে বলা হয় কিং ডোমেইন। অন্যান্য যেকোন ডোমেইন এক্সটেনশনের চেয়ে এই .com ডোমেইকেই এসইও এক্সপার্টরা বেশি পছন্দ করেন। কারণ একজন ইউজারের কাছে সবচেয়ে পরিচিত এক্সটেনশন হলো .com । ফলে অন্যান্য ডোমেইনের চেয়ে .com ডোমেইনের বেশি ক্লিক পড়ে।
এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন
এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন হচ্ছে সেই ডোমেইনগুলো যেগুলো প্রধান কিওয়ার্ডের সাথে মিলে যায়। যেমন আপনি যদি অনলাইনে হোটেল বুকিং এর সার্ভিস দিয়ে থাকেন এবং আপনার ডোমেইন হয় hotelbooking.com তাহলে এটি হচ্ছে এক্স্যাক্ট ম্যাচ ডোমেইন। এখানে আপনার কিওয়ার্ড ও ডোমেইন একসাথে মিলে গেছে। এক্স্যাক্ট ম্যাচ ডোমেইনে আপনি সার্চ রেজাল্টে সামান্য প্রাধান্য পাবেন শুধুমাত্র এক্স্যাক্ট কিওয়ার্ড (hotel booking) দিয়ে যখন সার্চ করা হয়।
ব্র্যান্ডেড ডোমেইন
২০২৩ সালের এসইও স্ট্র্যাটেজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্র্যান্ডেড ডোমেইন নিয়ে কাজ করা। গুগল এখন ব্র্যান্ডেড ডোমেইনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে র্যাঙ্কিং এর জন্য। যেমন coderstrust.com একটি ব্র্যান্ড নেম ডোমেইন।
কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন
নির্দিষ্ট দেশে সার্চ রেজাল্টে কিছু অগ্রাধিকার পায় কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন। তবে গ্লোবাল টার্গেটে কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন ততটা কার্যকর নয়। কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন এর উদাহরণ হচ্ছে .com.bd (বাংলাদেশ), com.uk (ইংল্যান্ড), com.us (ইউএসএ) ইত্যাদি। যাদের বিজনেস শুধুমাত্র একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ তারা কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন নিয়ে কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশে .com.bd ডোমেইন নিতে চাইলে সেটি অবশ্যই BTCL থেকে কিনতে হবে।
এক্সপায়ার্ড ডোমেইন
যেসব ডোমেইন আগে কেউ কিনেছিল কিন্তু বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে না সেসব ডোমেইনকে এক্সপায়ার্ড ডোমেইন বলা হয়। আপনি যদি ডোমেইন এর হিস্ট্রি চেক করে ডোমেইন নিতে পারেন তবে র্যাংকিং এর ক্ষেত্রে খুবই এগিয়ে থাকবেন। কিন্তু যদি আপনার কেনা এক্সপায়ার্ড ডোমেইনটি আগে গুগলের পেনাল্টি খেয়ে থাকে তবে আপনাকেও সেই পেলান্টি বহন করতে হবে।
হোস্টিং কি?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে হোস্টিং হচ্ছে স্টোরেস বা স্পেস যেখানে আমাদের ওয়েবসাইটের ডাটা স্টোর থাকে। যখন কোণ ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে আসে তখন আপনার ডাটা/ফাইলগুলো আপনার হোস্টিং থেকে লোড নেয়। আপনার হোস্টিং স্পিডের উপর অনেকাংশেই আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড নির্ভর করে। তাই ভালো হোস্টিং সিলেক্ট করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হোস্টিং এর প্রকারভেদ
শেয়ার্ড হোস্টিং
ক্লাউড হোস্টিং
ভিপিএস হোস্টিং
ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং
শেয়ার্ড হোস্টিং
শেয়ার্ড হোস্টিং কথাটা থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই হোস্টিং ভিন্ন ভিন্ন মানুষের মধ্যে শেয়ার করা হয়। যেমন হোস্টিং প্রোভাইডার তার হোস্টিং থেকে বিভিন্ন ছোট ছোট অংশ ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারকারীর মধ্যে বিক্রি করে থাকে। যেমন তার হোস্টিং যদি হয় ১০০ জিবি তাহলে সেখান থেকে সে ২ জিবি/৫ জিবি/১০জিবি করে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারকারীর মধ্যে বিক্রি করতে পারে। এখানে সব ব্যবহারকারীরা একসাথে এই ১০০ জিবি ভাগ ভাগ করে ব্যবহার করছেন।
সবচেয়ে সস্তা ওয়েব হোস্টিং হলো শেয়ার্ড হোস্টিং। যেহেতু একটা হোস্টিং অনেকেই ব্যবহার করে থাকে ফলে কমমূল্যে এই হোস্টিং পাওয়া যায়। সাধারণত ছোট সাইটগুলো এই ধরণের হোস্টিং ব্যবহার করে থাকে।
ক্লাউড হোস্টিং
ক্লাউড কথাটার মানেই হচ্ছে আমাদের সাইটের ডাটা কোন নির্দিষ্ট একটি হার্ডডিস্কে না রেখে একটা ভার্চুয়াল হোস্টিং এ স্টোর করে রাখা। যেমন আমরা একটা ভিডিও আমাদের পিসিতে রাখতে পারি বা গুগল ড্রাইভে রাখতে পারি। গুগল ড্রাইভে যদি রাখি তবে সেটাই ক্লাউডে সেভ করে রাখা। এখানে আমাদের পিসি হচ্ছে লোকাল হোস্ট ও গুগল ড্রাইভ হচ্ছে ক্লাউড হোস্ট।
ক্লাউড হোস্টিং এর ডাটা যেহেতু ক্লাউডে সংরক্ষিত হয়, ফলে নির্দিস্ট একটি ডাটা স্টেশনের সার্ভারের সমস্যা থাকলেও আমাদের সাইটের ডাটা অন্য সার্ভার থেকে ঠিকই লোড নিবে। এই ধরণের হোস্টিং একটি ব্যয়বহুল। সাধারণত মাঝারী ও বড় ওয়েবসাইটগুলো ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করে থাকে।
ভিপিএস হোস্টিং
ভিপিএস হোস্টিং হল একটি ওয়েব হোস্টিং সেবা যা একটি নেটওয়ার্ক অথবা ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে হোস্টিং সার্ভারগুলি প্রদান করে থাকে। ভিপিএস হোস্টিং হল ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার হোস্টিং, যা ব্যবহারকারীদের সাথে একটি হোস্টিং সার্ভার ভাগ করে দেয় এবং প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য স্বতন্ত্র একটি ভার্চুয়াল সার্ভার সৃষ্টি করে।
এই প্রকারের হোস্টিংগুলি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ভিত্তিতে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। যেমন সব ওয়েবসাইটের জন্য একটি স্বতন্ত্র সার্ভার প্রয়োজন নেই। বড় সাইট ও ভিজিটরের পরিমাণ বেশি হলে ভিপিএস হোস্টিং নেয়া ভালো। ভিপিএস হোস্টিং সাধারণত অনেক ফাস্ট হয়ে থাকে এবং ক্লাউডে আপনার ফাইলগুলো সরংক্ষিত থাকে।
ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং
ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং হল ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটকে হোস্ট করার জন্য একটি হোস্টিং সেবা। ওয়ার্ডপ্রেস একটি পরিচিত ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম যা একটি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হয়। কিন্তু এখন ওয়ার্ডপ্রেস প্রায় সব ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এর ইনস্টলেশন খুবই সহজ । এটি নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত যারা ওয়ার্ডপ্রেসে দক্ষ নন। শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেসকে টার্গেট করেই এই হোস্টিং বানানো।
জনপ্রিয় কিছু ডোমেইন হোস্টিং প্রভাইডার
গ্লোবালি –
Namecheap
Hostinger
Bluehost
HostGator ইত্যাদি
বাংলাদেশে-
Exon Host
Hostever
DianaHost
Hosting Bangladesh ইত্যাদি
পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট/ ছোট বিজনেসের জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং কি যথেস্ট?
হ্যাঁ, পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট/ ছোট বিজনেসের জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং নেওয়া যায়। সাধারণত ওয়েবসাইটের স্পিড শুধুমাত্র হোস্টিং এর উপর নির্ভর করে না। ওয়েবসাইটের স্পিড অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমেও সাইটের স্পিড বাড়ানো যায়।
পরিশেষে বলি
সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, ডোমেইন ও হোস্টিং হলো ওয়েবসাইট তৈরি এবং প্রকাশের দুটি প্রধান উপাদান। ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং হোস্টিং হলো ওয়েবসাইটের ফাইল স্টোরেজ স্পেস এবং অনলাইন একটি সার্ভারের মাধ্যমে ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করা।
বিগত কয়েক বছরে ফেসবুক পেজ কেন্দ্রিক অনেক ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে । অপ্রিয় হলেও সত্য যে বেশিরভাগ বুস্ট বা এড রান করা হয় থার্ড পার্টি এজেন্সির মাধ্যমে। কিন্তু আপনি নিজে ফেসবুক এড বুস্ট করেন কিংবা থার্ড পার্টির মাধ্যমে বুস্ট করেন না কেন, বেসিক ফেসবুক মার্কেটিং পলিসি ও ফেসবুকের এলগোরিদম জানা আবশ্যক। নয়তো দেখা যাবে আপনি টাকা খরচ করেছেন কিন্ত ভাল রিচ বা সেলস কোনটাই পাচ্ছেন না। কিংবা রিচ পেলেও সেলস পাচ্ছেন না।
ফেসবুক এড রান করেছেন কিন্তু রিচ পাচ্ছেন না?
রিচ আসছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অর্ডার পাচ্ছেন না?
তাহলে এই পোষ্ট আপনার জন্য।
ফেসবুকে রিচ / অর্ডার না আসার অনেক কারন থাকতে পারে। যেকোনো এড রান করার আগে আপনাকে বেসিক কিছু বিষয় অবশ্যই জানতে হবে। বুস্ট করলেই ধুমধাম অর্ডার আসবে একথা মোটেও ঠিক নয়। আপনার কৌশল ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে যদি ফেসবুকের বিধি-বিধান বা ফেসবুকের এলগোরিদম মেনে এড রান করতে পারেন আশা করি ভাল রেজাল্ট পাবেন।
প্রশ্ন ১ – কি করে সঠিকভাবে টার্গেট অডিয়েন্স সেট করবো?
আপনি অবশ্যই জানেন সব পন্য সবাই কিনবে না বা আপনি নিজেও সবার কাছে আমভাবে মার্কেটিং করবেন না। তাহলে অবশ্যই একশ্রেণীর ক্রেতা আছে যারা আপনার পন্যটি কিনতে চায় বা আপনিও সেই ক্রেতাশ্রেণীকে খুঁজে বের করতে চান। উদাহরণস্বরূপ ধরে নিলাম আপনার প্রোডাক্ট হলো পাঞ্জাবি। এবার আসুন দেখে নেই কিভাবে টার্গেট কাস্টমার সেট করবেন-
Location – কোন এলাকাতে এডস ফেসবুক কাষ্টমার কে দেখাবে। মনে করুন আপনি শুধু ঢাকা সিলেক্ট করলেন তাহলে ফেসবুক শুধু ঢাকার মানুষকেই এডস শো করবে। আপনি সাধারণত যে লোকেশনে যথাসময়ে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দিতে সক্ষম শুধুমাত্র সেই লোকেশনই টার্গেট করা উচিত। লোকাল ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ড্রপ পিন দিয়ে টেনে অবশ্যই লোকেশন সিলেক্ট করতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে ড্রপ পিন দিয়ে কোন এরিয়া এক্সক্লুডও করতে পারেন। (অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন এরিয়ার মধ্যে আপনি যদি এড দেখাতে না চান)
Age – আপনার কাষ্টমার এর বয়স কত অর্থাৎ আপনার পাঞ্জাবিগুলো কোন বয়সের কাস্টমার কিনতে পারে। ধরে নিলাম আপনার পাঞ্জাবিগুলো খুব গর্জিয়াস যা শুধু ইয়াংরাই পছন্দ করবে। তাহলে আপনি বয়স সেট করতে পারেন ১৮-৪৫ বছর।
Gender – পাঞ্জাবি অবশ্যই ছেলেদের পোষাক, তাই এখানে আপনি শুধু Male সিলেক্ট করবেন। অনেকে বলতে পারেন মেয়েরাওতো গিফট দেওয়ার জন্য কিনতে পারে। কিন্ত সেজন্য Male + Female সিলেক্ট করলে বড় ভুল করবেন। কারণ এখানে ছেলেদের কনভার্সন রেট (এড দেখে কিনে ফেলা) অনেক বেশি হবে কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে কনভার্সন রেট কম হবে। ফলে আপনি Female দের টার্গেট করে যে পরিমাণ টাকা খরচ করবেন তা উঠে আসার সম্ভবনা নেই বললেই চলে।
Interest – আপনাকে এখানে বেশ বিচক্ষণ হয়ে খুঁজে বের করতে হবে কারা আপনার পাঞ্জাবি পড়তে পারে? আগেই বলেছি আপনার পাঞ্জাবি ইয়াংদের টার্গেট করে করা। সেক্ষেত্রে আপনি ইন্টারেস্ট দিতে পারেন বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড যারা পাঞ্জাবি বিক্রয় করে যেমন, অঞ্জনস। এছাড়াও আপনি Male ফ্যাশন সম্পর্কিত বিভিন্ন ইন্টারেস্ট সিলেক্ট করতে পারেন ফলে যাদের Male ফ্যাশন সম্পর্কিত ইন্টারেস্ট আছে শুধু তাদের ফিডেই এডস দেখাবে।
Include – আপনার পাঞ্জাবি যেহেতু ছেলেদের পোশাক তাই আপনি Include এ মেনস ড্রেস সিলেক্ট করে দিতে পারেন।
Exclude – যাদেরকে আপনি এডস দেখাতে চান না তাদের Exclude করবেন। যেমন যারা এলরেডি প্রোডাক্ট কিনে ফেলেছে (who purchased products) তাদের Exclude করে দিতে পারেন। অনেকে আবার All Page Admins কে Exclude করে দেয়। যেন অন্য পেজের এডমিন আপনার ফেসবুক এড দেখে রিপোর্ট না করতে পারে।
প্রশ্ন ২- ফেসবুক মার্কেটিং এর সেলস ফানেল কাকে বলে?
ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হলে সেলস ফানেল সম্পর্কে জানার বিকল্প নেই। এই সেলস ফানেলকে বলা হয় AIDA মডেল। যেখানে উপস্থাপন করা হয় কিভাবে একজন অডিয়েন্স কাস্টমারে পরিণত হয়।
AIDA এর পূর্ণরূপ (Awareness, Interest, Desire & Action)
Awarness: প্রথমেই আপনাকে কাস্টমারের এটেনশন বা মনযোগ আকর্ষণ করতে হবে। সুন্দর পোস্ট ও সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে আপনি সহজেই কাস্টমারের মনযোগ আকর্ষণ করতে পারেন। ফলে কাস্টমার আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে অবগত হয়।
Interest: অডিয়েন্সের মনযোগ আকর্ষণ হলে এবার তাকে আপনার ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে ভিজিট করানোর প্রক্রিয়া হলো ইন্টারেস্ট। অডিয়েন্সের ইন্টারেস্ট থাকার ফলে সে আপনার ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইট ভিজিট করবে। এতে করে পণ্য বা সেবা ক্রয়ে তার আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
Desire: এ পর্যায়ে অডিয়েন্স প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কিনতে আগ্রহী হয় কিন্তু কিনবে কিনা পুরোপুরি শিওর হতে পারে না। প্রডাক্টের রিভিউ দেখা বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সে সংগ্রহ করে ও বেস্ট অফারটা সে খুঁজে বের করতে চেস্টা করে। এ পর্যায়ের এড গুলো অডিয়েন্সকে সিদ্ধান্তহীনতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
Action: একশন হলো একজন অডিয়েন্সকে কাস্টমারে পরিনত করার সর্বশেষ স্তর। এক্ষেত্রে ফেসবুকের কল টু একশন বাটনগুলো ব্যবহৃত হয়, যেমন Book Now, Download, Shop, Contract ইত্যাদি। এসব বাটনের ব্যবহার করে একজন অডিয়েন্স অর্ডার সম্পাদন করে ক্রেতাতে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ৩- ফেসবুকে আমার প্রতিযোগী ব্যবসায়ী সম্পর্কে কি করে ধারণা নিতে পারি?
আপনার প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের (Competitor Business) মধ্যে কি গোয়েন্দাগিরি করতে চান? জানতে চান প্রতিযোগীরা-
– পেজে এই মুহূর্তে কোন এডস রান করছে? – কোন ক্যাটাগরির এডস এই মুহূর্তে রান করছে? – এই মুহূর্তে এডস গুলোর রেসপন্স কেমন হচ্ছে? – এই মুহূর্তে কোন প্রোডাক্টগুলোর প্রমোশন চলছে? – এই মুহূর্তে একসাথে কতগুলো এডস রান করছে?
দারুন একটা ব্যাপার, তাই না? এই বিষয়গুলো জানতে ফেসবুকের একটি ইজি টুল ব্যবহার করতে পারেন। Facebook Ads Library
এই লিংকে প্রবেশ করে আপনার প্রতিযোগী পেজের নাম লিখবেন আর পেয়ে যাবেন তাদের ফেসবুক এড বিষয়ক তথ্য। সে অনুযায়ী তাদের এডস থেকে আপনিও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এখন আপনার কোন ধরণের এড রান করা উচিত।
প্রশ্ন ৪- অন্যের কন্টেন্ট কপি করে ফেসবুক এড রান করলে কি ঠিক?
অন্যের কন্টন্ট কপি করে ফেসবুক এড রান করা মোটেও উচিত নয়। আপনি যদি বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর এডের দিকে লক্ষ রাখেন তবে দেখবেন তারা কখনো কপি পেস্ট করে পোস্ট করে না। যদিও ফেসবুক কপিরাইট বিষয়টি গুগল বা ইউটিউবের মত কঠোরভাবে অনুসরণ করে না। ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও কপি করা কপিরাইটের সমস্যা করে, যা টেক্সটের ক্ষেত্রে করে না। কিন্ত কপি পেস্ট কন্টেন্ট দিয়ে এড রান করলে বেশ কিছু অসুবিধা হতে পারে-
– অডিয়েন্স যদি অরিজিনাল কন্টেন্ট খুঁজে পায় তবে আপনাকে ফেক মনে করবে ফলে আপনার ব্যবসায়ের গ্রহনযোগ্যতা হারাবে।
– আপনি যার কন্টেন্ট কপি করছেন সে আপনার এডে বা পেজে রিপোর্ট করে দিতে পারে।
প্রশ্ন ৫- কোন সময়ে ফেসবুক এড রান করা উচিত?
সেই সময়ে ফেসবুক এড রান করুন যখন ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে বেশি এক্টিভ। ফেসবুকে এড রান করার সময় মাথায় রাখতে হবে আপনার ক্লায়েন্ট কি ভোক্তারা নাকি ব্যবসায়ীরা।
যদি আপনার ক্লায়েন্ট আম জনতা বা ভোক্তারা হয় তবে এড রান করতে পারেন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত। ছুটির দিনে এড রান করেও ভাল ফলাফল পাবেন। কারণ এইসময়ে ভোক্তারা ফেসবুকে বেশি এক্টিভ।
যদি আপনার ক্লায়েন্ট ব্যবসায়ীরা হয় মানে আপনি B2B ব্যবয়ায় করেন তবে এড রান করা উচিত সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টার মধ্যে, কারন এটা অফিস টাইম। আর B2B ব্যবসায়ের এড বন্ধের দিন রান করাই উচিত।
এড ছাড়াও ফেসবুকে নরমাল পোস্ট গুলো যদি এই টাইমে করতে পারেন তবে রিচ ভালো পাবেন।
প্রশ্ন ৬- কোন ধরণের পোস্টকে বুস্ট করা উচিত?
অবশ্যই সেই পোস্টগুলো বুস্ট করা উচিত যে পোস্টের অরগানিক রিচ বেশি, অর্থাৎ অর্থ ব্যয় না করেই যে রিচ পাওয়া যায় তাকে অরগানিক রিচ বলে। এর মানে আপনাকে আগে পোস্ট করে দেখতে হবে পোস্টের রিচ কেমন হচ্ছে। যদি পোস্টের রিচ ভাল হয় তবে সে পোস্টটিকে বুস্ট করতে পারেন। এর কারণ হচ্ছে ফেসবুক চায় এর ইউজাররা তাদের পছন্দসই পোস্টগুলো বেশি বেশি যেন পায়। সুতরাং যে পোস্ট ইউজাররা লাইক করে সে পোস্টের রিচ ফেসবুকই বেশি করে দেয়।
প্রশ্ন ৭- ফেসবুকের Text overlay নিয়মটি কি এবং ইমেজে ২০% টেক্সট রুলস মানা কি আবশ্যক?
ফেসবুকের Text Overlay রুলসটি হলো আপনি যখন কোন পোস্ট বুস্ট করবেন তখন সেই পোস্টের ইমেজে ২০% এর বেশি টেক্সট বা লিখা থাকা যাবে না। সম্প্রতি ২০২০ সালে, ইমেজে ২০% টেক্সট রাখার রুলসটি ফেসবুক বাতিল করেছে। ফলে এখন যেকোন টেক্সটের ইমেজ দিয়েই এড রান করা যাবে। তবে পোস্টের সৌন্দর্য ও গ্রাহক আকৃষ্ট করতে টেক্সটে ২০% এর বেশি ইমেজ না দেওয়াই ভালো।
অনেকেই এক্ষেত্রে যুক্তি দেখান যে, ইমেজে বেশি টেক্সট থাকলে বেশি ইনফরমেশন দেয়া যায়। আসলে আপনার ইনফরমেশন দিতে হবে পোস্টের টেক্সটে কিন্তু ইমেজের টেক্সটে নয়।
প্রশ্ন ৮- ফেসবুকের পলিসি অনুযায়ী কোন ধরনের ফেসবুক এড রান করা উচিত নয়?
ফেসবুকের পলিসিতে বেশ কিছু বিষয়ের উপর নিষেধজ্ঞা আছে সেগুলো হলো- এলকোহল (মদ), জুয়াখেলা, লটারি, বিটকয়েন বা ক্রিপটোকারেন্সি, পর্ণগ্রাফি বা এডাল্ট কন্টেন্ট, সাবস্কিপশন পলিসি (মাসিক বা বাৎসরিক), মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (যেমন ডেশটিনি), অস্ত্র, অবৈধ প্রোডাক্ট বা সেসব বিষয় ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এর বিপক্ষে যায় ইত্যাদি।
প্রশ্ন ৯- বুস্ট ছাড়াও কোন ধরণের পোস্ট নিয়মিত করা উচিত?
আপনি যদি সবসময় একই ধরণের পোস্ট করেন তবে রিচ পাবেন না। বিভিন্ন সময়ে ভিন্নধর্মী পোস্ট করুন ও পোস্টে বৈচিত্রতা আনুন। আপনার পোস্টগুলো এমন হওয়া উচিত যেন অডিয়েন্স আলোচনার সুযোগ পায়। মনে রাখবেন পোস্টে যত বেশি অডিয়েন্সের ইনভলবমেন্ট থাকবে তত বেশি রিচ হবে ও পেজের অরগানিক লাইক বাড়বে।
প্রশ্ন ১০- ফেসবুকের পিক্সেল বলতে কি বুঝায় ?
ফেসবুকের পিক্সেল হলো একটা কোড যেটি আপনার ওয়েবসাইটে বসালে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিটরদের সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিবে। মনে রাখবেন এই তথ্যগুলোতে কোন অডিয়েন্সের নাম থাকবে না। তবে অডিয়েন্সের বিহেভিওর বা আচরণগত বেশ কিছু তথ্য পাবেন। আর এই তথ্যগুলো আপনি ব্যবহার করবেন অডিয়েন্সকে রি টার্গেট বা পুনরায় টার্গেট করার জন্য। রি টার্গেটের জন্য প্রথমত আপনাকে পিক্সেল ডাটা থেকে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। এর ফলে আপনি একই রকম বা সিমিলার অডিয়েন্স (লুকএলাইক) তৈরি করে ফেসবুক এড রান করলে সেই এডটি বেশ কার্যকর হয়।
ফেসবুক এড ও মার্কেটিং এর আদ্যোপান্ত একটি আর্টিকেলে লিখা অসম্ভব। আমরা চেস্টা করেছি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ১০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে। সেজন্য আপনি আমাদের অন্য পোস্ট ফেসবুকের এলগোরিদম ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং পোস্ট দুটি পড়ে আসতে পারেন ভালো ধারণা পাবেন। আর অবশ্যই যেকোন প্রশ্ন না মন্তব্য আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখুন।
এসইও প্রকারভেদ বলতে আমরা আলোচনা করবো, সাধারণত নৈকিকতার ভিত্তিতে এসইও প্রকারভেদ। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে হলে সার্চ ইঞ্জিনের বিধিবিধান বা নিয়ম কানুন জানা প্রয়জোন। কারন একটি সার্চ ইঞ্জিন তাদের সার্চ রেজাল্টে আপনার ওয়েবসাইটকে স্থান দিবে কিনা তা অনেকাংশেই নির্ভর করে সেই সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম কানুন বা এলগোরিদম মেনে চলার উপর। আজকে আমরা আলোচনা করবো বিধিবিধান অনুযায়ী সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের বা এসইও প্রকারভেদ।
হোয়াইট হ্যাট এসইও হচ্ছে নৈতিক, ভাল ও সুন্দর এসইও। আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন এর আইন কানুন মেনে আপনার ওয়েবসাইটকে এসইও করেন তবে তাই হবে হোয়াইট হ্যাট এসইও।
Google Search Console (Webmaster Tool) এ বেশ কিছু গাইডলাইন উল্লেখ্য করা আছে। এর মধ্যে কিছু গাইডলাইন হচ্ছে Best Practice যা পালন করলে আপনি সার্চ রেজাল্টে ভালো ফলাফল পাবেন অর্থাৎ আপনার সাইটের ভালো এসইও হবে। অর্থাৎ কেউ যদি এই গাইডলাইন মেনে তার ওয়েবসাইটের এসইও করে থাকে তবে তা হোয়াইট হ্যাট এসইও বলে গণ্য হবে।
হোয়াইট হ্যাট এসইও করলে আপনি দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে র্যাংক পাবেন না, কিন্তু যখন আপনি র্যাংক পাবেন তখন তা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
ভিজিটরের চাহিদা অনুযায়ী হোয়াইট হ্যাট এসইও করা হয়ে থাকে। কারন গুগল যেই ওয়েবসাইটকেই বেশি পছন্দ করে যেটি যত বেশি User Friendly.
যারা পার্মানেন্ট ব্যবসা করেন তাদের অবশ্যই হোয়াইট হ্যাট এসইও করা উচিত।
হোয়াইট হ্যাট এসইও এর কোন শর্টকাট নেই, অন্তত ৩ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
ইউনিক কন্টেন্ট ও ওয়েবসাইটের সকল তথ্যের রেফারেন্স দেওয়া থাকে সেটা ইন্টারনাল লিংক বা এক্সটারনাল লিংক ব্যবহার করে।
কাস্টমার বা অডিয়েন্স সেচ্ছায় ক্লিক করে বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে।
হোয়াইট হ্যাট এসইও এর কন্টেন্ট ও ইমেজগুলো থাকে ইউনিক। হোয়াইট হ্যাট এসইও করতে চাইলে কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ধারণা থাকলে খুবই ভাল। অপরদিকে ভিডিও বা ইউটিউব এসইও করতে চাইলে ইউটিউব বা ভিডিও মার্কেটিং এর ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ব্ল্যাক হ্যাট এসইও
সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন না মেনে দ্রুত র্যাংক পাওয়ার জন্য যে কৌশলের অবলম্বন করা হয় তাই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও।
ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে দ্রুত র্যাংক করানো যায়।
ওয়েবসাইটের ভিজিটর দ্রুত বৃদ্ধি করা যায় ব্ল্যাক হ্যাট এসইও ব্যবহার করে।
বিভিন্ন ডুপ্লিকেট বা কপি করা কন্টেন্ট আর্টিকেল রি-রাইটার বা বিভিন্ন সফটওয়ারের মাধ্যমে নতুন করে লিখা হয়।
হিডেন লিংক ব্যবহার করা হয় ক্লিক পাওয়ার জন্য।
বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটে URL Redirect বা হিডেন লিংকের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়।
অপ্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দ্বারা ওয়েবসাইটকে র্যাংক করানো হয়।
পুরা আর্টিকেলে কি ওয়ার্ড স্টাফিং করা থাকে। অর্থাৎ বেশি বেশি কি ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয় র্যাংক পাওয়ার জন্য।
ইমেজ এর এল্টার টেক্সটে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভিন্ন কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়।
এংকর টেক্সটে অডিয়েন্সকে অপ্রাসঙ্গিক ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়।
মিথ্যা বা ভুল হেডলাইন দিয়ে অডিয়েন্সকে অয়েবসাইটে নিয়ে আসা হয়, হেড লাইনের সাথে আর্টিকেলের কোন মিল থাকে না।
বিভিন্ন ব্যাকলিংক তৈরির পদ্ধতিগুলো অডিয়েন্সকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা হয়, যেমন মিচ্যুয়াল কন্টেক্সচুয়াল লিংক উভয়ে একমত হয়ে স্প্যামিং করলো।
টাকার বিনিয়মে বা নিজেরা ফেক রিভিউ দেয়া।
কম্পিটিটরদের নেগেটিভ এসইও করা বিভিন্ন লিংক বিল্ডিং এর মাধ্যমে।
ব্ল্যাক হ্যাট এসইও সার্চ ইঞ্জিনের আইন বিরুদ্ধ তাই যেকোনো সময় সার্চ ইঞ্জিন ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করা ওয়েবসাইটকে ব্লক করে দিতে পারে। ফলে ওয়েবসাইটটি আর সার্চ রেজাল্টে প্রকাশিত হবে না।
যার সল্প সময়ের জন্য কোন ব্যবসা করবে বা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন ব্যবসা করবে তারা সাধারণত ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করে থাকে। যেমন কোন একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসা করবে ও বিশ্বকাপ শেষে ব্যবসা বন্ধ করে দিবে তারা ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করতে পারে।
গ্রে হ্যাট এসইও
সার্চ ইঞ্জিনের কিছু গাইডলাইন ফাঁকি দিয়ে, বা ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে যদি সে অনুযায়ী এসইও করা হয় তবে তা হবে গ্রে-হ্যাট এসইও। যেমন গুগল প্রায়ই এর এলগোরিদম চেঞ্জ করে, এসব চেঞ্জের সাথে পরিচিত হয়ে প্রতিটি এলগোরিদম থেকে গ্যাপ করে এসইও করাই হচ্ছে গ্রে-হ্যাট এসইওর কাজ। সহজ বা ইজি দুটি গ্রে হ্যাট এসইও হচ্ছে এক্সপায়ার্ড ডোমেইন কিনে প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ারকিং করা ও নিজেরা ওয়েব ২.০ ওয়েবসাইট তৈরি করা। খুব এক্সপার্ট না হলে কখনোই গ্রে হ্যাট এসইও করতে যাওয়া উচিত হবে না। কারন গুগুল যদি পেনাল্টি দিয়ে ওয়েবসাইটকে ব্লক করে দেয় তাহলে ওয়েবসাইটের মালিক কোম্পানি বিশাল লসের সম্মুখীন হবে।
পরিশেষে বলি
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি বিশাল অধ্যায়। এই আর্টিকেলে আমরা শুধু এসইও এর ধরনগুলো আলোচনা করলাম। আমাদের সাইটে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতিটা অধ্যায়ের উপর পর্যাপ্ত আর্টিকেল পাবেন, ইনশা’আল্লাহ। আপনার যেকোনো প্রশ্ন থাকলে বা মন্তব্য থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখুন।